পঞ্চমীর দিন গায়ে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিউ ব্যারাকপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বছর তেইশের গৃহবধু সঙ্গীতা রায়। শুক্রবার মারা গেলেন তিনি। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পণের জন্য তাঁকে চাপ দিতেন। শ্বশুরবাড়ির চাহিদা অনুযায়ী পণ দিতে না পারায় সঙ্গীতার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গীতার বাড়ির লোকেদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামী বহ্নিদীপ সূত্রধরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিন আগে বর্ধমানের সঙ্গীতার সঙ্গে নিউব্যরাকপুর বাসিন্দা বহ্নিদীপ সূত্রধরের বিয়ে হয়। বহ্নিদীপ ব্যঙ্ক কর্মী। সঙ্গীতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, বিয়েতে দুই লক্ষ টাকা ও ১০ ভরি সোনা নিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তার পরেও বেশ কয়েক বার সঙ্গীতার উপরে চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, গায়ের রং কালো বলেও বারবার লাঞ্ছনার শিকার হতে হত সঙ্গীতাকে। এ বার পুজোয় শ্বশুর বাড়ি থেকে ফের দুই লক্ষ টাকা ও এসি চেয়ে পাঠানো হয়। ঘর সাজানোর জন্য সোফাও চাওয়া হয়।

সঙ্গীতার পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয় বারবার নিত্য নতুন কায়দা বের করে টাকা চাইত সঙ্গীতার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। না দিতে পারলেই চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হত তার উপরে। পঞ্চমীর দিন শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর দেওয়া হয়, সঙ্গীতা গায়ে আগুন দিয়েছেন। সঙ্গীতার পরিবারের অভিযোগ,  শ্বশুরবাড়ি ও জামাই সঙ্গীতার শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।