• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গণপুরে হার, ত্রুটি খুঁজবেন অনুব্রত

Anubrata Mandal
ঘোষণা: সাংবাদিক বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরে। নিজস্ব চিত্র

পঞ্চায়েতে জেলার প্রায় পুরোটাই দখলে তৃণমূলের। কিন্তু দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে শাসক দলের নেতৃত্বের। শুক্রবার তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্যেও তা স্পষ্ট হল। এ জন্য দলের কারও কাজকর্মে ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানালেন তিনি।

গণপুর ও মল্লারপুরের গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়েছে শাসকদলের। দু’টি জায়গায় পরাজয়ে কোথাও ত্রুটি রয়েছে বলেও এ দিন মেনেছেন অনুব্রত। এ নিয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী তথা রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দোপাধ্যায় ও বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন তিনি। কার দোষ, কী জন্য এমন ফল হল, ব্লক সভাপতি ঠিক মতো কাজ করতে পেরেছেন কিনা— তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হার নিয়ে চিন্তিত নন অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘‘রাস্তা অনেকটা, সুন্দর রাস্তা, ঝরঝরে রাস্তা, উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে। দু’দিন পর দেখতে পাবেন ১৬৭টি পঞ্চায়েতই আমাদের হবে, যা বলেছি তাই হবে। একটা তালে তিনটে আঁটি থাকে, দুটো আঁটি শুকিয়ে একটা মাত্র থেকে গেছে। রাস্তায় কেঁদে বেড়াচ্ছে। তাদের আর মাড়ি (শাস) নেই। খুব দুর্দিন।’’ অনুব্রতের মন্তব্য, ‘‘এখন বাড়ি থেকে বেরলেই উন্নয়ন দেখা যায়, উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। তা-ও কয়েকটা আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুধকুমারের আসন যদি দখল করতাম, আপনারা বলতেন, গণতন্ত্রের নির্বাচন হয়নি। ময়ূরেশ্বর বিজেপি এলাকা, এক-দু’জন না জিতলে আপনারা বলতেন গণতন্ত্রকে হত্যা করেছি। ময়ূরেশ্বরের সব অঞ্চলে তাই একটা দুটো করে বিজেপি পেয়েছে, কোথাও গণতন্ত্রের হত্যা হয়নি।’’

অন্য দিকে, পঞ্চায়েতের পর লোকসভায় নজর পড়েছে অনুব্রতের।

এ দিন তিনি জানান, পঞ্চায়েত ভোটের মতো রাস্তায় না দাঁড়িয়ে তখন বাড়ি বাড়ি ঘুরবে উন্নয়ন। হাতে থাকবে লাল গোলাপ, উন্নয়নের লিফলেট। শুক্রবার বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল জেলা সভাপতির মন্তব্য, ‘‘গোলাপটা কিন্তু লাল হবে, অন্য কিছু নয়।’’ ‘উন্নয়নের’ মতোই ‘লাল গোলাপের’ প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিরোধী শিবিরে। তবে অনুব্রত শুধু বলেছেন, ‘‘দেখতে ভাল লাগবে লাল গোলাপ, সবার মধ্যে আলাদা সেই জন্যই লাল গোলাপের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।’’ তিনি জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচন করেছেন দলের ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজেই ময়দানে নামবেন। ওই নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীকে বোলপুরে আড়াই থেকে ৩ লক্ষ ভোটে এবং সিউড়িতে কমপক্ষে এক লক্ষ ৬০ হাজার ভোটে পরাজিত করার চ্যালেঞ্জও এ দিন ছুঁড়েছেন কেষ্ট (অনুব্রত)। শুক্রবার জেলা কমিটির বৈঠকে জেলা পরিষদে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের জানানো হয়, জেলা পরিষদ ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই শেষ কথা। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি ঠিক করবে জেলা। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতি জেলা থেকে ঠিক করা হবে। দলের পাশে থাকার জন্য আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আদিবাসী জনজাতির কথা উল্লেখ করেন। জেলা সভাপতি জানান, সেখানকার বিধায়ক, ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা ভাল কাজ করেছে। সে জন্যই এই ফল। তিনি বলেন, ‘‘বীরভূমে সব জায়গায় কাজ হয়েছে, কাজের জায়গা নেই। এ বার আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোটে কাজ হবে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন