• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বেসরকারি হাসপাতালে বেহিসেবি খরচে রাশ টানতে রাজ্য বৈঠকে বসবে

mamata

বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার বিপুল খরচ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষের পরে এ বারে নড়েচড়ে বসল ক্রেতা সুরক্ষা দফতরও। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তদন্তের নির্দেশের বিষয়টি বুধবারই সামনে এসেছিল। বৃহস্পতিবার ক্রেতা সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ২২ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কর্ণধারদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার মাত্রাতিরিক্ত খরচ যে রাজ্য বরদাস্ত করবে না, প্রশাসনের এই সক্রিয়তা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী এ দিন জানান, তাঁর দফতরে বেসরকারি হাসপাতালের খরচ ও পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। কখনও অভিযোগ, রোগীকে জোর করে আইসিইউ-তে ভর্তি রাখা হয়েছে। আবার কখনও রোগীকে অকারণে ভেন্টিলেশনে রাখা কিংবা জোর করে নানান পরীক্ষা এমনকী অপ্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করার অভিযোগও ওঠে। সেই অভিযোগগুলি নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের সিইও-দের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মন্ত্রী। প্রথমে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তার পরে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। সাধনবাবুর কথায়, ‘‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেবামূলক কাজের কথা ভুলে গিয়ে শুধু ব্যবসা করবে, সেটা বরদাস্ত করা হবে না।’’ বিধানসভায় জমা পড়া বেশ কয়েক জন বিধায়কের চিকিৎসার বিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়াতেই সম্প্রতি বিষয়টি সামনে আসে। বিধায়কদের হাসপাতালের বিল মেটায় সরকার। গত সোমবার বিধানসভায় এসে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সব বিলে পরীক্ষানিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার বাবদ খরচের বহর দেখে চোখ কপালে ওঠে তাঁদের।

আরও পড়ুন:

মুখ্যমন্ত্রীর রোষে সাসপেন্ড ৬ বছর, কী আছে কপালে? জানতে চান সেই ডাক্তার

 

সাধনবাবু জানান, বেসরকারি হাসপাতালের বিলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছে। এই অনিয়মের তদন্ত করবে সরকার। ইতিমধ্যেই চার চিকিৎসকের এক কমিটি গড়া  হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী হাসপাতালগুলির কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। বিধানসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ওই কমিটি কয়েকটি হাসপাতালকে ডেকে কৈফিয়ত তলব করেছে। ওই হাসপাতালগুলিকে ফের দ্বিতীয় দফায় ডাকা হবে। তার পরে কমিটির সদস্যরা স্পিকারের কাছে রিপোর্ট দেবেন। স্পিকার এ দিন জানান, মুখ্যমন্ত্রী যে হেতু বিষয়টিতে কড়া পদক্ষেপ করছেন, তাই এ বার কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিইও রূপালি বসু বুধবার বলেছিলেন, ‘‘বেসরকারি হাসপাতাল সমাজসেবা করতে আসেনি। ব্যবসা করতে এসেছে। তাই তারা লাভের কথা ভাববেই।’’ ওই মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এ দিন অবশ্য বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বিল নিয়ে সরকারের সক্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়েছে। একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘‘কিছু হাসপাতালের জন্য সবার ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। কোন পরিষেবার জন্য হাসপাতাল কত টাকা নিচ্ছে, রোগীকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া দরকার।’’ তাঁর কথায়, বেসরকারি হাসপাতাল দামি পরিষেবা দেয়। তাই খরচও বেশি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন