রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হলেন দিলীপ ঘোষ। সরিয়ে দেওয়া হল রাহুল সিংহকে। টানা তিনটি মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি হয়েছিলেন রাহুল সিংহ। তবে রাজ্য বিজেপিতে রাহুল-বিরোধী স্বর ক্রমশ চড়া হচ্ছিল। আরএসএসের অন্দরের লোক দিলীপ ঘোষকে রাহুল সিংহের উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়ার পিছনে সঙ্ঘের প্রভাব রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।

বিজেপির ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক ভাবে সভাপতি বদলের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ওয়েবসাইটেই নতুন সভাপতির নামও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধার্থনাথ সিংহের পরিবর্তে বাংলার সংগঠন সামলানোর দায়িত্ব কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাতে যাওয়ার পরই মোটামুটি নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল রাহুল সিংহের ভবিষ্যত। রাহুলকে সরানো হচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের আনাচে কানাচে। রাজ্যে শাসক তৃণমূলকে টক্কর দিতে এবং উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে তুলে ধরতে হলে সংগঠনের মুখ বদলাতে হবে বলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বিজয়বর্গীয়কে জানিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির অনেক প্রবীণ নেতাই। দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্য বিজেপির মাথায় বসে থেকেও সংগঠন সে ভাবে বাড়াতে পারেননি রাহুলবাবু। তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ভঙ্গিতে দল চালানোর অভিযোগও উঠেছে বহু বার। কখনও শমীক ভট্টাচার্য, কখনও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আবার কখনও বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে রাহুলের বিরোধের কথা সামনে এসেছে। এত অভিযোগ সত্ত্বেও রাহুল সিংহকে কেন রাজ্য সভাপতির পদ থেকে এত দিন সরানো হচ্ছিল না তা নিয়ে রহস্য রয়েই গিয়েছে। তবে শেষমেষ রাহুলের অপসারণ ঘোষিত হওয়ায় স্বস্তিতে রাজ্য বিজেপির একাংশ।