টাকা আদায়-সহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরে গা-ঢাকা দিয়ে নানান মন্তব্য করছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষ। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, ভারতী মেঘের আড়ালে থেকে বক্তব্য পেশ করছেন।

সোমবার ভারতীর স্বামী এমএভি রাজুর জামিন সংক্রান্ত মামলায় এই মন্তব্য করেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ওই প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের উচিত নিজেকে আড়ালে না-রেখে সামনে এসে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়া। কারণ, প্রতারণা এবং আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় তিনিই প্রধান অভিযুক্ত।

এ দিন ভারতীর স্বামীর জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাশ্বতগোপাল মুখোপাধ্যায় জানান, আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে সিআইডি নগদ আড়াই কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই টাকা পুরনো নোটে নয়, নতুন নোটে। রাজু ওই ফ্ল্যাটের চাবি নিজে চেয়ে নিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই টাকা তিনিই রেখেছিলেন। পিপি আরও অভিযোগ করেন, আদালত তাঁর আগাম জামিনের শর্ত শিথিল করার পরে রাজু বেঙ্গালুরুতে ছেলের কাছে না-গিয়ে ইনদওর যান এবং সেখানে গিয়ে সাক্ষীদের প্রভাবিত করেন।

বিচারপতি বাগচী এবং তাঁর বেঞ্চের অন্য বিচারপতি রবিকিষণ কপূর রাজুর আইনজীবী দেবাশিস রায়ের কাছে জানতে চান, ওই টাকার হিসেব আয়কর দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে কি না। দেবাশিসবাবু জানান, হিসেব দেখানো হয়েছে। তার পরেই ভারতীর লেখা একটি চিঠি আদালতে পেশ করে রাজুর আইনজীবী জানান, এই চিঠিই এত ঘটনার উৎস। সেই চিঠি পড়েই বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, ভারতী মেঘের আড়াল থেকে বক্তব্য পেশ করছেন। বিচারপতি জানিয়ে দেন, তদন্তকারীদের আরও কিছু সময় দেওয়া উচিত। মামলাটি এক মাসের জন্য মুলতুবি রাখা হচ্ছে।