কলকাতা ও বিধাননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে হাতে পেতে সিবিআইয়ের তৎপরতা যখন বাড়ছে, তখন সেই প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরাও। রাজীবের হদিস না মেলা ও তখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি-যাত্রাকে এক বন্ধনীতে এনে শাসক দলকে নিশানা করছে বিরোধীরা। পাল্টা সরব তৃণমূলও।

বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় মঙ্গলবার কলকাতায় বলেন, ‘‘রাজীব কুমারকে জেরা করলে যা তথ্য বেরোবে, তাতে রাজ্য সরকারের অর্ধেক মন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে! মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদের এত বার নানা বৈঠকে দিল্লিতে ডাকা হয়েছে, কেউ যাননি। এখন মুখ্যমন্ত্রী যাচ্ছেন বলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজীবকে বাঁচাতে দিল্লি যাচ্ছেন?’’

তৃণমূল পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, কার কখন কাঠগড়ায় ডাক পড়তে পারে, তা বিজেপি নেতা বিজয়বর্গীয় কী ভাবে আগাম জানলেন! রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য, ‘‘মধ্যপ্রদেশ থেকে বাংলায় এসে এক জন বড় বড় কথা বলবেন, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। চম্বলের ডাকাত!’’

বাম ও কংগ্রেস নেতাদের প্রশ্ন, ‘কোমরে দড়ি’ থেকে বাঁচতেই কি মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন,  ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে প্রতি-উপহার হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী কি এটাই চান যে, রাজীব কুমারের পিছন থেকে সিবিআই সরে যাক?’’ বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘রাজীব কুমার দক্ষ এক জন আইপিএস অফিসার হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। বলতে খারাপ লাগছে, অপরাধীদের যাঁর খুঁজে আনার কথা, তাঁকেই এখন অপরাধীদের মতো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে!’’ সিবিআইকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজি জানিয়েছেন, ছুটি নিয়েছেন তবে রাজীব কোথায়, তাঁদের জানা নেই। ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কর্তব্যরত অফিসারদের জন্য যা বিধি আছে, তাতে কী ভাবে এটা প্রশাসন মানছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।