তেমাথার মোড় থেকে একটু এগিয়ে গেলেই ভোটের বুথ। বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু সে লাইন মোটেই এগোচ্ছে না।

ব্যাপার কী?

উত্তর মিলল বুথের ভিতরে ঢুকে। প্রিসাইডিং অফিসার অন্য দিকে তাকিয়ে বসে আছেন। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে রেখেছে এক জন। তার মুখ সাদা কাপড়ে ঢাকা। আরও কয়েক জন বুথ দখল করে ব্যস্ত ছাপ্পায়। এ বারে দল ভারী করতে আরও কয়েক জন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ল বুথে। মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল ভোটারদের ভিড়।   

 সোমবার সন্ধ্যায় উল্টোরথ উপলক্ষে এমন অকালভোট দেখল মুর্শিদাবাদের আণ্ডিরণ। ভোট শেষে জুটল তুমুল হাততালি, পেট ভরে পাঁপড় আর জিলিপি। বেলডাঙার আণ্ডিরণে প্রতি বছর উল্টোরথ উপলক্ষে সঙের আয়োজন করা হয়। এ বারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এ বারের সঙ হয়ে উঠল প্রতিবাদের হাতিয়ার। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে আন্ডিরণের তিনটি বুথে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। আর এই সঙ তারই প্রতিবাদ।

সঙ সেজে প্রশংসা কুড়িয়েছে গ্রামের কচিকাঁচারা। তাদের কথায়, ‘‘ভোটের দিন তো আমাদের পাড়ার কেউই ভোট দিতে পারেনি। বাবা-কাকাদের মুখেই শুনেছিলাম, বুথে কী হয়েছে। সেটাই আমরা করে দেখানোর চেষ্টা করেছি।’’ আয়োজকদের তরফে মনোজিৎ সাহা, নেপাল মণ্ডলদের অভিযোগ, ‘‘আমাদের গ্রামে তিনটে বুথ। ভোটই হয়নি। অমন ভয় দেখালে ভোট দেওয়া যায়!’’ তিন গ্রামের সেই ক্ষোভই সঙ হয়ে উঠে এল এ দিন।

গ্রামের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন পারুলতা সাহা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিরোধী এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে ভোটই হয়নি বুথে।’’ সুর মেলাচ্ছেন বেলডাঙা ১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি ইসরাইল শেখও। যা শুনে অবশ্য বেগুনবাড়ি অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি লুৎফর রহমান হাসছেন, ‘‘এজেন্টই দিতে পারল না! এখন সঙ সাজছে!’’