বিলম্বিত হলেও উত্তাপহীন হচ্ছে না  রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বুধবার অধিবেশন নিয়ে সর্বদল বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দিল বিরোধী বাম ও কংগ্রেস। এদিন রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনার দিন স্থির হলেও পরবর্তী কার্যসূচি নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়ে গিয়েছে সরকার ও বিরোধীপক্ষের।

এদিন বিধানসভায় সর্বদল বৈঠকে বাম ও কংগ্রেসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, পরিষদীয় বিধি মেনে সূচি ঠিক করা না হলে তারা সংঘাতের পথ নেবেন। নিজেদের এই অবস্থান জানিয়ে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘রাজ্যপালের ভাষণের চার মাস পরে আলোচনা হবে। এটা কার্যত নজিরবিহীন। তা সত্বেও আমরা জানিয়ে দিয়েছি, প্রশ্নোত্তর সহ অন্যান্য আলোচনায়  সরকারপক্ষের সমান অধিকার চাই।’’ একই মনোভাব জানিয়ে বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ঔদ্ধত্য ও দম্ভের কারণে শাসকদল দেওয়ালের লেখা পড়তে চাইছে না। বিধানসভায় তা করলে চলবে না। এখানে তারা যে ভাষায় কথা বলবে, সেই ভাষাতেই জবাব পাবে।’’ পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘বিরোধীরা যা চান, তা-ই হবে। তবে তা গণতান্ত্রিক পথে, পরিষদীয় বিধি মেনে হতে হবে।’’

রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা এবং  দফতরওয়াড়ি আলোচনার সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও বিরোধীরা  এবার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। মান্নান ও সুজনের দাবি, নির্দিষ্ট কারও জন্য এই ব্যবস্থা করা যাবে না। বিধানসভায় শাসক ও  বিরোধী সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার কথা। মানুষের কাছে সব সদস্যের কথা পৌঁছতে না দিলে আমরা আমাদের মতো করে প্রতিবাদ করব।’’

অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিধানসভায় শুভ্রাংশু রায়ের আসন বদল করা হয়েছে। তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতেই আসন বদল করা হচ্ছে আরও দুই তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং খাতায়কলমে এখনও কংগ্রেসের বিধায়ক তুষার ভট্টাচার্যকেও। খাতায়-কলমে তুষারবাবু অবশ্য এখনও কংগ্রেসের বিধায়ক। বিধানসভায় উত্তর ২৪ পরগনার অন্য বিধায়কদের সারিতেই মুকুল রায়ের ছেলে বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশুর আসন ছিল। তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনিরুলদেরও তাঁর পাশে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।