আরও ৬ সপ্তাহ নিজের জেলায় ঢুকতে পারবেন না সৌমিত্র খাঁ। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার মামলায় সৌমিত্রর বাঁকুড়ায় ঢোকার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি মনোজিৎ মণ্ডলের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার সেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ৬ সপ্তাহ বাড়িয়েছে আদালত। চার সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

গত জানুয়ারিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর বিরুদ্ধে বাঁকুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় প্রতারণা, বালি চুরি এবং অস্ত্র আইনের মতো কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়। এ বারের লোকসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে বিষ্ণুপুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সৌমিত্র। প্রচারে জেলায় ঢুকতে পারেননি। পরে ভোটে জিতে বিষ্ণুপুরের সাংসদ হয়েছেন তিনি। তবে আদালতের এ দিনের নির্দেশে এখনও তাঁর জেলায় ঢোকা স্থগিত থাকল।

এ দিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, মূল মামলার তদন্ত প্রভাবিত করেছেন সৌমিত্র। সরকার পক্ষের আইনজীবীরা জানান, নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করার জন্য সৌমিত্র এলাকায় ঢোকার আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এক দিনের জন্য ঢোকার অনুমতি দেয়। সেই নির্দেশকে কাজে লাগিয়ে সে দিন তিনি গোটা এলাকায় ঘুরে সন্ত্রাস ছড়িয়ে, ভয় দেখিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্ট দিতে হবে সরকার পক্ষকে। 

সৌমিত্রর আইনজীবী শুভাশিস দাশগুপ্তের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই কেন মামলাগুলো হল?’’ আর সৌমিত্র এ দিন ফোনে বলেন, ‘‘অন্তত সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিন জেলায় ঢুকতে চেয়ে আদালতে আবেদন করব।’’