বাম-রাম নিয়ে আক্রমণে তৃণমূল, পাল্টা সিপিএমের
পার্থবাবু বামেদের এই ‘ভূমিকা’কে আরও এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। আর সিপিএমের পাল্টা বক্তব্য, বাংলা জুড়ে যে ভাবে মানুষ যে ভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তার ‘দায়’ রাজ্যের শাসক দলকেই নিতে হবে।
Partha

—ফাইল চিত্র।

লোকসভা ভোটে এ বার বাংলায় তাদের বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার জন্য বামেদের দিকে আঙুল তুলে তীব্র আক্রমণে গেল তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বাঁকুড়ার পরাজিত প্রার্থী ও বর্যীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কোথাও পরিকল্পনা করে, কোথাও ‘টাকার বিনিময়ে’ বামেরাই নিজেদের ভোট বিজেপিকে দিয়ে গেরুয়া শিবিরকে ফুলে-ফেঁপে উঠতে সাহায্য করেছে। পার্থবাবু বামেদের এই ‘ভূমিকা’কে আরও এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। আর সিপিএমের পাল্টা বক্তব্য, বাংলা জুড়ে যে ভাবে মানুষ যে ভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তার ‘দায়’ রাজ্যের শাসক দলকেই নিতে হবে।

বামেদের ভোট তিন বছর আগের ২৬% থেকে কমে প্রায় ৭.৫%-এ নেমে আসা এবং বিজেপির ভোট ১০.১৬% থেকে বেড়ে ৪০.২৩% হওয়ার ঘটনাকে সামনে রেখে পার্থবাবু শুক্রবার বলেছেন, ‘‘বাম-রাম যে এক, এ কথা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই বলতেন। যে কোনও একটি বিধানসভা বা লোকসভা কেন্দ্রিক ভোট পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে যে, বামেদের ভোট সবটাই বিজেপিতে গিয়েছে। বিজেপির গ্যাসবেলুনের মতো ফুলে ফেঁপে ওঠার পিছনে রয়েছে বামেদের গ্যাস!’’ তাঁর আরও মন্তব্য, ‘‘ওদের কর্মীরা সুচতুর ভাবে সাম্প্রদায়িক মুখকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। প্রগতিশীলদের মুখোশ খুলে গিয়েছে।’’ আরও এক ধাপ এগিয়ে সুব্রতবাবুর অভিযোগ, ‘বামের ভোট রামে’ যাওয়ার পিছনে টাকা-পয়সার খেলাও ছিল।

এ বার বাম সমর্থকদের বিরাট অংশই যে বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন, তা অস্বীকার করছেন না বাম নেতৃত্ব। তবে টাকার বিনিময়ে বা পরিকল্পনামাফিক ভোট হস্তান্তরের অভিযোগ তাঁরা নস্যাৎ করছেন। পাশাপাশিই তাঁরা হিসেব দিচ্ছেন, এলাকা ধরে ধরে নানা ক্ষেত্রে তৃণমূলের ‘লিড’ কমে বিজেপি বেড়েছে, যা শুধু বাম ভোটের সাহায্যে সম্ভব নয়। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘পঞ্চায়েত-সব সর্ব স্তরে বামেদের মিথ্যা মামলা দিয়ে, আক্রমণ করে, দলে টেনে ভেঙে দিতে চেয়েছিল যে তৃণমূল, তাদের মুখে নৈতিকতার কথা মানায় না! বামপন্থীদের কোণঠাসা করতে গিয়েছিল যে তৃণমূল, মানুষ তাদেরই কোণঠাসা করে দিচ্ছেন। এ রাজ্যে তৃণমূলের হাত ধরে বিজেপির উত্থান নতুন কথা নয়। আমরা বলেছিলাম, তৃণমূল-বিজেপি দু’টোকেই হটাও। কিন্তু মানুষ মনে করেছেন, তৃণমূলের অত্যাচার-অপশাসন থেকে নিস্তার পাওয়া আগে দরকার। এর দায় তৃণমূলকেই নিতে হবে।’’ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আর এক সদস্য ও বাঁকুড়ার প্রার্থী অমিয় পাত্রও বলেছেন, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটে কী ভাবে তৃণমূল গা-জোয়ারি করেছিল, সকলেই মনে রেখেছে। এলাকায় অত্যাচার, তাণ্ডবে অতিষ্ঠ আমাদের কর্মীদের কাছে তৃণমূলই প্রথম বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে।’’

পার্থবাবু এ দিন প্রশ্ন তুল্ছেন, ‘‘যাঁরা প্রকৃত বাম ছিলেন, তাঁরা কী এই মত-পথের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন! বুদ্ধবাবু বা জ্যোতিবাবু কি এটা চেয়েছিলেন? বামেরা নিজেরা পারবে না বুঝে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে তলে তলে কুমীর ডেকে আনল?’’ তাঁর দাবি, ‘‘সিপিএম যে বিজেপির দোসর হয়েছে, এর ফল ওদের ভুগতে হবে। এটাও একটা ঐতিহাসিক ভুল। আশা করব, দ্বিতীয় বার যেন বামেরা এই ঐতিহাসিক ভুল না করে!’’ সুজনবাবু আবার পাল্টা বলেছেন, ‘‘তৃণমূল দলটা ফোঁপরা হয়ে গিয়েছে। বাজে কথা না বলে পার্থবাবু আগে নিজের দলটা সামলান! রাজ্যকে শ্মশানে পরিণত করেছেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়াবেন বামপন্থীরাই।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত