নিজেদের বেতন নিয়ে দাবিদাওয়া পূরণ না-হওয়ায় প্রাথমিকের কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা বার্ষিক ক্রীড়ায় অনুদান দিতে চাইছেন না। এই অবস্থায় প্রাথমিক স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা খাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে থেকে এই খাতে আর আলাদা করে চাঁদা তোলা যাবে না। মঙ্গলবার বিধানসভায় নিজের ঘরে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সব জেলায় আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা হয় নভেম্বর-ডিসেম্বরে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সার্কল, মহকুমা, জেলা হয়ে রাজ্য-ভিত্তিক প্রতিযোগিতা হয়। তাতে ডিআই বা জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতর থেকে কিছু অর্থ দেওয়া হয়। বাকিটা অনুদান হিসেবে দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ এই অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। লাগাতার অবস্থানের পরেও যোগ্যতার ভিত্তিতে বেতন-কাঠামোর পরিবর্তন হয়নি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষক শিবিরের একাংশের দাবি। শিক্ষামন্ত্রী এ দিন জানান, প্রাথমিক স্তরে সার্ক ল-পিছু ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করতে অসুবিধা হয়। ‘‘সকলেই যাতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে পারে, খেলাধুলার মান যাতে বাড়ে, সেই জন্যই প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অধীন স্কুলগুলিতে ক্রীড়া খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হল। শিক্ষকদের কাছ থেকে এই খাতে চাঁদা তোলা যাবে না,’’ বলেন পার্থবাবু।

সোমবারেই ক্রীড়া খাতে স্কুল-পিছু ৫০০ টাকা চাঁদা চেয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। এ দিন সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সর্বশিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট অফিসারও সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং শারীরশিক্ষার জন্য প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি স্কুলকে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লাগবে সাত হাজার টাকা। তবে শিক্ষামন্ত্রী এ দিন বাড়তি বরাদ্দ ঘোষণা করায় সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে বলেই স্কুলশিক্ষা দফতরের খবর।

শিক্ষক-নেতা স্বপন মণ্ডলের দাবি, সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের নিয়ে তিনি বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তার পরেই এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র। তিনি বলেন, ‘‘স্কুলপড়ুয়াদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য টাকা দরকার, এটা শিক্ষামন্ত্রীকে বোঝাতে পেরেছি। এই অতিরিক্ত বরাদ্দ তারই ফল।’’