শব্দ আর ধ্বনির ব্যবহার শিখিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজ পাঠ। এ বার গুটিপিসির সহজ পাঠে আমজনতাকে ভোট বোঝানোর বন্দোবস্ত হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে কী কী করণীয়, ভোট দেওয়ার নিয়মকানুনই বা কী, কোথায় বোতাম টিপতে হবে— দৃষ্টিহীন, মূক ও বধির, অক্ষরজ্ঞান কম থাকা মানুষ এবং নতুন ভোটারের কাছে এগুলো কার্যত অজানা ও অচেনা। সেই অজানা বিষয়কে জানাতে এবং অচেনাকে চেনাতেই এ বার বিশেষ পদক্ষেপ করছে মুর্শিদাবাদ জেলা। 

উত্তরবঙ্গের লাগোয়া দক্ষিণবঙ্গের ওই জেলায় এ বারের ভোট ম্যাসকট হয়েছেন গুটিপিসি। তাঁর মাধ্যমেই অচেনা-অজানা ভোটকে সকলের নাগাল আনছে মুর্শিদাবাদ। সেই জন্য একটি ভিডিয়ো তৈরি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘গুটিপিসি ঘরে ঘরে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজ করে’।

এক জন দৃষ্টিহীন ভোটার কী ভাবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঢুকছেন, তার পরে কোন ভোটকর্মীর সঙ্গে তিনি কথা বলে এগোচ্ছেন, ওই ভিডিয়োয় পর্যায়ক্রমে তা দেখানো হয়েছে। ভোট ট্রেনিং অডিয়ো ডিভাইসে থাকা একটি করে সংখ্যা টিপছেন দৃষ্টিহীন ভোটার। আর এ ভাবেই তিনি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ঠিক ঠিক জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছেন। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক পি উলাগানাথন বলেন, ‘‘দৃষ্টিহীন বা মূক ও বধির কিংবা নতুন ভোটার অথবা ভোট সম্পর্কে কম জানা মানুষজন যাতে নিজেরাই নিজের ভোট দিতে পারেন, সেই জন্যই এই বন্দোবস্ত। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে কী কী নিয়মকানুন পালন করতে হয়, তা জানানো হয়েছে এই ব্যবস্থায়।’’

মুর্শিদাবাদের ব্লক ও মহকুমা-সহ সব স্তরেই ওই ভিডিয়োর প্রচার শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সেই প্রচারে সাফল্য মিলবে বলে জেলাশাসকের আশা। এ ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদকেই অনুসরণ করছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা। সম্প্রতি রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও)-এর দফতরের সঙ্গে জেলাশাসকদের বৈঠকে মুর্শিদাবাদের ভিডিয়োটি দেখানো হয়েছে। অন্য কিছু জেলা একই রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।