তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও রানাঘাটের দলীয় সাংসদ জগন্নাথ সরকারের নাম ফের যুক্ত করার আর্জির শুনানি পিছোল। শনিবার তাঁদের আইনজীবীরা রানাঘাট আদালতে এসে সময় চান। অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভদীপ মিত্র এ আগামী ৩০ নভেম্বর শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। তদন্তে নেমে সিআইডি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল মুকুল এবং জগন্নাথের বিরুদ্ধেও। ধৃতদের মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। দু’জনকে প্রমাণের অভাবে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মুকুল ও জগন্নাথকেও নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছিল। পরে মিলন সাহা নামে এক জন আদালতে রিভিশন পিটিশন দাখিল করে বলেন, মুকুল ও জগন্নাথ সন্দেহভাজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তাই তাঁদের নিষ্কৃতি দেওয়া আইনি দিক দিয়ে ঠিক হয়নি। সেই আদেশ সংশোধন করা হোক।   

তার ভিত্তিতে গত ২০ অগস্ট বিচারক ২ নভেম্বর শুনানির নির্দেশ দেন। সেই মর্মে মুকুল ও জগন্নাথকে সমন পাঠানো হয়েছিল। এ দিন তাঁরা কেউই সশরীরে আদালতে আসেননি। মুকুলের আইনজীবী রতন মজুমদার বলেন, “আমাদের মক্কেলকে সমন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন এসিজেএম যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার প্রতিলিপি দেওয়ায় জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। মহামান্য বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন। এ দিন আমাদের তার প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে।” 

জগন্নাথের আইনজীবী পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুক্রবার সাংসদ মেয়ের চিকিৎসার জন্য দিল্লি গিয়েছেন। ওই দিন তাঁর বাড়িতে সমন পাঠানো হয়েছিল। সময় না-থাকায় ওকালত নামা জমা  দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই সময় চেয়েছি।” সরকার পক্ষের আইনজীবী অসীমকুমার দত্ত বলেন, “মুকুল রায় ও জগন্নাথ সরকার না থাকায় তাঁদের আইনজীবীরা সময় চেয়েছেন। মহামান্য বিচারক তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।”