ডাকযোগে আবেদন, স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ ইত্যাদির পরে উত্তরপত্র দেখতে আগে দীর্ঘ সময় লাগত। এ বার থেকে অনলাইনে আবেদন করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা খুব দ্রুত তাঁদের খাতা দেখার সুযোগ পাবেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়মের কথা জানানো হয়েছে।

সংসদের সভানেত্রী মহুয়া দাস মঙ্গলবার জানান, চলতি বছরে যাঁরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁরাও এই সুযোগ পাবেন। ‘‘নতুন এই পদ্ধতিতে এক জন পরীক্ষার্থীকে খুব দ্রুত খাতা দেখানো সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে পুরো পদ্ধতিটি অনেক বেশি স্বচ্ছ। এর জন্য কোনও টাকা লাগবে না,’’ বলেন মহুয়াদেবী। তিনি জানান, ৫ জুলাই অর্থাৎ শুক্রবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

এর আগেও পরীক্ষার্থীরা নিজেদের খাতা দেখতে পারতেন। তার জন্য সংসদের কাছে ডাকযোগে আবেদন করতে হত। কিনতে হত ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার। সংসদ-কর্তাদের মতে, পুরো পদ্ধতিই অনেক লম্বা হত। নতুন ব্যবস্থায় অত দীর্ঘ সময় লাগবে না। লাগবে না টাকাও। উপরন্তু অনলাইনে আবেদন করলে সেই আবেদন এখন ঠিক কোন পর্যায়ে আছে, তা-ও অনলাইনে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সংসদ আবেদন পেলে নির্দিষ্ট তারিখে সল্টলেকের করুণাময়ীতে তাদের সদর কার্যালয় বিদ্যাসাগর ভবনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে
আসতে বলবে। ওই অফিসে বসেই পরীক্ষার্থী নিজের উত্তরপত্র দেখতে পারবেন। চাইলে খাতার ফোটোকপিও নেওয়া যাবে। ফোটোকপির দাম
দিতে হবে।

খাতা দেখে কোনও পরীক্ষার্থীর যদি মনে হয় যে, তাঁর কোনও উত্তরের ঠিক মূল্যায়ন হয়নি, তা হলে কি তিনি পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন?

মহুয়াদেবী বলেন, ‘‘আবার আলাদা ভাবে সেই আবেদন করতে হবে। গোটা উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন হবে না। নির্দিষ্ট কোনও প্রশ্নের উত্তরের মূল্যায়ন নিয়ে যদি কারও সংশয় থাকে, পুনর্মূল্যায়ন হবে শুধু সেটিরই।’’ সংসদ-কর্তারা জানান, যাঁরা খাতা রিভিউ করাতে দিয়েছেন, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে তার ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে। কারণ, যাঁরা খাতা রিভিউ করাতে দিয়েছেন, রিভিউয়ের পরেই তাঁরা উত্তরপত্র নিজের চোখে দেখার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে উত্তরপত্র দেখার আবেদন জানানোর পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষা মহল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‘বিভিন্ন পরীক্ষার স্বচ্ছতা যখন অনেক প্রশ্নের মুখে পড়ছে, সেই সময় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের উপকার হবে।’’ কলেজিয়াম
অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘অনলাইনে বিনামূল্যে খাতা দেখার ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাই। তথ্যের অধিকার আইনে কেউ উচ্চ মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতার প্রত্যয়িত প্রতিলিপি পাওয়ার আবেদন জানালে সংসদ এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরীক্ষিত উত্তরপত্রের প্রত্যয়িত প্রতিলিপি দিতে খাতা-পিছু যথাক্রমে ৫০০ টাকা এবং ১০০ টাকা নিত। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ তথ্য কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী আদেশে এই ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছে।’’