মাথায় গুলি লাগার পরে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি কেটে গিয়েছে। শনিবার সন্ধেতেও জ্ঞান ফিরল না মানিকচকের রামনগর গ্রামের তিন বছরের শিশু মৃণাল মণ্ডলের। মালদহের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে সিসিইউ-এ চিকিৎসাধীন শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে চিকিৎসকেরা। এ দিন সন্ধেয় মৃণালের মাথার ফের সিটি স্ক্যান হয়েছে বলে নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেই তার চিকিৎসা করছেন নিউরো সার্জেন সুষেণ চট্টোপাধ্যায়।

শিশুটি সুস্থ হলে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরা কি সম্ভব? ওই চিকিৎসক বলেন, “ব্রেনের মধ্যে দিয়ে গুলি গিয়েছে। যার ফলে আগামী দু’-একদিনের মধ্যে ব্রেন ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি, ব্রেনে সংক্রমণও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। ফলে আরও কয়েকটা দিন না দেখে এ ব্যাপারে কিছুই বলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “শিশুটির ব্রেনের ডান দিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে শরীরের বাঁ দিকের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। মানসিক সমস্যাও হতে পারে।” তবে তিনি এও জানান, এই সব ক্ষেত্রে বড়দের থেকে ছোটদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রামনগরে বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল মৃণাল। সেই সময় আচমকা তার মাথায় গুলি লাগে। তার পরেই পরিবারের লোকজন শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে মেডিক্যাল কলেজে নিউরো সার্জেন না থাকায় ওই দিন রাতেই শিশুটিকে শহরের একটি বেসরকারি  নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। রাতেই শিশুটির অস্ত্রোপচার করেন সুষেণ চট্টোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গুলিটি শিশুটির কপালের উপর লাগে। সেখান থেকে মস্তিষ্কের ডান দিকে খুলি ফাটিয়ে গুলিটি বেরিয়ে যায়। এর ফলে মাথার হাড়ের টুকরো শিশুটির মস্তিষ্কে ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচার করে সেই হাড়ের টুকরো বের করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারে খুলিও মেরামত করা হয়েছে। তবে সার্বিক ভাবে এখনও উদ্বিগ্ন রয়েছেন খোদ চিকিৎসকেরাও।