গোটা কপাল জুড়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা। চোখের তলায় এখনও ফোলা ফোলা ভাব। অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক ভাবেই  শরীর খুব দূর্বল। এনআরএস-এ সোমবার রাতের নিগ্রহের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তা যেন তাঁকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তারই মধ্যে হাসপাতালের বেডে বসে কোনও রকমে ক্ষীণ কণ্ঠে পরিবহ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি ভাল আছেন। থমথমে মুখে বলেছেন, খাবারও খেয়েছেন।

মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-এ ভর্তি রয়েছেন এনআরএস-এর জুনিয়র চিকিৎসক বছর চব্বিশের পরিবহ। বুধবার সেখানকার বেডে বসেই খুবই নিচু স্বরে তিনি বলেন, “ভাল আছি।” খাবার খেয়েছেন? প্রশ্নের উত্তরে খানিকটা থামলেন, এর পর চোখ নামিয়ে বলেন, “খেতে পারছি।” ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর আপাতত স্থিতিশীল পরিবহ। তবে তিনি এখনও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ওই হাসপাতালের বেডেই রোগীর পোশাক পরে বসেছিলেন পরিবহ।  সোমবার রাতে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (এনআরএস)-এ রোগীমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকদের উপরে নিগ্রহের ঘটনার সময় গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁর কপালের ডান দিকে পাথরের ঘায়ে তীব্র ক্ষতের সৃষ্টি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সে রাতেই পরিবহকে নিয়ে যাওয়া হয় মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-এ। চিকিৎসকেরা জানান, পরিবহর মাথার সিটি স্ক্যান থেকে দেখা গিয়েছে, প্রচণ্ড জোরে আঘাত লাগায় তাঁর কপালের উপরে করোটির সামনের একটা অংশ তুবড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় এ ধরনের চোটকে ‘কমপাউন্ড ডিপ্রেস্ড ফ্র্যাকচার অব স্কাল’ বলা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবহর অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁকে আইটিইউ-তে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: করোটি তুবড়ে ঢুকে গিয়েছে ভিতরে, আপাতত বিপন্মুক্ত এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলুন, এই ঘটনা আর ঘটবে না, দাবি চিকিৎসক মহলের

এ দিন ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ঘণ্টা দুয়েক ধরে পরিবহর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।  করোটির যে অংশটি ঢুকে গিয়েছিল, তা অপারেশন করে বার করে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর পরিবহ নিজেই খাবার খেয়েছেন। কথাবার্তাও বলছেন। আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন পরিবহ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।