• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কেন্দ্রীয় সংস্থার ডেঙ্গি রোধে সময়সীমা বাঁধবে পুরসভা 

dengue
প্রতীকী ছবি।

এখনও পর্যন্ত কোভিড-১৯-এর দাপটে ডেঙ্গি সেভাবে মাথাচাড়া দিতে পারেনি। তা সত্ত্বেও ডেঙ্গি নিয়ে কোনও ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাতে নারাজ পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই বুধবার একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করলেন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় ঘাটতি হলে পুরমন্ত্রীকে 'ধরবেন' বলে গত সপ্তাহে প্রশাসনিক মূল্যায়ন বৈঠকে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনও সংস্থায় ডেঙ্গি-সহ পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধের কাজে সমস্যার সম্মুখীন হলে তৎক্ষণাৎ তা জেলাশাসকের নজরে আনার জন্য এদিনের পুরমন্ত্রীর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।  রাজ্যের সব পুর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ওই নির্দেশিকায় ডেঙ্গি রোধের কার্যকলাপের শুরু এবং তা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কথা বলেছে পুর দফতর। এমনকি, এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বাঁধা থাকবে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তালিকাও রাখবেন পুর কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তাদের চত্বর পরিষ্কার করতে গড়িমসি করে বলে ফি বছর অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতো একই ধরণের বিজ্ঞপ্তি রাজ্য সরকারের দফতর এবং সরকারি ও বেসরকারি আবাসনকে দিয়ে পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকলাপ করার জন্য 'অনুরোধ' করবেন পুর কর্তৃপক্ষ।

চলতি সেপ্টেম্বর থেকে পনেরো দিন অন্তর বিভিন্ন ওয়ার্ডের 'ঝুঁকিপূর্ণ' (যেখানে ময়লা বেশি জমা হয়। মশা ক্রমাগত সেসব জায়গায় বংশবিস্তার করে।) এলাকা পরিষ্কারের জন্য বিশেষ অভিযান নিয়ে প্রচারও শুরু করবে পুর দফতর। এক্ষেত্রে নিয়মিত নরজদারি চালানোর জন্য বিভিন্ন পুর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। পাশাপাশি, সরকারি বা বেসরকারি জমি, অব্যবহৃত জলা, গুল্ম পরিবেষ্টিত জলাজমি, বন্ধ নিকাশি নালা, জমে থাকা নির্মাণ সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে পুরসভা। তাদের হাতে থাকা খালে যাতে ময়লা না জমে, তা-ও দেখবে তারা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও যাতে ডেঙ্গি রোধ সংক্রান্ত কাজ নিয়মিত হয়, তা নজরে রাখবে পুরসভা। পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলার কাজে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সেই কাজ অনেক আগে থেকে শুরু হলেও প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়, তা উল্লেখ করে পুরমন্ত্রী নির্দেশিকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার লার্ভা নিধন তেল ব্যবহার ঠিক মতো করার কথাও জানিয়েছেন। করোনার কারণে বাড়ি বাড়ি যাওয়া (এইচ টু এইচ) এবং পতঙ্গ প্রতিরোধ টিমের (ভিসিটি) নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে পুরসভাকে। তা-ও মনে করিয়েছেন পুরমন্ত্রী। এ দিন ৬৪টি পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভিডিয়ো বৈঠক করেন মন্ত্রী। সেখানেও ডেঙ্গি দমন কর্মসূচির উপরে জোর দেওয়া হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন