Advertisement
১০ মে ২০২৪
Lok Sabha Election 2019

সপ্তম দফার প্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয়ের শীর্ষে অভিষেক

সপ্তম দফার যে-সব প্রার্থী ২০১৪ সালের নির্বাচনেও লড়েছিলেন, তাঁদের আগের বারের হলফনামার সঙ্গে এ বারের হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ।

—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০১৯ ০৩:৫২
Share: Save:

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটের সপ্তম তথা শেষ দফায় মোট ১১১ জন প্রার্থী লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন কোটিপতি। নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (এডিআর) ও পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ যৌথ রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সপ্তম দফার প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে বেশি বার্ষিক আয় ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর বার্ষিক আয় দু’‌কোটি টাকার বেশি। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কলকাতা (দক্ষিণ) কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিতা চক্রবর্তী। দু’জনেরই আয় বছরে এক কোটি টাকার বেশি। সম্পদের নিরিখে অবশ্য সকলের থেকে এগিয়ে আছেন মিতাদেবী। তাঁর ঘোষিত সম্পদ ৪৪ কোটি টাকারও বেশি। বিকাশবাবু সেই তালিকাতেও দ্বিতীয় স্থানে আছেন।

সপ্তম দফার যে-সব প্রার্থী ২০১৪ সালের নির্বাচনেও লড়েছিলেন, তাঁদের আগের বারের হলফনামার সঙ্গে এ বারের হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ। তারা জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ২২ জন প্রার্থী এ বারেও লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে এই পাঁচ বছরে আয় বৃদ্ধির হার সব থেকে বেশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেকবাবুর। আগের বার ভোটে দায়ের করা হলফনামায় জমা দেওয়া আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর মোট বার্ষিক আয় ছিল ৭৩.৯৮ লক্ষ টাকা। এ বার আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর মোট বার্ষিক আয় দু’‌কোটি ২৭ লক্ষ টাকা। শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধির হার প্রায় ২০৬। তবে তাঁর হলফনামা বলছে, এই পাঁচ বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় নয় শতাংশ। ২২ জনের মধ্যে সব থেকে বেশি সম্পদ বেড়েছে তিন তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং প্রতিমা মণ্ডলের। সুদীপবাবু কলকাতা (উত্তর), সৌগতবাবু দমদম এবং প্রতিমাদেবী জয়নগরে প্রার্থী হয়েছেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর উজ্জয়িনী হালিম জানান, এই দফায় ন’টি আসনে তৃণমূলের ন’জন প্রার্থী রয়েছেন এবং তাঁরা প্রত্যেকেই কোটিপতি। কংগ্রেসের আট জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জন, বিজেপির ন’জনের চার জন এবং সিপিএমের ছ’জনের মধ্যে তিন জন কোটিপতি। ১১১ প্রার্থীর মধ্যে ৪৬ জন প্যান সংক্রান্ত তথ্য জমা দেননি।

উজ্জয়িনী আরও জানান, ১১১ জনের মধ্যে মাত্র ১৭ জন মহিলা। শতাংশের বিচারে তা মাত্র ১৫। তবে মহিলা প্রার্থীদের মনোনয়নে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। এই দফায় তাদের ন’জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জন মহিলা। তিনি বলেন, ‘‘সব দল মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বললেও প্রার্থী-পদে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।’’ রিপোর্ট বলছে, এই দফায় ১১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর মামলা। বিজেপির চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। কংগ্রেস-তৃণমূলের দু’জন করে প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। সিপিএমের এক জন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE