প্রচারে হুমকি দিয়ে বিতর্কে রাজ্যের মন্ত্রী রত্না ও বিজেপির দিলীপ
প্রচারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে।
Dilip Ghosh

—ফাইল চিত্র।

একজন রাজ্যের মন্ত্রী। অন্যজন রাজ্যের বিরোধী দলের প্রধান। দু’জনের হুমকিতে উত্তাপ ছড়াল দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগের দিন।

দলের নেতা-কর্মীদের ‘উদ্বুদ্ধ’ করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন চাকদার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রত্না কর ঘোষ। আর মেদিনীপুরের কেশিয়ারিতে নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলকে হুমকি দিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা ভোটপ্রার্থী দিলীপ ঘোষ।

তৃণমূলের নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকের একটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরেই এই বিতর্কে জড়িয়েছেন রত্না। ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে রত্না বলছেন, “যুদ্ধে জিততে গেলে ন্যায়, অন্যায়, গণতন্ত্র ফনতন্ত্র বলে কিছু নেই। যুদ্ধে জিততে হবে, তার জন্য যে পদ্ধতি যেখানে দরকার সেই পদ্ধতি সেখানে প্রয়োগ করবেন।” ভিডিওতেই শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রী বলছেন, “প্রয়োজন হলে যেখানে বাড়াবাড়ি করবে আমাদের মহিলা সংগঠনের নেতৃত্বকে বলব ঝাটা হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল ফোর্সকে তাড়া করে এলাকা ছাড়া করে দেবেন। ভয়ের কোনও কারণ নেই।”

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

অন্যদিকে প্রচারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। দিলীপবাবু বক্তৃতায় বলেন, ‘‘তৃণমূল বুথে ঢুকলে ঢুকবে নিজেদের ইচ্ছায়, বেরোবে আমাদের ইচ্ছায়। আর হেঁটে বেরোবে না শুয়ে, তা ঠিক করব আমরাই।’’ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘দিলীপবাবু গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন। কমিশন দেখুক।’’

রত্নার ওই বক্তৃতা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নদিয়ার জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত বলেন, “অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।” এদিনই রত্নার বক্তৃতার ভিডিও সম্পর্কে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ টুইট করে বলেন, ‘‘মমতাদির বিশ্বস্ত সেনাপতিরা মেনে নিয়েছেন তাঁরা হিংসা আর নৈরাজ্যেই বিশ্বাস করেন। এ সব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তৃণমূলের সময় শেষ। মানুষ ভোটেই তাদের সরিয়ে দেবে।’’ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বলেন, “যাঁর যা শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি তিনি সেই মতোই কথা বলবেন।” জেলা তৃণমূলের সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের ব্যাখ্যা, “আত্মরক্ষার অধিকার তো ভারতীয় সংবিধানই দিয়েছে। মহিলাদের উপর আক্রমণ হলে রত্না তা প্রতিহত করতে বলেছেন। নির্বাচন কমিশন বিচার করবে।”

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত