রক্তদান শিবিরের জন্য কেনা হয়েছে শক্তপোক্ত খাট। কিন্তু তা শিবিরে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ছে মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক। মঙ্গলবার মানিকতলায় জরুরি বৈঠকে গিয়ে এই সমস্যার হদিস পেলেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিদের একাংশ।

গরমে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা সাধারণত কম হয়। এর উপরে নির্বাচনী বছরে রক্তের জোগান ঠিক রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ দিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির সঙ্গে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কের অধিকর্তা স্বপন সোরেন বৈঠক করেন। সেখানেই নতুন খাটের ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে খবর। 

রক্তদান শিবিরে এত দিন খাট নিয়ে যেতেন সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা। ধীরে ধীরে সেই খাটের সংখ্যা কমিয়ে প্লাইউডের পাটাতন দেওয়া খাট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। সেই মতো ৩০টির মতো প্লাইউডের খাটও কেনা হয়। অধিকর্তার কথায়, ‘‘পুরনো খাটের ফিতে প্রায় ছিঁড়ে যাচ্ছিল। তাই সেগুলো শক্তপোক্ত করা হয়েছে।’’ কিন্তু শিবিরে ওই সব খাট নিয়ে যেতেই সমস্যায় পড়ছেন ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা। কারণ, গাড়িতে জায়গার অভাব! সাধারণত প্রতিটি রক্তদান শিবিরে মেডিক্যাল অফিসার-সহ অন্তত চার জন কর্মী যান। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিনিধির কথায়, ‘‘বৈঠকে যা বুঝলাম, স্বাস্থ্য ভবনের দেওয়া গাড়িতে চার জন ওঠার পরে নতুন খাটের জায়গা হচ্ছে না। তাই নতুন খাট স্টোররুমেই পড়ে রয়েছে। খাটগুলো নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে অধিকর্তা আমাদের পরামর্শ চেয়েছেন।’’

এখন তাই প্লাইউডের এই খাট কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমাজকর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘ভোটের বছরে রক্তের সঙ্কট এড়াতে নিঁখুত পরিকল্পনা দরকার। তার জন্য সচেতনতা প্রচার, শিবিরের সংখ্যাবৃদ্ধি সংক্রান্ত আলোচনা গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ফিতের খাট প্লাইউড করে লাভ কী! 

তা গাড়িতে উঠল কি না, তা দিয়ে রক্তদান আন্দোলনের কী উপকার হবে?’’ আর এক প্রতিনিধির কথায়, ‘‘অনেক সময় গাড়ি শিবিরগুলিতে সময়ে পৌঁছোচ্ছে না। রক্ত নিতে গিয়ে মানুষ দুর্ব্যবহারের মুখে পড়ছেন। এ নিয়ে বৈঠকে কথা বলার সুযোগই পেলাম না।’’

তবে নতুন খাটের ব্যবহারিক সমস্যা নিয়ে বৈঠকে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন ব্লাড ব্যাঙ্কের অধিকর্তা। তিনি বলেন, ‘‘ওগুলো আমরা ব্যবহার করব। গাড়িতে তোলা নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই।’’ স্বপনবাবু আরও বলেন, ‘‘রক্তদান আন্দোলনের সচেতনতা বার্তার প্রচারপত্র তৈরি করা হয়েছে। এপ্রিলে বড় আকারে একটি বৈঠক করা হবে।’’ 

এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘রাজ্যের প্রতিটি ব্লাড ব্যাঙ্কে যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত রয়েছে। আর প্লাইউডের খাট তো শক্ত! দড়ির খাটই ভাল। তবে এ নিয়ে কথা না বলে মন্তব্য করব না।’’