জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের পদ থেকে বিধায়ক উলসন চম্প্রমারিকে সরিয়ে জেলাশাসককে চেয়ারম্যান করল রাজ্য সরকার। ভাইস চেয়ারম্যান করা হল তৃণমূল জেলা সভাপতি মোহন শর্মাকে।

পঞ্চায়েত ভোটে হারের পরে জেমস কুজুরের মন্ত্রিত্ব গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দলীয় বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দেন, কুজুরের এলাকা অর্থাৎ কুমারগ্রাম ব্লকের দেখভালও এ বারে মোহনই করবেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে উইলসনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূলের লোকজনেরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফে এই সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে, সেখানে পর্ষদের নতুন পদাধিকারীদের নামের তালিকাও রয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, উইলসন এখন পর্ষদের সাধারণ সদস্য।

কালচিনির বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি অবশ্য জানান, তিনি ২০১৪ সাল থেকে চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। চেয়ারম্যানের মেয়াদ তিন বছরের। মাস কয়েক আগে সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের তরফে কিন্তু জানা গিয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জয়গাঁর দায়িত্ব মোহনকেই দিতে চেয়েছিলেন। তাই উইলসনের মেয়াদ বাড়তে চাননি। কিন্তু মোহন জেলা পরিষদের সভাধিপতির চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের পদে যেতে চাননি। তখন দলের নেতৃত্ব অন্য কাউকে চেয়ারম্যান পদে না বসিয়ে জেলাশাসককেই দায়িত্ব দেন। মোহনকে অবশ্য ভাইস চেয়ারম্যান করে পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়।

কার্যত বিষয়টি স্বীকার করে নেন মোহন শর্মা। তিনি জানান, জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাজ সামলে জয়গাঁর কাজেও মন দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, “আমাকেই চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। আমি তাঁদের ওই পদে না রাখারই অনুরোধ করেছিলাম। তবে উইলসনকে সরানো হয়নি। চেয়ারম্যান পদে ওঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওঁকে সাধারণ সদস্য করে রাখা হয়েছে। নতুন বোর্ডের  সরকারি আধিকারিক ছাড়া সকলেই কালচিনি এবং জেডিএ এলাকার বাসিন্দা।’’

তবে উইলসন চম্প্রমারিকে জেডিএ-র চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোয় অন্য ইঙ্গিত দেখেছেন দলের নেতারা। বছর দুয়েক আগে  সুভাষিণী চা বাগানের কাছে জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে জয়গাঁয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রায় একশো কোটি টাকা বরাদ্দ করেন তিনি। গত দু’বছরে সেই কাজ সে ভাবে এগোয়নি। প্রকল্পটি সেচ দফতরের দায়িত্ব থাকলেও উইলসন সে ভাবে খোঁজখবর করেননি বলে অভিযোগ। দলের এক জেলা নেতা জানান, এই পরিস্থিতিতে মোহন শর্মার নেতৃত্বেই জয়গাঁয় দ্রুত উন্নয়ন চান মুখ্যমন্ত্রী।    

জেলাশাসক নিখিল নির্মল এ দিন জানান, তিনি শীঘ্রই বৈঠক ডাকবেন।