বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে পাঁচিলে সজোরে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠল বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে আকাশ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে যাদবপুর থানা এলাকার গল্ফ গার্ডেনে। সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশের গাড়িটি রয়্যাল ক্যালকাটা গল্ফ ক্লাবের (আরসিজিসি) পাঁচিল ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়। জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে রাতে  তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরে এলাকার বাসিন্দারা গাড়িটিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ গিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই অবশ্য গাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন চালক আকাশ। পুলিশি সূত্রের খবর, আকাশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯, ৪২৭ (অন্যের সম্পত্তি ক্ষতি করা), মোটর ভেহিক্‌ল অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা এবং পিডিপিপি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতকে শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আকাশের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য আদালতে তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন জানান। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জানান, বিচারক সব দিক বিচার করে ধৃতকে এক দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে, আকাশের বাড়ি সেখানেই। দুর্ঘটনার পরেই বাড়িতে ফোন করেন আকাশ। তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলেও রাতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এর আগেও বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল ওই যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে আকাশের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য তিনি ওই রাতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে এ দিন আকাশের গাড়িটি পরীক্ষা করেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। 

দুর্ঘটনার পরে গভীর রাতেই টুইট করে রূপা জানান, তিনিই পুলিশ ডেকেছেন। কারও কাছ থেকে ‘বিশেষ সুবিধে’ চান না তিনি। চান না, বিষয়টি নিয়ে কোনও রাজনীতি হোক। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘আমি আমার ছেলেকে ভালবাসি এবং তার খেয়াল রাখব। কিন্তু আইনের আইনের পথেই চলা উচিত।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমি রূপাদির সঙ্গে কথা বলেছি। দুর্ঘটনার পরে ওঁরাই পুলিশকে খবর দিয়ে ডেকেছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল বিষয়টাকে অন্য মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছে। গাড়ি চালানোয় নিশ্চয়ই কিছু ভুল হয়েছিল বলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে থাকলে তার জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’’