• শুভঙ্কর চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খোঁজ শুরু বিকল্প ‘ভিউ পয়েন্টের’

Kangchenjunga
নয়নাভিরাম: টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ফাইল চিত্র

দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা। তার ওপার থেকে ধীরে ধীরে সোনালি আলোর ছটা বাড়িয়ে দেখা দিচ্ছে সূর্য। কয়েক মুহূর্তের সেই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর দার্জিলিঙের টাইগার হিলে ভিড় জমান দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক। দার্জিলিং পুলিশের নির্দেশিকার জেরে লাগাম লাগবে সেই ভিড়ে। আপাতত ঠিক হয়েছে দিনে তিনশোর বেশি গাড়ি টাইগার হিলে যেতে দেওয়া হবে না। এই নির্দেশ কার্যকর হলে ইচ্ছে হলেই টাইগার হিলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সাক্ষী থাকা যাবে না। তাই এখন থেকেই টাইগার হিলের বিকল্প ‘ভিউ পয়েন্ট’ খুঁজতে শুরু করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দার্জিলিং পাহাড়ের আর কোন কোন এলাকা থেকে টাইগার হিলের মতোই সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা সম্ভব তার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শনের পরিকল্পনা নিয়েছে।    

টাইগার হিল নিয়ে পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ী এবং গাড়ির চালক-মালিকদের একটা বড় অংশ। সমস্যা কবে মিটবে বা আদৌ মিটবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অথচ ইতিমধ্যেই হাজার হাজার পর্যটকের বুকিং নিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই পাহাড়ে আসা অতিথিদের কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয় দেখাতে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি রাখতে চাইছেন তাঁরা। পাহাড় ও সমতলের পর্যটন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে নতুন ‘ভিউ পয়েন্ট’ খোঁজা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্তা। শনিবার দার্জিলিংয়ে বৈঠক করেন তাঁরা। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘বিকল্প ভিউ পয়েন্ট থাকা জরুরি। তা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। ফলে টাইগার হিলের উপর চাপও কমবে।’’

এ রকম ‘ভিউ পয়েন্ট’ আর কোথায় কোথায় হতে পারে? দার্জিলিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্টসের সভাপতি প্রদীপ লামা জানিয়েছেন, সুকিয়াপোখরির কাছে সীমানা, সোনাদার বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে খুব ভাল সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যেতে পারে। এছাড়া কালিম্পংয়ের লোলেগাঁও সংলগ্ন ঝান্ডিডারা, কার্শিয়াংয়ের ডাউহিল সংলগ্ন একাধিক এলাকা থেকেও সূর্যোদয় দেখে পর্যটকেরা টাইগার হিলের স্বাদ পেতে পারেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রদীপ বলেন, ‘‘আরও কিছু বিকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে। জিটিএর পর্যটন বিভাগের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।’’ জিটিএর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘সান্দাকফু বা ফালুট থেকে টাইগার হিলের চাইতেও ভাল সূর্যোদয় দেখা যেতে পারে। অন্য অনেক জায়গা থেকেও সূর্যোদয় দেখা যেতে পারে। তা টাইগার হিলের চাইতে কম আকর্ষণীয় হবে না।’’ জিটিএর চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, ‘‘বিকল্প ভিউ পয়েন্টের প্রস্তাব অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আমরা আলোচনা করে পদক্ষেপ করব।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন