প্রায় ২১ মাস আরব সাগরে কাযর্ত বন্দিদশা কেটেছে। অভিযোগ, খাবার, বেতন, জ্বালানি ছিল অনিয়মিত। অবশেষে বুধবার ঘরে ফিরলেন ঘাটালের যাজ্ঞিক মুখোপাধ্যায়।

এ দিন দমদম বিমানবন্দরে নেমে জাহাজের ক্যাপ্টেন যাজ্ঞিক বললেন, ‘‘কঠিন লড়াই ছিল। কিন্তু আশা ছাড়িনি। আমাকে ঘরে ফেরানোর লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।” বাবাকে ঘরে ফেরাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিল যাজ্ঞিক আর ছন্দার আট বছরের মেয়ে সুহানি, পাঁচ বছরের ছেলে সাত্ত্বিক। স্বামীর লড়াইয়ে আগাগোড়া পাশে ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছন্দা মুখোপাধ্যায়। বিদেশ মন্ত্রক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। এ দিন ছন্দা বলেন, ‘‘আমার ছোট ছোট দুটো ছেলে মেয়ে আছে। এতদিনে মনে হচ্ছে জয় পেলাম। আমি খুশি তো বটেই। সব থেকে খুশি ওরা।”

যাজ্ঞিক জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের অগস্টে দুবাইয়ের একটি সংস্থায় জাহাজের ক্যাপ্টেনের চাকরি নিয়ে দুবাই যান তিনি। যাজ্ঞিকের কথায়, ‘‘ছ’মাসের চুক্তি নিয়ে ওই সংস্থার যোগ দিয়েছিলাম। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সংস্থা জাহাজের কিছু মেরামতি কাজের জন্য দুবাই পাঠিয়েছিল। তারপর জাহাজ শারজায় নোঙর করা হয়েছিল।’’ তিনি জানান, ওই জাহাজে তেল ও কেমিক্যাল বহন করা হয়। হঠাৎই সংস্থার আর্থিক মন্দার কারণে ব্যবসা লাটে ওঠে। বেতন তো দূর, সংস্থার পক্ষ থেকে জল থেকে তুলে আনার ব্যাপারেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ ক্যাপ্টেনের। এই অবস্থায় দুবাই থেকে ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ২১ মাস আটকে ছিলেন যাজ্ঞিকরা। 

শুধু যাজ্ঞিক নয়। তাঁর দাবি, আরব সাগরে মোট ১৬টি জাহাজে ৪০ জন নাবিক আটকে ছিলেন তাঁর সঙ্গেই। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন ভারতীয় ও ৯ জন ভিন দেশের। তাঁর অভিযোগ, জাহাজে এতদিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ছিল না। দেওয়া হয়নি বেতন। এমনকি, জাহাজের প্রয়োজনীয় জ্বালানিটুকুও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

যাজ্ঞিক ও ছন্দার লড়াই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসেছিল ভারতীয় হাই কমিশন ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা। আরব সাগর থেকে ক্যাপ্টেন সহ-অন্য কর্মীদের ঘরে ফেরাতে জাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। অবশেষে দিন কয়েক আগে সবকিছুর অবসান হয়। জাহাজ কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ৩০ শতাংশ বেতন সহ-প্রত্যেককে নিজের দেশে ফিরিয়ে দিতে রাজি হন। কেউ ফিরেছেন আগে। এ দিন ফিরলেন যাজ্ঞিক। ফিরবেন বাকিরাও।