আগুন নেভাতে গত আট বছরে ৬০০টি নতুন গাড়ি কিনেছে দমকল। সরু রাস্তা দিয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে মোটরবাইক কেনা হয়েছে প্রায় ৩০০টি। গাড়ির অভাব না থাকলেও সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একমাত্র ওয়ার্কশপটি লোকাভাবে ধুঁকছে। ফলে আগুন নেভাতে গিয়ে গাড়ি খারাপ হলে সমস্যায় পড়ছেন দমকলের কর্মীরা।

বর্তমানে রাজ্যে দমকল কেন্দ্র রয়েছে ১৪১টি। আগে রাজ্য জুড়ে দমকলের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দফতরের নিজস্ব ওয়ার্কশপ ছিল পাঁচটি। শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, হাওড়া ও ব্যারাকপুরের ওয়ার্কশপগুলি আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের সদর দফতরে থাকা কেন্দ্রীয় ওয়ার্কশপটি ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে। দফতর সূত্রের খবর, ওই ওয়ার্কশপে এখন কর্মীর সংখ্যা ১৩। ৮৫টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে গাড়ি সারানোর জন্য যাঁদের সবার আগে দরকার, সেই মেকানিকের সংখ্যা শূন্য। ভরসা বলতে এক জন অটো ইলেকট্রিশিয়ান ও দু’জন ‘মেট’ (হেল্পার)। বাকি দশ জন ‘নন-টেকনিক্যাল’ কর্মী রয়েছেন। গাড়ি সারাইয়ের জন্য নতুন যন্ত্রাংশ মজুত রাখতে ওয়ার্কশপের পাশেই একটি স্টোর রুম ছিল। সেটিও বছর দু’য়েক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

ওয়ার্কশপের এই হাল হওয়ায় নতুন নতুন গাড়ি কেনা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন দমকলকর্মীরা। দমকল সূত্রের খবর, এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় কলকাতা থেকে প্রায় ১৫টি গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। মেলায় কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলেও পরীক্ষামূলক ভাবে সেগুলি চালাতে গিয়ে অনেকগুলি গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল। দফতর সূত্রের খবর, ১১ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরে থাকা দমকলের একটি গাড়ির গিয়ারে সমস্যা হয়েছিল। ১২ জানুয়ারি একটি গাড়ির ব্যাটারি চার্জারের যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আবার ১৩ তারিখ একটি গাড়ির ডিজেল ফিল্টার কাজ করেনি। ফলে গাড়িটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন একটি গাড়ির সামনের বাঁ দিকের চাকার ব্রেকে গণ্ডগোল দেখা দেয়। তার পরের তিন দিনেও এক-একটি গাড়ির এক-এক রকম সমস্যা দেখা দেয়। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সদর দফতরের ওয়ার্কশপ থেকে তিন জন কর্মীকে গঙ্গাসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁরাই ওই গাড়িগুলি সারানোর কাজ করেন। শুধু গঙ্গাসাগরই নয়, মাস কয়েক আগে বাগড়ি মার্কেটে আগুন নেভাতে গিয়েও তিনটি গাড়ির পাম্প খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

দমকলের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘গাড়ির সংখ্যার নিরিখে রক্ষণাবেক্ষণের পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় কী হাল হচ্ছে, গঙ্গাসাগরের সাত দিনেই তা বোঝা গিয়েছে। প্রতিটি গাড়িই নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। কিন্তু কর্মীর অভাবে কোনও পরীক্ষাই হয় না। এখন গাড়ি খারাপ হলে তবেই লোক ডাকা হয়।’’

দমকল সূত্রের খবর, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় বর্তমানে বিকল গাড়ি সারাইয়ের জন্য বাইরে থেকে ঠিকাদার সংস্থা নিয়োগ করা হয়েছে। গাড়ি খারাপ হলে ফোন করা হয়। বাইরে থেকে মিস্ত্রি এসে সারিয়ে দিয়ে যান। দমকলের এক কর্মীর কথায়, ‘‘বাইরে থেকে আসা মিস্ত্রিদের কাজে খামতি থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সারাতে দেরি হচ্ছে। নিজস্ব ওয়ার্কশপে লোক থাকলে এ সব সমস্যা হত না।’’

ওয়ার্কশপে লোকবলের অভাবের কথা স্বীকার করে দমকলের ডিজি জগমোহন বলেন, ‘‘লোক যে নেই, তা জানি। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। আমি কী করব?’’ দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘‘সবে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিয়েছি। লোক নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’’