রাজনৈতিক স্তরে বৃহত্তর মঞ্চ গড়েই সাম্প্রদায়িকতার নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেন সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর ইঙ্গিত, এই লক্ষ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথে যাবে বামেরা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসও।

তাঁরই নামাঙ্কিত কলকাতা জেলা সিপিএমের দফতরে ‘প্রমোদ দাশগুপ্ত স্মারক বক্তৃতা’ ছিল শনিবার। সেই বক্তৃতাতেই ইয়েচুরি বলেন, কেন্দ্রে বিজেপির সরকার যে ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দ্বিতীয় বার ফিরে এসেছে, দেশের পক্ষে সেটাই যথেষ্ট উদ্বেগের। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে লড়তে হবে। কয়েক দিন আগেই দিল্লিতে প্রদেশ কংগ্রেসের সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ইয়েচুরির প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের পরে এ দিন সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইয়েচুরি বলেছেন, ‘‘ওঁরা যা বলেছেন, তাকে আমরা ইতিবাচক দিক থেকেই দেখছি। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমরা যে কথাগুলো বলছি, কংগ্রেসও তার সঙ্গে ভিন্নমত নয়। যৌথ আন্দোলনের জন্য আনুষ্ঠানিক বৈঠক কবে কী ভাবে হবে, সেটা ঠিক করতে হবে।’’ 

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিজেপিকে রুখতে বাম ও কংগ্রেসকে পাশে চাইছেন। ইয়েচুরি অবশ্য তৃণমূলের হাত ধরার সম্ভাবনা ফের নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলায় যারা বিজেপিকে জমি তৈরি করতে সাহায্য করেছে, যাদের হাতে আমাদের এত কর্মী খুন হয়েছেন এবং অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কী ভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই হবে? তার চেয়েও বড় কথা, বাংলার মানুষের বড় অংশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আমরা তৃণমূলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে তার পুরো রাজনৈতিক ফায়দা বিজেপি পাবে।’’ তবে ইয়েচুরির সংযোজন, ‘‘তৃণমূল নেত্রী কখনও নিজের ভুল স্বীকার করে নিলে আমাদের ভাবনা বদলানোর কথা ভাবা যাবে!’’ 

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের মনোভাবের প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিকল্প গড়ে তুলতে বামেদের সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলনের পথে যেতে চাই। ইয়েচুরির বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছি।’’ সূত্রের খবর, দিল্লিতে সিপিএমের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের অবসরেই তাদের সঙ্গে কংগ্রেসের আলোচনা হতে পারে।