সমস্ত রকমের পরীক্ষায় পাশ করার পরে অবশেষে সাধারণের চলাচলের জন্য খুলতে চলেছে দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী ৫ নভেম্বর, কালীপুজোর আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করতে পারেন।

দক্ষিণেশ্বর মন্দির সংলগ্ন রানি রাসমণি রোডে যানজট কমানোর ব্যবস্থা করতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছাতেই রাজ্যে প্রথম স্কাইওয়াক তৈরির পরিকল্পনা করা হয় দক্ষিণেশ্বরে। কিন্তু প্রথম দিকে রাস্তার দু’ধারে থাকা দোকানদারেরা জায়গা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। নানা টালবাহানার পরে তাঁদের অন্যত্র পুনর্বাসন দিয়ে ২০১৫ সালের শেষ দিকে স্কাইওয়াক তৈরির কাজ শুরু করে কেএমডিএ।

প্রযুক্তিগত ভাবে স্কাইওয়াক তৈরির কোনও কাজে ফাঁক না রাখতে রাইটসকে দিয়ে প্রতিনয়ত পরীক্ষা করানো হয়েছে ব্যবহৃত লোহা থেকে নাটবল্টু-সহ সব কিছুই। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন থেকে মন্দিরের সিংহদুয়ার পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ মিটার লম্বা স্কাইওয়াকের উপরে রয়েছে ১৩৭টি দোকান। তার দু’পাশে থাকছে তিন মিটার করে হাঁটার জায়গা। নীচে গাড়ি চলাচলের জন্য ৫.৬৫ মিটার রাস্তা ছাড়াও রিকশা, সাইকেল চলাচলের জন্য দু’পাশে রয়েছে দু’মিটার করে জায়গা। স্কাইওয়াকে ওঠা-নামার জন্য ছ’টি সিঁড়ি, চারটি লিফট এবং ১৪টি এসক্যালেটর রয়েছে। এ ছাড়াও স্কাইওয়াকের উপরের অংশ পলিকার্বন শিট দিয়ে ঢাকা হয়েছে। রয়েছে সিসি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও। এলইডি আলোয় সাজানো হয়েছে গোটা স্কাইওয়াক। নীচে দক্ষিণেশ্বর মোড়ে বসানো হয়েছে রানি রাসমণির মূর্তি।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানান, মন্দির চত্বরের ভিতরে রঙিন ফোয়ারা বসানো হয়েছে। স্কাইওয়াকের সঙ্গে সেটিরও উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মানের এই প্রকল্পকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। এত দিন রাস্তা বন্ধ করে কাজের ফলে মন্দিরে আসা-যাওয়ায় ক্ষেত্রে ভক্তদের অনেক সমস্যা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার ফলে দর্শনার্থীরা আজ বড় উপহার পেলেন। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’’