পর পর কেন্দ্রীয় ‘অ্যাডভাইসরি’র খোঁচায় তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে এই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছে তারা। এ বার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে লিখিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হল, কেন্দ্রের দেওয়া রাজনৈতিক হিংসা ও অপরাধের তথ্য মানবে না রাজ্য। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্র যে-সব ‘অ্যাডভাইসরি’ পাঠাচ্ছে, রাজ্য সেগুলিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

ক্ষোভ-অসন্তোষ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এ-পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্রের পাঠানো সব ‘অ্যাডভাইসরি’ বা পরামর্শ-হুঁশিয়ারিরই জবাব দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে কেন্দ্রের দেওয়া আইনশৃঙ্খলা, বিশেষত রাজ্যে রাজনৈতিক হত্যার পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজ্য। ফলে ‘অ্যাডভাইসরি’র উত্তর দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান যে মানা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিয়েই ফেলেছে নবান্ন। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘কেন্দ্র দাবি করলেই তো হবে না! কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যের বাস্তব কোনও সমর্থন নেই। ফলে রাজ্য যে তা মানছে না, সেটা লিখিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যকে জানিয়েছিল, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যুর হার ক্রমশ বেড়েছে। মন্ত্রকের তথ্য, ২০১৬ সালে ৫০৯টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা বেড়ে হয় ১০৩৫। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ৭০০টি এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে রাজনৈতিক হিংসায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়, ২০১৮ সালে সংখ্যাটা ছিল ৯৬। চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন।

রাজ্য প্রশাসনের অন্দরের ব্যাখ্যা, প্রথম ‘অ্যাডভাইসরি’ পাওয়ার পরেই ঠিক হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা হবে। তার পরে ‘অ্যাডভাইসরি’র উত্তর দেবে রাজ্য। সেই যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক হিংসা এবং তার জেরে প্রাণহানির যে-পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিয়েছে, তা যথাযথ নয়। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অন্য ধরনের বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্রের রিপোর্টে রাজনৈতিক আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং ভিন্ন কারণে মৃত্যুর বিভিন্ন ঘটনাকেও একই পঙ্‌ক্তিতে আনার চেষ্টা চলেছে। 

এই বিষয়টিই কেন্দ্রকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নবান্নের অনেক আধিকারিক।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।