ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) নিয়ে রাজ্যের ‘রিভিউ পিটিশন’ খারিজ হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি হরিশ টন্ডন ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় হারে কেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা ডিএ পাবেন না এবং ভিন্ রাজ্যে কর্মরত এ রাজ্যের কর্মীদের সঙ্গে এখানকার সরকারি কর্মীদের ডিএ-র কেন ফারাক থাকবে, তা বিচার করবে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (স্যাট)।

বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে স্যাট-এ মামলা করেছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের দু’টি সংগঠন। ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্যাট জানিয়ে দেয়, ডিএ দেওয়া বা না-দেওয়া রাজ্যের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তার এক মাসের মধ্যে স্যাট-এর রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে কর্মীদের সংগঠন। গত বছরের ৩১ অগস্ট ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়— রাজ্য সরকার যখন রোপা-২০০৯ (রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স) আইন মেনে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করেছে, তখন ডিএ-র অধিকার প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চ স্যাট-কে নির্দেশ দেয়, কেন্দ্রীয় হারে কেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা ডিএ পাবেন না এবং ভিন্ রাজ্যে কর্মরত এ রাজ্যের কর্মীদের সঙ্গে এখানকার সরকারি কর্মীদের ডিএ-র কেন ফারাক থাকবে, তা পুনরায় বিচার করে দেখতে। কারণ, স্যাট ওই দু’টি বিষয় বিচারই করেনি।

স্যাট-এ মামলা চলাকালীনই বিচারপতি টন্ডনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য ‘রিভিউ পিটিশন’ দায়ের করে। রাজ্য আবেদন জানায়, ডিভিশন বেঞ্চ তার রায় পুনরায় বিবেচনা করে দেখুক। কয়েক মাস ধরে কয়েক দফা শুনানি হয় রিভিউ পিটিশনের। ৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার পরে এ দিন রায় ঘোষণা হল। 

আরও পড়ুন: সংসারের সঙ্গেই সামলান রেলগেট

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় পেশ করে এ দিন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) ডিভিশন বেঞ্চে জানান— শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কোনও রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কী হারে ডিএ পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আর্থিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে।

ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এজি-র পেশ করা সুপ্রিম কোর্টের 

রায় আদালত আগেই দেখেছে। ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে তার উল্লেখও রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় 

এই রিভিউ পিটিশনের ক্ষেত্রে 

প্রযোজ্য হবে না। তা শুনে এজি জানান, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় রাজ্য সরকার যাতে স্যাট-এ দেখাতে পারে, ডিভিশন বেঞ্চ সেই সুযোগ দিক। ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে স্যাট-এ হলফনামা দিয়ে সেই রায় পেশ করার সুযোগ দিয়েছে।