রাজ্য সরকার যেখানে ঋণের বোঝায় নাজেহাল, সেখানে বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ের অভাবে সরকারি কাজেই টাকা নষ্ট হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বুধবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে অভিযোগ তুললেন তালড্যাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, সিমলাপালে মাস সাতেক আগে দেড় কোটি টাকা খরচে দেড় কিলোমিটার রাস্তা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর জলের পাইপ লাইন বসাতে সেই রাস্তা খুঁড়েছে।

মমতার উদ্দেশে সমীরবাবু বলেন, ‘‘৩৪ বছরে দু’লক্ষ তিন হাজার কোটি টাকার দেনা আপনাকে শোধ দিতে হচ্ছে। আপনি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা জোগাড় করছেন। আর এক দিকে, দু’টি দফতরের সমন্বয়ের অভাবে টাকা কী ভাবে অপচয় হচ্ছে, আমি তার একটা উদাহরণ দিচ্ছি। আমার বিধানসভার সিমলাপাল ব্লকে সাত মাস আগে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার রাস্তা নতুন করে তৈরি করে জেলা পরিষদ। সাত মাসের মধ্যেই আবার ওখানে জল সরবরাহের জন্য রাস্তা খুঁড়ে নতুন পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। দু’টি বিভাগের মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান কোন কোন দফতরের মধ্যে এটা হয়েছে?

সমীরবাবু জানান, বিডিও-কে নিয়ে তিনি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘দিদি টাকাগুলো তুমি কষ্ট করে জোগাড় করছ। আর টাকাগুলো নষ্ট হচ্ছে।’’ এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান বিডিও-রা এগুলো দেখেন না কেন? বিডিওদের দেখা কাজ নয়? জেলাশাসকই বা দেখবেন না কেন, সে প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই তিনি জানতে চান, ঘটনাটি জেলাশাসককের নজরে আনা হয়েছিল কি না?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি একটা কথা বলে দিই, বিদ্যুৎ দফতর, পূর্ত দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি ইচ্ছে মতো নিজেরা কাটে। একটা রাস্তা তৈরি হচ্ছে, আর একটা নিজেদের কাজ করতে গিয়ে রাস্তা কেটে দিচ্ছে। কেন কোনও সমন্বয় নেই। এখন থেকে বলে দিচ্ছি, বিদ্যুৎ দফতর, পূর্ত দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই সব কাজ করতে হবে। তা না হলে যে যার ইচ্ছে মতো কাজ করছে। শুধু নিজের কাজটুকু ভাবছে, অন্যেরটা ভাবছে না। আমি তা হবে দেব না। অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করতে হয়। এটা জনস্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের দেখা উচিত।’’

মমতা আরও বলেন, ‘‘জেলায় যাঁরা আছেন, তাঁদেরও বোঝা উচিত। জেলায় যাঁরা আছেন, পুরসভা, পঞ্চায়েত সবার বোঝা উচিত। এমন হলে স্থানীয় ভাবে একটা কোর কমিটি গড়ে দেবেন। নিজেরা কথা বলে কাজ করবেন। কোনও রাস্তা কাটতে হলে ঠিক করে নেবেন, কার কতটুকু দায়। একটা ছোট গর্ত করেও অনেক কাজ করা যায়। তার জন্য পুরো রাস্তা কাটা দরকার হয় না।’’ বৈঠকের পরে সমীরবাবু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নজরে ঘটনাটি আসায়, এই ধরনের সরকারি অর্থ নষ্ট এ বার বন্ধ হবে বলে আমি নিশ্চিত। এটা দরকার ছিল।’’

ওই রাস্তাটি জেলা পরিষদ থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পে সিমলাপাল ব্লকে নেওয়া হয়। এ জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় প্রায় দু’কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। রাস্তাটি দুবরাজপুর থেকে পিঠাবাঁকড়া পর্যন্ত দিয়েছে।

বস্তুত, কিছু দিন আগে বারাসতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় রাস্তা খোঁড়া নিয়ে অভিযোগ করেন রাজারহাটের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বিভিন্ন দফতর নিজেদের কাজের জন্য নতুন রাস্তাও খুঁড়ে দিচ্ছে।’’ সেই সভাতেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, সংশ্লিষ্ট পুরসভা বা পঞ্চায়েতকে না জানিয়ে সেই এলাকার রাস্তা খোঁড়া যাবে না। শুধু তাই নয়, যারা রাস্তা খুঁড়বে, কাজ শেষ হলে সেই রাস্তা তাদেরই নতুন করে তৈরি করে দিতে হবে।