• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মোর্চা সরছে, সক্রিয় টিগ্গারা

GJM Rally
মোর্চার মিছিল।—ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টে বিমল গুরুঙ্গের আর্জি খারিজের রেশ পড়েছে ডুয়ার্সের নেপালি ভাষী অধ্যুষিত বিস্তীর্ণ এলাকায়। কারণ, ডুয়ার্সের যে গুরুঙ্গপন্থীরা বিনয় তামাঙ্গ-অনীত থাপাদের শিবিরের সঙ্গে এত দিন দূরত্ব রেখেছিলেন, সেই মোর্চা নেতা বিশাল লামা, রোহিত থাপার মতো অনেকেই অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ডুয়ার্সের বিজেপি নেতারা এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট বৈঠক শুরু করেছেন। সেই কাজে লাগানো হয়েছে মাদারিহাটের বিধায়ক মনোট টিগ্গা ও আদিবাসী নেতা জন বার্লাকে।

সোমবার বিজেপির উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক রথীন বসু বলেন, ‘‘পাহাড়-সমতলের নেপালি ভাষীদের বড় অংশই এখনও তাঁর পক্ষে বলে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুঙ্গের দাবি। সে দিক থেকে দুশ্চিন্তার কারণ দেখছি না। তবে রাজনীতিতে অনেক কিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়। তেমন ভাবেই আমাদের নেতারা প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’’

বিজেপির উত্তরবঙ্গের আর এক নেতা জানান, গুরুঙ্গপন্থীরা শিবির বদলাতে পারেন, এই আশঙ্কায় এর মধ্যেই বাড়তি ঘাম ঝরানো শুরু করেছেন ডুয়ার্সের নেতারা। মনোজ টিগ্গা, জন বার্লা জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় ছোট ছোট বৈঠক শুরু করেছেন। তবে বিনয় শিবিরের দাবি, তাঁদের পাশে না পেলে একক ভাবে বিজেপির পক্ষে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে চা বলয়ের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাল ফল করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, গত বিধানসভা ভোটে মাদারিহাটে মোর্চা নেতারা নেপালি ভাষী এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকায় মনোজ জিগ্গা জিততে পেরেছিলেন। কালচিনির গুরুঙ্গপন্থী নেতা বিশাল লামা বলেন, ‘‘সে সময়ে আমরা দিনরাত দলের হয়ে, মোর্চা-বিজেপি জোটের হয়ে কাজ করেছি। এখন সরাসরি রাজনীতি করতে চাই না।’’

গুরুঙ্গের আর্জি খারিজ হওয়ার জেরেই কি কট্টরপন্থী মোর্চা নেতা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরতে চাইছেন? বিশাল বললেন, ‘‘তা কেন! আমি মোর্চা অনুমোদিত দার্জিলিং, তরাই-ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ইউনিয়নের কাজকর্ম দেখছি। ক’দিন আগেই তো একটা মিটিঙে দলের নেতা বিনয় তামাঙ্গের সঙ্গে কথা হল।’’ বিশাল, রোহিতদের নেতৃত্বে নেপালি ভাষীদের একটা বড় অংশ ডুয়ার্সে গুরুঙ্গপন্থী হিসেবে বিজেপির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছিলেন। গত তিন দিনের মধ্যে সেই ছবিটা পাল্টে গিয়েছে বলে বিজেপি নেতাদের একাংশই একান্তে মানছেন।

বিনয় তামাঙ্গ বলেন, ‘‘ভোটের সময়ে আলাদা রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জেতার পরে যাঁরা বিপদের সময়ে গা ঢাকা দেন, তাঁদের পাশে পাহাড়, ডুয়ার্সের নেপালি ভাষীরা আর থাকবে কেন!’’ তাই জোটসঙ্গীরা দূর সরার আশঙ্কা মাথায় রেখেই চা বলয়ের আদিবাসীদের কাছে টানতে মরিয়া ডুয়ার্সের বিজেপি নেতৃত্ব।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন