প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) বাতলে দেওয়া ফর্মুলাতেই মালদহ জেলায় দলীয় কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে উদ্যোগী হল তৃণমূল। দলীয় সূত্রের খবর, আগে ব্লক কমিটি নয়, পিকের ফর্মুলা মেনে বিধানসভা-ভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ শুরু করল দল।

 রবিবার মোথাবাড়ি ও রতুয়ার বিধানসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার গাজল বিধানসভা এলাকার দলীয় নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠক করে গাজল বিধানসভা কমিটিও ঘোষণা করল দল। গাজলের কমিটিতে বিধায়ক দীপালি বিশ্বাসকে চেয়ারম্যান করে ২৩ জনের কমিটি করা হয়েছে। এ দিন দলের জেলা কার্যালয় নুর ম্যানসনে ওই বৈঠকে থেকে গাজল বিধানসভার কমিটি ঘোষণা করেন দলীয় পর্যবেক্ষক মন্ত্রী গোলাম রব্বানি ও জেলা সভাপতি মৌসম নুর।

লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর মৌসমের হাতে জেলা তৃণমূলের ব্যাটন তুলে দেন  দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় দলকে ঢেলে সাজতে গত জুলাইয়ে ইংরেজবাজার শহর ও ব্লক বাদে জেলার বাকি ১৪টি ব্লক ও পুরাতন মালদহ শহরের জন্য নয়া দলীয় অ্যাডহক কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন দলের অন্যতম জেলা পর্যবেক্ষক ও মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে ও মৌসম। কিন্তু সেই কমিটি প্রকাশ হতেই ঘৃতাহুতি পড়ে। একাধিক ব্লকের দলীয় নেতৃত্ব বিদ্রোহ শুরু করেন। পরপর দু’দিন দল বেঁধে গিয়ে কালিয়াচক-২ ও রতুয়া-১ ব্লকের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ মৌসমের বাড়ির সামনে নজিরবিহীন ভাবে  বিক্ষোভও দেখান। শেষপর্যন্ত ওই অ্যাডহক ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। জেলায় ব্লক কমিটি গঠন নিয়ে দলের দ্বন্দ্ব মেটাতে বিকল্প পথ খুঁজছিল তৃণমূল। 

দলীয় সূত্রের খবর, দ্বন্দ্ব মিটিয়ে জেলায় দলীয় কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শেষে পিকে-র দ্বারস্থ হন দলীয় নেতৃত্ব। পিকে-র দেওয়া ফর্মুলাতেই বিধানসভা-ভিত্তিক কমিটি গঠনে উদ্যোগী হয় দল। জানা গিয়েছে, পিকে-র নির্দেশে জেলায় প্রথম পর্যায়ে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি শুরু করেন দলীয় বিধায়কেরাই। এবার সেই বিধায়কদের চেয়ারম্যান করেই জেলায় বিধানসভা-ভিত্তিক দলীয় কমিটি গঠন শুরু করল তৃণমূল। মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে চেয়ারম্যান করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধানসভা কমিটি ঘোষণা করা হয় রবিবার। এ দিন গাজলের বিধায়ক দীপালিকে চেয়ারম্যান করে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কমিটি গঠন করা হল। 

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা কমিটি গঠন নিয়ে চাপা ক্ষোভ থাকলেও তা নিয়ে বহিঃপ্রকাশ এখনও দেখা যায়নি। আগামী দিনে একই ভাবে বাকি ৯টি বিধানসভার কমিটি গঠন করবে তারা। মৌসম বলেন, ‘‘দ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নেই। দলীয় সিদ্ধান্তেই বিধানসভা-ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। জেলায় দলকে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ। এরপর অঞ্চল কমিটি গঠন হবে, তারপর ব্লক কমিটি।’’