উপর্যুপরি ধাক্কা। পর পর দু’দিনে তৃণমূলের হাতছাড়া ২ বিধায়ক। হাতছাড়া ২ পুরসভাও। সোমবার বিজেপিতে গিয়েছিলেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন গারুলিয়া পুরসভার বোর্ড। মঙ্গলবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। যোগ দিলেন বনগাঁর ১২ জন কাউন্সিলরও।

তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের সব কাউন্সিলরকে। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের পুর এলাকাগুলিতে অপেক্ষাকৃত বেশি খারাপ হয়েছে তৃণমূলের ফল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং কাউন্সিলরদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেই এই সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকেছিলেন। কিন্তু বনগাঁ পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরই সে সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই বৈঠক শুরু হওয়ার অনেক আগেই তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন দিল্লিতে। সঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিধায়ক বিশ্বজিৎও।

নয়াদিল্লিতে দলের সর্বভারতীয় সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ দিন বিজেপিতে স্বাগত জানানো হয় এই বিধায়ক এবং কাউন্সিলরদের। দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায়ের উপস্থিতিতেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: এক জন জুনিয়র ডাক্তারের বাবা হয়ে জানি, ওদের কষ্টটা কোথায়​

বনগাঁ পুরসভায় বেশ কিছু দিন ধরেই অচলাবস্থা চলছিল। তৃণমূলের হাতেই ছিল পুরবোর্ড। কিন্তু চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূলেরই ১৪ জন কাউন্সিলর। অনাস্থা আসা সত্ত্বেও শঙ্কর আঢ্য অবশ্য পদত্যাগ করছিলেন না। বিদ্রোহী হয়ে ওঠা কাউন্সিলরদের নিরস্ত করার চেষ্টায় চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। অবশেষে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে। নেতৃত্বের নির্দেশ পেয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পদত্যাগ করতে বলেন শঙ্করকে। নতুন করে কে চেয়ারম্যান হবেন, কাউন্সিলররা নিজেরাই তা ঠিক করবেন বলেও জ্যোতিপ্রিয় জানান। কিন্তু কাউন্সিলরদের দাবি মেনে নেওয়ার পরে যে এত বড় ধাক্কা অপেক্ষায় থাকবে, তা জ্যোতিপ্রিয়রা সম্ভবত আঁচ করতে পারেননি।

বনগাঁ পুরসভার মোট আসন সংখ্যা ২২। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে দেখা গিয়েছে ১২ জন কাউন্সিলরকে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন বিজেপির সঙ্গে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদল বৈঠকেও যাচ্ছেন না মমতা, জানিয়ে দিলেন চিঠি পাঠিয়ে​

‘‘সততা, নিষ্ঠা যাঁদের নেই, দলের প্রতি আনুগত্য যাঁদের নেই, তাঁদের চলে যাওয়াই ভাল। দলনেত্রীও বলে দিয়েছেন, যাঁরা দলে থাকতে চান না চলে যান। সুতরাং যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে আমরা একটুও ভাবিত নই,’’— বলেছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। জ্যোতিপ্রিয়র কথায়, ‘‘দলে কিছু অসৎ এবং বিষাক্ত লোকজন ঢুকে পড়েছিলেন। দলকে তাঁরা দূষিত করছিলেন। আমরা নিজেরাই চাইছি যে, এই বিষাক্তরা দল ছেড়ে বেরিয়ে যান।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।