বড়দিনের প্রাককালে উৎসবের মেজাজ ডুয়ার্সের জঙ্গলে৷ রবিবার ছুটির দিনে ভিড় উপচে পড়ল গরুমারা, লাটাগুড়ি ও চাপড়ামারির জঙ্গলে৷ পর্যটকদের ভিড়ের চাপে কোথাও কোথাও জঙ্গল সাফারির ট্রিপ দু’গুণ বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন বন দফতরের কর্মীরা৷ নতুন বছর পর্যন্ত জঙ্গলে এই ভিড় থাকবে বলেই মনে করছেন বন দফতরের কর্তারা৷

প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসের শেষ সময় থেকে ভিড় উপচে পড়তে শুরু করে ডুয়ার্সের জঙ্গলে৷ বড়দিনের একদিন আগে এ বছরের ভিড়টা যেন অন্য সব বছরকে ছাপিয়ে গিয়েছে৷ বন দফতরের কেউ কেউ বলছেন, দার্জিলিং-এ পর্যটকরা সে ভাবে এখনও যেতে শুরু না করাতেই ডুয়ার্সের জঙ্গলে এই ভিড়৷ যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ বন দফতরেরই অনেক কর্তা৷ লাটাগুড়ির রেঞ্জ অফিসার শুভেন্দু রায় বলেন, ‘‘গত বছরও বড়দিনের সময় থেকে বর্ষবরণ পর্যন্ত তিল ধারণের জায়গা ছিল না জঙ্গল লাগোয়া রিসর্টগুলিতে৷’’

বন দফতর সূত্রের খবর, এ বছরও রিসর্টগুলির অবস্থা একই৷ লাটাগুড়ি, ধূপঝোরা, চালসা, গরুমারা সর্বত্রই সরকারি বা বেসরকারি রিসর্ট কার্যত ‘প্যাকড-আপ’৷ যার ফলে এ দিন সকাল থেকেই লাটাগুড়ি, গরুমারা, চাপড়ামারির জঙ্গলে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়তে শুরু করে৷ পর্যটকদের ভিড়ের চাপে লাটাগুড়িতে জঙ্গল সাফারি দুই ট্রিপের জায়গায় চার ট্রিপ করাতে হয়৷ গরুমারাতেও চারটি ট্রিপে হয় জঙ্গল সাফারি৷ তার পরেও অনেক পর্যটকই এ দিন সাফারির সুযোগ পাননি৷ গরুমারার এক বন কর্তা বলেন, ‘‘অনেক দিন পর ফের একবার এত ভিড় জঙ্গলে৷ পরিস্থিতি যা তাতে আগামী কয়েক দিন হয়তো সাফারিতে অতিরিক্ত ট্রিপ গাড়ি চালাতে হবে৷’’

বড়দিনের আগেই ছুটির দিন পরায়, এ দিন থেকে পিকনিকেরও হিড়িক শুরু হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে৷ জেলায় সরকারি তালিকা অনুযায়ী ৪১টি পিকনিক স্পট রয়েছে৷ যার বেশির ভাগেই রবিবার প্রচুর মানুষ পিকনিক করতে ভিড় জমান৷ আজ সোমবার পিকনিক স্পটগুলিতে পিকনিক পার্টির সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা৷

দূষণ রুখতে বিভিন্ন পিকনিক স্পটে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে শালপাতার থালা ও মাটির গ্লাস সরবরাহের কথা প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু তার পরেও এ দিন অনেক জায়গাতেই তা শুরুই করা যায়নি বলে অভিযোগ৷ যার মধ্যে রয়েছে তিস্তার পাড়৷ প্রচুর মানুষ এ দিন সেখানে পিকনিক করতে যান৷ কিন্তু অভিযোগ, পাতা বা গ্লাস সরবরাহ থেকে শুরু করে অনেক ব্যবস্থাই এখনও সেখানে হয়নি৷ যদিও স্থানীয় খড়িয়া পঞ্চায়েতের সদস্য দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘আজ, ২৫ ডিসেম্বর থেকে শালপাতা বা মাটির গ্লাস সরবরাহ করা হবে৷ কেউ যাতে প্লাস্টিক বা থার্মোকল ব্যবহার না করেন তাও দেখা হবে৷’’

জলপাইগুড়ি অতিরিক্ত জেলাশাসক অম্লানজ্যোতি সাহা বলেন, ‘‘জেলার সব পিকনিক স্পটেই এ দিন ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল৷ কিন্তু কোথাও তা করা না হয়ে থাকলে, কেন হল না তা খোঁজ নিয়ে দেখব৷’’