যতীন বাগচী রোডের কফি শপের সামনে ঠিক সকাল সাড়ে আটটায় এসে দাঁড়াল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাদা টয়োটা ফরচুনার। তার কিছুক্ষণ বাদেই গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর বোর্ড লাগানো গাড়ি থেকে নামলেন রুদ্রনীল। প্যান কেক, ব্ল্যাক কফি, মশালা ওমলেট এবং অফুরন্ত সিগারেট খেতে খেতে শুরু হল আড্ডা। কখনও মিষ্টি, কখনও টক আর অনেকটাই ঝাল...

 

তা হলে আবার বন্ধুত্ব হয়ে গেল আপনাদের?

পরম: (গার্লিক ব্রেড খেতে খেতে) আবার বন্ধুত্ব? এ কী রে বাবা! আমরা তো বন্ধুই ছিলাম.

রুদ্র: হুমমম...

 

কেন ইয়ার্কি মারছেন? পুরো ইন্ডাস্ট্রি জানে কথাবার্তা বন্ধ ছিল এক বছর...

পরম: আমি একটু ছোট করে বলি...

রুদ্র: (থামিয়ে দিয়ে) দাঁড়া, আমাকে বলতে দে। আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়নি, মতের কিছু অমিল হয়েছিল। কিন্তু সেটার জন্য দাঁত ভেঙে দেব, মেরে দেব— এ সব কিছুই হয়নি।

ছবি: কৌশিক সরকার।

এই ঝগড়াটা তো পুরোটাই আপনাদের কোম্পানি নিয়ে? যে কোম্পানি থেকে হঠাৎ করে পরম বেরিয়ে আসেন...

রুদ্র: হ্যাঁ, কোম্পানির ব্যাপারে ওর কিছু ব্যাপার আমার ভাল লাগেনি। আমার কিছু ব্যাপার ওর ভাল লাগেনি। এ জন্যই আমাদের একে অপরের প্রতি একটা রাগ হয়েছিল। কিন্তু তার পাশাপাশি এটাও ঠিক, এই রাগটা আমার অন্য কারওর ক্ষেত্রে হত না, পরম বলেই হয়েছিল। আমি শিওর পরমও এই একই কথা বলবে।

পরম: একদমই তাই। আমি কিন্তু কোম্পানি ছেড়েছিলাম খুব অ্যামিকেবল টার্মসে। কোনও ঝগড়া মারামারি করে নয়। রুদ্রর কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে আমার অসুবিধা ছিল। ও যে ভাবে কোম্পানি চালাচ্ছিল সেটা আমার পছন্দ হয়নি।

 

সব ভুলে গিয়ে আর কোনও দিন ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানি খুলবেন আপনারা দু’জন?

পরম: না। একসঙ্গে ভাল ফিল্ম বানাব, একটা কমরেড কমরেড ভাব, সব ঠিক আছে। কিন্তু কোম্পানি আর না। কোম্পানি খুলতে গেলে একজনকে ক্রিয়েটিভ দিকটা দেখতে হয়, অন্যজনকে পয়সাকড়ির ব্যাপারটা। আমরা সেটা করছিলাম না। দু’জনেই দু’দিকটাই দেখতে গিয়েছিলাম। ওটা হয় না।

 

ইন্ডাস্ট্রিতে বিরাট গসিপ ছিল, সেই অফিসে আপনাদের দু’‌টো চেম্বারের মাঝখানে একটি খাট নিয়ে...

রুদ্র: (হেসে) কত অফিসে তো কত বড় বাথরুম থাকে, কই তা নিয়ে তো কেউ কিছু বলে না? পাশাপাশি যারা খাট নিয়ে আলোচনা করত, তারা নিশ্চয়ই নিজেদের বাড়ির খাটের সদ্ব্যবহার করতে পারত না বলেই হিংসে করত আমাদের।

পরম: এখানে আমি আর একটা কথা যোগ করি। রুদ্র কিন্তু ওই অফিসে সকাল থেকে থাকে। তাই খাটটা একেবারেই ঘুমোনোর জন্য। যা ভাবছেন তা নয়। (হাসি)

রুদ্র: আর ওই খাটটায় তো পাশাপাশি কেউ শুতেও পারত না।

পরম: (চোখ মেরে) পাশাপাশি সব সময় শুতে হবে খাটে কে বলল...

 

কোনও দিন পরমের মত জানা যায়নি, কিন্তু হঠাৎ করে রুদ্রনীলের তৃণমূলে যোগ দেওয়া, মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে ভাষণ দেওয়া— এগুলোর সঙ্গে পুরনো রুদ্রকে মেলাতে পারেন?

পরম: রুদ্র তো কলেজে থাকাকালীন সক্রিয়ভাবে এসএফআই করত। আমার প্রথম ছবি, ‘জিও কাকা’র শ্যুটিং হচ্ছিল ২০০৯-এর লোকসভা ভোটের সময়। ভোটের দিনও শ্যুটিং ছিল। তার মধ্যেই রুদ্র আমাকে এসে বলেছিল, কিছুক্ষণ শ্যুটিংটা বন্ধ রাখতে কারণ ও ভোট দিতে যাবে।

আমি নিজে বামফ্রন্ট সরকারের প্রতি ক্রিটিক্যাল ছিলাম। রাস্তায়ও নেমেছিলাম নন্দীগ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই সরকারের কিছু ব্যাপারেও যথেষ্ট ক্রিটিকাল হয়েছি যদিও সবার সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ব্যক্তিগতভাবে ভাল। কিন্তু আমি এমনিতেই রাজনৈতিক এস্টাব্লিশমেন্টের বিরুদ্ধে।

সেখানে রুদ্রর এই তৃণমূলে যোগ দেওয়া, রকের আড্ডার ভাষায় বলতে গেলে তো একরকম ‘দলবদল’। ইন্দ্রনীল সেন বা অরিন্দম শীলও তো একই জিনিস করেছে। শুধু শুধু রুদ্রকে দোষ দিয়ে লাভ কী বলুন?

 

আচ্ছা, রাজনীতি ছাড়ুন। তিনটে এমন জিনিস বলুন, যা একে অপরের ক্ষেত্রে আপনাদের ঘোর অপছন্দের?

পরম: (অমলেট মুখে দিয়ে) রুদ্রই বলুক প্রথমে...

 

ঠিক আছে, পরমের কোন তিনটে জিনিস আপনার অপছন্দের, রুদ্র?

রুদ্র: চূড়ান্ত ডিপ্লোমেসি। সঙ্গে ভয়ঙ্কর ডিসিপ্লিন। যেহেতু আমি নিজে অগোছালো, তাই ওর ডিসিপ্লিনটা পছন্দ নয়। দ্বিতীয়ত, নিজের মতটা সব সময় ঠিক মনে করে। নিজের মতটা ওর কাছে একশোয় একশো। বাকিরা পঞ্চাশ। আর তৃতীয়ত, নিজের কোনও ভুল স্বীকার না করা। সেটা ও নিজে নিজে গিলে নেয়।

 

এ বার পরম বলুন। রুদ্রর তিনটে জিনিস যা আপনার অপছন্দের!

পরম: দূরদর্শিতার অভাব। উদাহরণ দিয়েই বলছি। আমাদের মধ্যে তো অনেকেই আছেন যাঁরা সাহিত্যিক হতে চেয়েছিলেন কিন্তু ডাক্তার হয়ে গিয়েছেন। কেউ ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইঞ্জিনিয়র হয়ে গিয়েছেন। রুদ্রর তেমনই একটা ন্যাচারাল কমেডির প্রতি ন্যাক আছে। এখানে আমি কমেডিকে একেবারেই ছোট করছি না। হায়েস্ট আর্ট ফর্ম ভেবেই কথাটা বলছি। কমেডি সেন্স এত ভাল, এত সহজাত, কিন্তু ব্যাটা সেটা থেকে খালি পালিয়ে যায়। ওর ইচ্ছে শুধু হিরো হওয়ার, স্টার হওয়ার। আমার সেটা একেবারে পছন্দ নয়।

 

বাকি দুটো?

নিজের ব্যাপারে অসম্ভব ভুল একটা এস্টিমেশন। পুরোটা গণ্ডগোলের। আর থার্ডলি, অসম্ভব রেস্টলেস আর রেকলেস। ওর আর একটু ঠান্ডা মাথায় কেরিয়ারটা নিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

 

বুঝলাম...

পরম: আর একটা কথা বলি...

 

সিওর...

পরম: রুদ্র অসম্ভব ফ্ল্যাশি। চকরা বকরা জামা, বেল্ট, সানগ্লাস—ক্ল্যাসিক্যাল স্মল-টা‌উন সিনড্রোম। একটা সময় রুদ্র মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেও ভয় পেত। তারপর সেটাকে অতিক্রম করল এই ফ্ল্যাশি ভাবটা দেখিয়ে। তারপর ফ্ল্যাশি ভাবটা হয়ে উঠল ওর বর্ম। ওর কাছে যা জামাকাপড় আছে, কলকাতায় খুব কম অভিনেতার আছে।

২০০৭-এ ‘চলো লেটস গো’‌র শ্যুটিংয়ে ও ১৪ হাজার টাকার শুধু জামাকাপড় নিয়ে গিয়েছিল, কারণ অঞ্জন দত্ত ওকে বলেছিল, ‘তুই কিন্তু হিরো’। তারপর যে দিন অ়ঞ্জনদা ঘরে কস্টিউম দেখতে এলো, রুদ্র ওর সবচেয়ে দামি জ্যাকেটটা দেখাবে, ঠিক তক্ষুনি অঞ্জনদা বলল, ‘বাহ, জ্যাকেটটা তো দারুণ। বাবান তুই এটা পরবি...’ (হাসি)

রুদ্র: (হাসতে হাসতে) কারেক্ট।

পরম: কিন্তু এত শত বলেও বলছি, অনেককেই তো আমরা পার্টিতে হুইস্কি নিয়ে ‘কী খবর গুরু’ বলে জড়িয়ে ধরি, ছবি তুলি। তাদের অনেকের থেকে, ভাল মানুষ রুদ্র।

রুদ্র: থ্যাঙ্ক ইউ। আর আজকে হয়তো কোথাও আউটডোর হচ্ছে, স্টার-ফার হওয়ার জন্য আমরা আলাদা ঘর পেয়েছি কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি আর পরম একই ঘরে থাকার চেষ্টা করব।

পরম: এখানে আমি একটা কথা বলি?

‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা’: পরমব্রত-রুদ্রনীল।
ছবি: কৌশিক সরকার।

বলুন...

পরম: আগের সেনটেন্সটা কী বলল রুদ্র শুনলেন? এই যে আমরা ‘স্টার-ফার হওয়ার জন্য আলাদা ঘর পেয়েছি’। ‘স্টার-ফার’।

ওই দু’টো শব্দ ছাড়াও কিন্তু ওই সেনটেন্সটা বলা যেত, মানেটা বদলাত না। কিন্তু ও সেটা করবে না। ওর জীবনে সেটাই ক্রাইসিস। স্টার হতে হবে ওকে। তবে কেন এ রকম হতে চায় সেটার কারণ আছে ওর কাছে...

 

কী কারণ রুদ্র?

রুদ্র: দেখুন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে পাঁচ ফুট পাঁচ ই়ঞ্চির কালো অভিনেতা তো লিড রোলে অভিনয় করেছে। ‘হাওয়া বদল’‌য়ের মতো ছবি তো কলকাতা শহরে হিট হয়েছে। তা হলে আমি নিজেকে স্টার বলতে লজ্জা পাব কেন? আমাকে এই জায়গাটা তো কষ্ট করে পেতে হয়েছে। আমি তো ভাগ্যবান। আমি আজকেও মনে করি, আমার থেকে শত কোটি প্রতিভাবান অভিনেতা ছিল খরাজ মুখোপাধ্যায়দের ব্যাচে। কিন্তু তারা সেই সম্মান পায়নি। স্টার হওয়াটা আমার... আমার...

পরম: (কথাটার রেশ ধরে) ... জীবন সংগ্রাম। বললাম না রুদ্র হ্যাজ হিজ রিজনস। এখন তো আবার কাজও করছি আমরা...

 

ছবির নাম ‘চকোলেট’। তাই তো?

রুদ্র: ইয়েস, সুজন মুখোপাধ্যায় মানে নীল ছবির পরিচালক। প্রযোজক গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্টের শ্যামসুন্দর দে। স্ক্রিপ্টটা আমি লিখেছি...

পরম: এবং সত্যি বলছি, রুদ্র যে এত ভাল স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে, আমি জানতাম না।

 

রুদ্রনীল কি তা হলে আগে খারাপ স্ক্রিপ্ট লিখতেন?

পরম: না, খারাপ লিখত না। কিন্তু একটা বড় প্রবলেম থাকত। মানে রুদ্রর স্ক্রিপ্টের বিষয়বস্তুটা দারুণ হত। দুর্দান্ত সব মণিমাণিক্য ছড়ানো থাকত স্ক্রিপ্টে। কিন্তু একটা বিরাট ডায়মন্ডের পাশে দেখতাম একটা ছোট্ট পাথর রয়েছে। তার পরের সিনে আবিষ্কার করতাম, একটা বিরাট পাথরের পাশে কোথায় একটা ছোট রুবি লুকিয়ে রয়েছে যেটার ভ্যালু ও নিজেই জানে না। মাত্রার ঠিক থাকত না। সেগুলো পরে ঠিকঠাক করতে জান কয়লা হয়ে যেত। কিন্তু এই স্ক্রিপ্টটা প্রায় ফ্ল-লেস।

 

পরম তো ‘চকোলেট’-এর স্ক্রিপ্টটা ফ্ল-লেস বললেন। এমন কোনও স্ক্রিপ্ট আজ অবধি লিখেছেন পরম যেটা আপনার ফ্ল-লেস মনে হয়েছে?

রুদ্র: আমাদের অফিসে তিন বছর আগে বসে ‘লড়াই’-এর যে প্রথম স্ক্রিপ্টটা পরম শুনিয়েছিল, সেটা ফ্ল-লেস ছিল। ইট ওয়াজ ম্যাজিক। কিন্তু জানুয়ারি মাসে যে ছবিটা পর্দায় দেখলাম, সেটা দেখতে দেখতে আমার সে দিনের ওই ন্যারেশনের কথা মনে হচ্ছিল। কষ্ট হচ্ছিল। পুরুলিয়ার লাল মাটির গন্ধ ছিল যে স্ক্রিপ্টটায়, সিনেমায় দেখলাম সেই গন্ধটা আর নেই। কেমন একটা পিচ রাস্তার গন্ধ। বুঝলাম ছবিটা বানানোর সময় পরম কিছু হিসেব করেছিল, ধান্ধাবাজি করেছিল, যেটার ফল ও পেয়েছে। এবং সর্বোপরি, আমি যে স্ক্রিপ্টটা শুনেছিলাম সেটা অঞ্জন দত্তকে মাথায় রেখে লেখা ছিল... প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নয়।

 

পরম কি একমত?

পরম: পার্শিয়ালি একমত। আমি বলছি না কাস্টিংটা ভুল ছিল। কিন্তু যেটা লিখেছিলাম, সেই ছবিটা বানাতে পারিনি সেটা অ্যাডমিট করছি।

 

আচ্ছা, অফিস নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল এটা তো সবাই জানে। কখনও গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে ঝামেলা নিজেদের মধ্যে?

পরম: (হাসি) না, কোনও দিনও না।

 

কোনও কমন প্রেমিকা নিয়ে ঝামেলা হয়নি বলছেন...

পরম: (হাসি) না, প্রেমিকা নিয়ে হয়নি। কমন কিছু খুচরো পড়ে গিয়েছিল। (অট্টহাসি) ওই পানের দোকানের পাঁচ টাকা কয়েনের মতো। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে...

রুদ্র: একটা কমন প্রেমিকার কেস হয়েছিল কাকা...

পরম: ইয়েস, কারেক্ট, কারেক্ট। (হাসি)

 

আচ্ছা, পরমের গার্লফ্রেন্ড ইকা কি পরমকে বদলে দিয়েছে?

রুদ্র: ইকা পরমকে বদলে দিয়েছে কি না জানি না কিন্তু কালাপানি পেরনোর পর তো মানুষের পরিবর্তন হয়। তা ওর লন্ডনে গিয়ে থাকা, ওখানে পড়াশোনা করা, এটা ওকে বদলেছে তো বটেই। ওর একটা নাকউঁচু ভাব ছিল। কিন্তু ও যত না নাকউঁচু, তার থেকে বেশি নাকউঁচু মনে করত লোকজন। স্নব বলত ওকে। বাইরেটা হ্যারিসন ফোর্ড দেখাত পরম কিন্তু ওর ভেতরে যে একটা নিবারণ শতপথী রয়েছে, যার পৈতেটা দেখা যায়, সেটা মানতে রাজি ছিল না। আজকের পরমের সেটা মানতে অসুবিধা হয় না...

পরম: এটা একদম ঠিক অ্যাসেসমেন্ট। ওই বাইরে থাকার সময়টায় আমি রিয়েলাইজ করেছিলাম, আমার নিবারণ শতপথীকে নিয়ে তো লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আগে ওই নিবারণকে নিয়ে আমার ম্যাসিভ প্রবলেম ছিল। খালি ভিতরের ওই
মানুষটাকে আমি দূরে দূরে সরিয়ে রাখতাম। সে সামনে এলে লজ্জা লাগত। আজ আমি তাকে আনন্দে মেনে নিয়েছি।

 

রুদ্রনীলের সঙ্গে ইকার সম্পর্ক কী রকম?

পরম: ইকা লাভস রুদ্র।

 

মেঘে মেঘে বয়স তো কম হল না, রুদ্রর কি তা হলে এ বার বিয়ে করা উচিত?

পরম: না, উচিত নয়। ডিজাস্টার হয়ে যাবে। কারণ লাস্ট পাঁচ-ছ’বছর যে সব মেয়ে ওর বান্ধবী হয়েছে, তাদের কাউকে দেখেই মনে হয়নি তারা রুদ্রকে হ্যান্ডেল করতে পারে। তার চেয়ে বরং ফিল্মের বাইরে ওর কিছু বান্ধবী ছিল, যারা হয়তো ওর বান্ধবী হিসেবে সে রকম পরিচিতি পায়নি, তারা রুদ্রকে বেটার হ্যান্ডেল করত।

 

শেষ প্রশ্ন, একে অপরের প্রতি কোনও লাস্ট মেসেজ?

পরম: ওকে আমি একটা কথাই বলব। নিজের চিন্তাধারাটা আর একটু স্ট্রিমলাইন করা উচিত ওর...

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায় মনে করেন টালিগঞ্জের ‘ফ্যাব ফাইভ’-য়ে রুদ্রনীল থাকতে পারতেন।

পরম: ‘ফ্যাব ফাইভ’ কি ‘ফ্যাব থ্রি’ জানি না কিন্তু কেন ও ‘ফ্যাব ফাইভ’-য়ে নেই, সেটা নিয়ে ওর চিন্তা করা উচিত। আর দয়া করে ক্রমাগত এই স্টার হওয়ার চেষ্টাটা বন্ধ করা উচিত।

 

আর রুদ্রনীল? পরমব্রতর জন্য লাস্ট মেসেজ?

রুদ্র: ধান্দাবাজি করে ছবি বানানো উচিত নয় পরমের। ছবি বানানোর আগে ইংরেজি ডিভিডি দেখা বন্ধ করা উচিত। যেহেতু প্রধানত ও একজন শিল্পী, অত ক্যালকুলেটিভ, হিসেব কষা উচিত নয় ওর জীবন নিয়ে।