গত বছরে হিন্দি ছবিতে একচেটিয়া রাজত্ব ছিল রিমিক্স ও পুরনো গানের নতুন ভার্সনের। সেই ভিড়ে যে ক’টি গান শ্রোতাদের প্লেলিস্টে জায়গা করে নিয়েছে, তার কৃতিত্ব পঞ্জাবি গায়ক-গীতিকার-কম্পোজ়ার গুরু রনধওয়ার। দিন কয়েক আগেই শহরে দ্বিতীয় বারের জন্য শো করেছেন ‘নতুন’ গায়ক। আসলে বলিউডে তিনি নতুন। তবে গানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক পুরনো।

এমবিএ করতে বাসে করে গুরুদাসপুর থেকে দিল্লি এসেছিলেন গুরু। তবে নজর ছিল বলিউডে গায়ক হওয়ার। পঞ্জাবে তাঁর গান ইতিমধ্যে জনপ্রিয়। ‘টি সিরিজ়’-এর সঙ্গে জুটি বাঁধতেই আর পিছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাঁকে‌। ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এ ‘সুট সুট’, ‘তুমহারি সুলু’তে ‘বন জা রানি’, ‘সিমরন’-এ ‘লাগদি হ্যায় ঠায়’... তিনটেই সমান জনপ্রিয়।

‘‘বলিউডের সব সময়ের চেষ্টা, জনপ্রিয় গান ছবিতে ব্যবহার করার। আমার মতো আঞ্চলিক শিল্পীদের জন্য এটা অনেক বড় মার্কেট। আর আমাদের দৌলতে আঞ্চলিক মার্কেটেও পৌঁছে যাচ্ছে বলিউড। আমার আগে হানি সিংহ, বাদশাকে বলিউডই ডেকে এনেছিল,’’ বললেন তিনি। হানি সিংহই কি তবে আপনার আসার পথ প্রশস্ত করে দিলেন? ‘‘ঠিক তা নয়। আগেও তো দলের মেহেন্দি গান গেয়েছেন ছবিতে। হংস রাজ হংসের গান ববি দেওলের ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। পঞ্জাবের জনপ্রিয় গান ‘দিল লাগে কুড়ি গুজরাত কী’ও অনেক ছবিতে অনেক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে,’’ মত তাঁর। ‘সোনু কে টিটু কী সুইটি’তে ‘কৌন নাচদি’ আর ‘দিল জঙ্গলি’তে ‘নাচলে না’র মতো পার্টি সং বানালেও গুরু কিন্তু সব জঁরের গান বানাতেই স্বচ্ছন্দ। বললেন, ‘‘ছবির গানের জন্য অন্য রকম প্রয়োজন থাকলেও আমি কিন্তু আমার মতোই গান বানাই। আর সেই মতোই ছবিতে দৃশ্য তৈরি হয়। ‘বন জা রানি’ গানটা যেমন দিয়েছিলাম, তেমনই ব্যবহার করা হয়েছে ছবিতে।’’

গুরুর ইচ্ছে, শাহরুখ খান, সলমন খান আর অক্ষয়কুমারের কণ্ঠে প্লেব্যাক করার। গুলজার ও সাজ্জাদ আলি খানের মিউজ়িক শুনে তিনি বড় হয়েছেন। গুরুর কথায়, ‘‘টিকিট কেটে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কনসার্ট শুনতে আসেন, এর চেয়ে ভাল অনুভূতি কিছুতে হয় না। আমার গান শুনে যেন তাঁরা খুশি হন, এটাই চেষ্টা থাকে।’’

গুরু নিজেও সব সময় খুশি থাকেন। ‘‘আমার কখনও মনখারাপ হয় না। ভগবান এত কিছু দিয়েছেন, মন খারাপ করব কেন?’’ আর খুশির মুহূর্তে তাঁর সঙ্গী গুরুবাণী (শিখদের ধর্মীয় সঙ্গীত)। ছবির গানের পাশাপাশি তাঁর ইন্ডিপেন্ডেন্ট গানও সমান জনপ্রিয়। ‘হাই রেটেড গাবরু’, ‘লাহৌর’, ‘ফ্যাশন’-এর গায়ক তাই মুচকি হেসে বললেন, ‘‘গাবরু মানে গুডলুকিং, স্মার্ট ছেলে। ঠিক আমার মতোই।’’