অজয় দেবগণ এমনিতে খুব কম কথার মানুষ। ছবির প্রচারের সময় যা একটু-আধটু  কথা বলেন। তাঁর আগামী ছবি ‘রেড’-এর ডিরেক্টর ‘নো ওয়ান কিল্‌ড জেসিকা’ খ্যাত রাজকুমার গুপ্ত। অভিনেতার বিপরীতে ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ। অজয় মনে করেন, ‘রেড’-এ ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত এমন অনেক জবাব থাকবে যা সাধারণ মানুষ হয়তো জানতেন না।

 

প্র: আয়কর দফতরের রেড-সংক্রান্ত কোনও অভিজ্ঞতা আছে আপনার? 

উ: অন্য কারও নয়, আমার নিজের বাড়িতেই একবার ইনকাম ট্যাক্স এর রেড হয়েছিল। আমি তখন নাসিকে, শুট করছিলাম। নব্বইয়ের দশকের ঘটনা। এটুকু মনে আছে, অফিসাররা এসে বাড়িতে কিছু উল্টোপাল্টা কাজ করেছিল আর সেই কারণে আমি ওঁদের বিরুদ্ধে কেসও করেছিলাম। পরবর্তী কালে কেসটা কিন্তু জিতেও গিয়েছিলাম। ‘রেড’ ছবিটা করতে গিয়ে আমি এমন অনেক অজানা তথ্যের সম্মুখীন হই, যা জানতে পেরে নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যেমন আশি-নব্বইয়ের দশকেই ইনকাম ট্যাক্স অফিসারদের খুন করে রাস্তার নর্দমায় ফেলে রাখা হতো! ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া আমার মতে একটা সোশ্যাল ক্রাইম।

 প্র: আপনি নিজে কতটা সচেতন এ সব বিষয়ে? 

উ: আমি একটা কথাই সব সময় চিন্তা করি— যেন রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি। এমন কোনও কাজ না করি, যাতে নিজেরই রাতের ঘুম নষ্ট হয়। শান্তি বিঘ্নিত হোক এমন কাজ আমি করি না। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। কিন্তু চেষ্টা করি নিয়ম মেনে চলতে। 

প্র: আপনার আর কাজলের বিয়ের ১৯ বছর হল। বিয়ের দিনের কোনও ঘটনা মনে পড়ে, যা এখনও স্মৃতিতে উজ্জ্বল? 

উ: আমি আর কাজল ৩০ মিনিটের মধ্যে বিয়েটা সেরে ফেলেছিলাম। ঘর ছেড়ে ছাদের উপর আমরা বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের পর কাজল আবার ২ মাসের হনিমুন প্ল্যান করেছিল। সে বার আমরা ওয়র্ল্ড টুরে গিয়েছিলাম। কিন্তু এক মাস পরেই ফেরত চলে আসি! দু’মাস ধরে হনিমুন করা আমাদের পক্ষে একটু বেশিই লম্বা ছুটি হয়ে গিয়েছিল (হেসে)।

প্র: মেয়ে নাইসা এখন বিদেশে পড়তে গিয়েছে। ওর কেরিয়ার প্ল্যান কী? 

উ: এই মূহূর্তে পড়াশোনাটাই ওর কাছে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। ভবিষ্যতে ও যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটা সাপোর্ট করব। এখন মোটে ১৪ বছর বয়স, অনেক সময় আছে। 

প্র: মেয়েকে কখনও কোনও মূল্যবোধ শেখানোর চেষ্টা করেছেন? 

উ: মূল্যবোধের পাঠ দেওয়ার বয়স কিন্তু এখন আর নেই। যা দেওয়ার আর ওর যা নেওয়ার, সেটা আগেই হয়ে গিয়েছে। মিডল ক্লাস পরিবারের যা যা ভ্যালুজ আমি আর কাজল শিখেছি, সেগুলোই ওকে বলেছি। আর আমি নিশ্চিত, নাইসা সেগুলো সব মনেও রেখেছে। আর যে রকম দরকার, সে ভাবেই সেগুলো ও প্রয়োগ করে। আমাদের দু’জনের মধ্যে বাচ্চাদের ব্যাপারে কাজলই যা একটু স্ট্রিক্ট। আমি বেশি প্যাম্পার করি, বকাঝকা কম করি।   

প্র: ২৭ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটালেন, সেটে যখন অজয় দেবগণ যান, কী মানসিকতা কাজ করে? 

উ: নতুন কাজ করার অদম্য ইচ্ছে আর কাজ করার খিদে। এই দুটো জিনিস যদি একজন অভিনেতার জীবন থেকে চলে যায়, তা হলে তাঁর অ্যাক্টিং ছেড়ে দেওয়া উচিত। আজ এত বছর পরও যখন নতুন ছবির সেটে প্রথম দিন যাই, আমার খুব কৌতূহল থাকে, মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন উঁকি মারে। একজন প্রকৃত আর্টিস্টের পরিচয় এ সব বিষয়ের মধ্য দিয়েই জানা যায়। ফিল্মের বিষয় নির্বাচনের সময়ও আমি সতর্ক থাকি।  

প্র: আপনার কি মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারকাদের ভক্তরাও পাল্টে যাচ্ছেন? তাঁদের পছন্দ এখন আলাদা...? 

উ: এক কথায় বললে, আমাদের জেনারেশনের ভক্তরা অনেক বেশি লয়াল। তাই আমাদের স্ট্রং একটা ফ্যান বেস রয়েছে। আই অ্যাম গ্রেটফুল! এখনকার দর্শক কনটেন্ট নিয়ে বেশি চিন্তাভাবনা করেন। স্টার ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই। তার সঙ্গে কনটেন্টও ভাল হওয়া খুব জরুরি। আমরা কিন্তু অনেক লাকি এই ব্যাপারে (হেসে)। 

প্র: আগের অজয় দেবগণ কথাই বলতেন না। এখন তো প্রোমোশনের খাতিরে অনেক কথা আপনাকে বলতে হয়। নিজেকে বদলানো শক্ত ছিল? 

উ: খুব একটা কিন্তু বদলাইনি। একটা সত্যি কথা বলি? ফিল্ম কতটা ভাল বা মন্দ সেটা কিন্তু শুক্রবার দুপুরের শোয়ের পরেই আমরা জানতে পেরে যাই। ছবি খারাপ হলে কোনও প্রচার ছবিকে বাঁচাতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে ওয়র্ড অফ মাউথ ছবির সবচেয়ে বড় প্রোমোশন।