প্র: কনট্রোভার্সি দিয়ে শুরু করি?

উ: (হাসতে হাসতে) এখন এতগুলো ঘুরছে।

প্র: বেশ, তা হলে ‘জগ্গা জাসুস’ ছবি নিয়ে ঋষি কপূর যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তাই নিয়ে বলুন। নেগেটিভ কথা বলেছেন উনি। বলেছেন, আপনি নাকি শেষ মুহূর্তে হুটোপাটি করে ছবি শেষ করেন।

উ: এ রকম হয় নাকি? যাঁরা সিনেমা বানান, তাঁরা জানেন, রাতারাতি ছবি বানানো যায় না।

প্র: আচ্ছা, ঋষি কপূর কি ঠিক এর আগের টুইটটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এরকম করলেন? কারণ, মহিলা ক্রিকেট টিমের ফাইনালের দিন সৌরভের বিখ্যাত জামা খুলে ওড়ানোর ছবি পোস্ট করেন উনি। তার পরে মেয়েরা জিতলেও এই জাতীয় ছবি দেখতে চান বলে— আলটপকা কী একটা মন্তব্য করে বসেন ঋষি।...

উ: জানি না, টুইটারে উনি কোন মন্তব্যটা আগে করেছেন আর কোনটা পরে... তবে সব কিছুর উত্তর পেয়ে যাবেন, কারণ ২০১৮-র জুনে রণবীর আবার আমার সঙ্গে ছবি করছে।
প্র: আপনি তো প্রবাসী বাঙালি। ভিলাইয়ের ছেলে...

উ: আমি কিন্তু প্রচণ্ড ভাবে কলকাতার ছেলে। গড়িয়ার পাঁচ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে আমার মামার বাড়ি। ছোটবেলায় প্রতি বছর ছুটিতে মাসখানেক টানা থাকতাম কলকাতায়। এই তো এখনই হোটেলে ইন্টারভিউগুলো দিয়ে গড়িয়া চলে যাব। রাতে ওখানেই থাকব। জমিয়ে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া হবে। ওখানে মামা, মামি— সবাই আছেন।

প্র: আচ্ছা, ‘গ্যাংস্টার’-এ আপনি তো প্রথমে কোয়েল মল্লিককে রোলটা অফার করেন। কিন্তু আপনি ‘সানন্দা’র মডেল ফাইলও দেখেছিলেন, এটাও তো সত্যি?

উ: হ্যাঁ, দেখেছিলাম। কোয়েল যখন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য করতে রাজি হল না...নতুন মুখ খুঁজছি... তখন ‘সানন্দা’র মডেল ফাইল দেখেছিলাম। ‘সানন্দা তিলোত্তমা’র জাজ হয়েও এসেছিলাম।

প্র: এ বার কঙ্গনা-বিতর্কে আসি?

উ: (হাসতে হাসতে) কোনটা? ওর তো আবার অনেকগুলো!

প্র: এই যে হালে নেপোটিজম (স্বজনপোষণ) নিয়ে কর্ণ জোহরের শো-এ বোমা ফাটালেন। আপনি তো নিজেই ওঁকে নতুন মুখ হিসেবে রেস্তোরাঁ থেকে পছন্দ করেছিলেন। তার পরেও...

উ: ফিফটি-ফিফটি সাপোর্ট করি কঙ্গনাকে। এটা ঠিক, বিখ্যাত কারও সন্তান হলে সুবিধে পাওয়া যায়। কিন্তু তার মানেই সে পারফর্মও দারুণ করবে, তা তো হতে পারে না। তা হলে তো মিঠুনদার ছেলে মিমোও বড় স্টার হয়ে যেত এত দিনে। অত বড় স্টার মিঠুনদা!

প্র: শুধু মিঠুনদা কেন, জিতেন্দ্রর ছেলে তুষার, হেমা মালিনীর মেয়েরা, ডিম্পলের মেয়েরা— কেউই তো...

উ: তবে হ্যাঁ ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকতে সুবিধে হয় ওদের। ফিল্মে লঞ্চটা খুব ভাল করে হয়।

প্র: আচ্ছা, আপনি বাংলায় একটাও ছবি বানাচ্ছেন না। কেন?

উ: (হেসে) আমি বড় অডিয়েন্স চাই।

প্র: কোনও মানে হয়! হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় বা শক্তি সামন্তেরা কিন্তু একই ছবি দু’টো ভাষায় করতেন।

উ: সত্যি বলতে, আমি পুরোটাই বাংলায় ভাবি। বাংলায় লিখি। প্রীতমও তা-ই। তার পরে আমরা হিন্দিতে ট্রান্সলেট করি।

প্র: আপনার স্ত্রী তো শান্তিনিকেতনের মেয়ে। রবি ঠাকুরের দিকটা উনি সামলে দেন নিশ্চয়ই। আপনি তো টিভির জন্য হিন্দিতে ‘চোখের বালি’ পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছেন। তবু বাংলায় ছবি...

উ: প্রচুর হেল্প করে তানি (স্ত্রী)। এই তো সে-দিন ও আমাকে ‘গোষ্পদ’ মানেটা বোঝাল। আমি জানতাম না।

প্র: সব সুযোগ-সুবিধে নেবেন বাংলা ভাষা থেকে কিন্তু বাংলায় কিছু করবেন না। বেশ মজা? ঋতুপর্ণ ঘোষ কিন্তু হিন্দি থেকে অভিনেতাদের এনে বাংলায় ছবি বানাতেন।

উ: (হাসি)

প্র: ভাল কথা, আপনার মুখের সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের মুখের মিল আছে — এটা নিশ্চয়ই অনেকে বলেছে?

উ: প্রচুর লোক বলেছে, ইনফ্যাক্ট আমি তো ভাবছি, বাবুদাকে (সন্দীপ রায়) গিয়ে বলব, আমি জিম-টিম করে রোগা হয়ে নিচ্ছি। বেণুদার (সব্যসাচী চক্রবর্তী) পরে আমাকে ‘ফেলুদা’য় অভিনয় করতে দাও।

প্র: অন্য বিতর্কে আসি। হালে সুজিত সরকার বাচ্চাদের রিয়্যালিটি শো নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এ দিকে আপনি সোনি টিভির জন্য ‘সুপার ডান্স রিটার্নস’-এর জাজ হচ্ছেন দ্বিতীয় বার।

উ: আমি সুজিতের সঙ্গে এক মত নই। আমার সঙ্গে শিল্পা-ও (শেঠি) জাজ হচ্ছে। শিল্পা এক জন মা। আমাদের নিজেদেরও তো সন্তান আছে। আমরা বুঝি।

প্র: ওদের নাকি টানা কাজ করানো হয়?

উ: না, না। আমরা অ্যালাও করি না। কোন শো-টা দেখে সুজিত এ রকম বলল বুঝতে পারছি না। ওকে ফোন করব। দেখি।