• LOGO
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রেমের প্রত্যাবর্তন

জাপানে রাতের মেট্রোয় দীপিকা গেয়ে উঠলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। গলা মেলালেন রণবীর। হঠাৎই ডিস্কোথেক-এ ঢুকে পড়লেন দু’জনে। মুম্বইয়ে বসে সেই গল্পই শোনালেন ইমতিয়াজ আলি। শুনলেন স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়

1-1
  • LOGO

‘তামাশা’ নিয়ে তো অনেক তামাশা হচ্ছে...

মানে?

 

শোনা যাচ্ছে দীপিকা আর রণবীর ছবির প্রোমোশনের জন্য সারাক্ষণ একসঙ্গে। আর তা দেখে নাকি ক্যাটরিনা চটে যাচ্ছেন...

দীপিকা আর রণবীর সুপারস্টার। ওদের রিলেশনশিপ নিয়ে সারাক্ষণই নানা কথা ওড়ে। তবে ওদের সম্পর্ক নিয়ে ক্যাটরিনা চটেছে কি না, এটা আমার জানার কথা নয়। স্টারদের রিলেশন নিয়ে কেন যে সবাই এত মাথা ঘামায়!

 

কী বলছেন? আপনি নিজেও তো রণবীর-দীপিকার কেমিস্ট্রিটার কথা ‘তামাশা’র প্রচারে বারবার বলে যাচ্ছেন।

‘তামাশা’-তে রণবীর অ্যান্ড দীপিকা টুগেদার ইন ফুল ভ্যালু। সকলে অপেক্ষা করে আছে ওদের দেখার জন্য। জুটি হিসেবে এই ডিম্যান্ডটা কিন্তু ওদের আগের সম্পর্কের জন্য তৈরি হয়নি।  পরিচালক হিসেবে আমি দেখেছি দীপিকা আর রণবীর একসঙ্গে থাকলে, দুয়ে দুয়ে পাঁচ হয়ে যায়। স্ক্রিপ্টে নেই এমন অনেক সেনসিটিভ মুহূর্ত ওদের বডি মুভমেন্ট থেকে উঠে আসে। সম্পর্কের এই স্বাভাবিক আচরণ ‘তামাশা’র জন্য খুব জরুরি ছিল। এ ছবিতে রণবীর-দীপিকা ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারিনি।

 

কাজল-শাহরুখেরও কেমিস্ট্রি কিন্তু...

(থামিয়ে দিয়ে) দেখুন, দীপিকা-রণবীর আমার খুব ভাল বন্ধু। আপনি বলতে পারেন আমি বায়াসড্। কিন্তু এ প্রজন্মের হট জুটি বলতে আমি আর কাউকে ভাবতে পারি না।

 

সে তো ‘জব উই মেট’-এর সময়ও আপনি বলেছিলেন শাহিদ আর করিনাই হট।

আরে, ধারণা কি বদলায় না!

 

‘তামাশা’র শ্যুটে জাপান গিয়ে হঠাৎ আপনারা তিন জন নাকি আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন?

ওহ্, এটা তো শ্যুটের বাইরের কথা। খুব পার্সোনাল। আপনি তো ‘তামাশা’ নিয়েই কথা বলবেন বলেছিলেন!

শুনুন, স্টারদেরও তো রিল্যাক্স করতে ইচ্ছে হয়। রাতে রাস্তায় ঘুরতে ইচ্ছে করে।

 

ঠিকই তো। সারা রাত তিন জন ঘুরে বেড়ালেন?

আপনি দেখছি ছাড়বেন না... ইট ওয়াজ ওয়াইল্ড পার্টি। আমি, রণবীর, দীপিকা। সারা রাত ঘুরেছি মেট্রোয়। হঠাৎ দীপিকা ধরল ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সঙ্গে রণবীর গলা মেলাল। কেউ চেনে না আমাদের!  দীপিকা হঠাৎ ডিস্কো থেক-এ ঢুকে নাচতে শুরু করল। আমি আর রণবীরও নাচতে শুরু করলাম। রণবীর অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে দারুণ নাচল। উফ্! খুব মজা করেছি। আমাদের এই উদ্দাম, যা খুশি করার প্যাশনটাই ‘তামাশা’য় আছে। আমি ওদের দেখতে দেখতেই সিনগুলো বদলে ফেলি। আর ওরা দু’জনেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আমার ছবি তৈরির প্রসেসে যোগ দেয়। ছবিটাই অন্য রকম হয়ে যায়...

 

শুনেছি রণবীর নাকি আপনাকে হিংসে করে?

ওটা জাস্ট মজা। ‘লভ আজকাল’য়ের সেটে আমার আর রণবীরের  যখন দেখা হয়েছিল তখন দীপিকা আমার লুক নিয়ে সারাক্ষণ রণবীরের কাছে প্রশংসা করত। তাতেই রণবীর মজা করে বলেছিল ও আমায় হিংসে করে। এগুলো আর কিছুই নয়। দীপিকা আর রণবীরের খুনসুটি।

 

তা হলে মানছেন তো রণবীর দীপিকার মধ্যে একটা প্রেম আছে।

(থামিয়ে দিয়ে) দেখুন প্রেম শব্দটা আমি আর ব্যবহার করি না। ওটা বাদ দিয়ে প্লিজ প্রশ্ন করুন।

 

ইমতিয়াজ মানেই প্রেমের গল্প। আবেগ আর এন্টারটেনমেন্ট। আপনি কী করে প্রেমকে বাদ দিচ্ছেন?

আগে আমিও প্রেম শব্দটাকে ব্যবহার করতাম। কিন্তু পরে দেখলাম একজন অভিনেতাকে কোনও সিন বোঝাতে গিয়ে আমি যদি বলি ‘ইউ লভ দ্যাট গার্ল’ তাতে সেই অভিনেতা ঠিক কী অ্যাকশন নেবেন সেটা নিজে বুঝতে পারেন না। সম্পর্কের নানা রকম স্তর আছে। কানেক্ট করাটাই আসল। শুধু প্রেম বললে কোনওটাই বলা যায় না। প্রেম না বলে আমি সেই অভিনেতাকে বলি,  ইউ ওয়ান্ট টু বি উইথ হার, বা জাস্ট কিস হার। দৃশ্য তৈরি হয়ে যায়।

 

কিন্তু ‘তামাশা’র শ্যুটের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটানো, প্রোমোশনে একসঙ্গে থাকতে থাকতে দীপিকা আর রণবীরের বন্ধুত্বটা যে গভীর হল, এটা তো মানবেন?

হ্যাঁ, ‘তামাশা’র জন্য ওদের বন্ধুত্বটা গভীর হয়েছে...

 

আচ্ছা, ‘তামাশা’য় রণবীর আর দীপিকার চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে সেন্সর বোর্ড আপত্তি করেছিল?

ঠিক সেই রকম কিছু নয়। কিসিং সিন নিয়ে আজ আর এত বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই।

 

শুনেছি ‘তামাশা’র বেদ নাকি আপনারই মতো?

দেখুন, আমাকে ভেবে তো আমি স্ক্রিপ্ট লিখি না। তবে আমি বিশ্বাস করি কোনও পরিচালককে মানুষ হিসেবে বুঝতে গেলে তাঁর ছবি দেখা উচিত।  বেদ উচ্ছল, ম্যাজিকাল! ওর চরিত্র লিখতে গিয়ে মনে হয়েছিল পৃথিবীর সামনে আমি যেন নিজেকে প্রকাশ করে ফেললাম।

 

এ বছর রণবীরের ‘রয়’ বা ‘বম্বে ভেলভেট’ কোনওটাই চলেনি। লোকে বলছে ইমতিয়াজ-রণবীর ‘রকস্টার’য়ের সেই জুটি একমাত্র ‘তামাশা’য় রণবীরের ভাগ্য ফেরাবে।

সচিন কি সব সময় সেঞ্চুরি করেছে? অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানদের মতো সুপারস্টারদের কি কোনও ছবি ফ্লপ করেনি?

 

আচ্ছা, অমিতাভকে নিয়ে ছবি করতে ইচ্ছে করে না?

এখনও ভাবিনি। তবে আমি খুব ভয় পাই অমিতাভ বচ্চনকে। যাক গে, যা বলছিলাম। তা হলে রণবীরের ফ্লপ নিয়ে এত কথা কেন? রণবীর যে জাত-অভিনেতা, সেটা তো আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রণবীর এ বারও আমাকে ছোট্ট ডিটেলিংয়ের জায়গাগুলোয় অবাক করেছে। হি বিকেম মাচ মোর পিওর অ্যাক্টর। এই ছবিতে ওর অভিনয় কেউ ভুলতে পারবে না।

 

আর দীপিকা?

দীপিকা এ ছবিতে রণবীরের মিউজ। ছবিতে বেদ পারিবারিক চাপে বিধ্বস্ত। তারা অর্থাৎ দীপিকাই তার স্বপ্নের পথ তৈরি করে দেয়। বেদ-এর ভেতরের সত্তাকে আবিষ্কার করে। ‘লভ আজকাল’-এর সেই দীপিকা এখন অনেক বেশি কনফিডেন্ট। ক্যামেরার সামনে চেহারা নিয়ে কোনও খুঁতখুঁতানি নেই ওর। এই ছবি রণবীর আর দীপিকার প্রচুর শেড-কে ধরে রেখেছে।

 

শোনা যাচ্ছে, হলিউডের ‘বিগ ফিশ’-এর মতো নাকি আপনার বেদ?

না, অনেক বদল আছে। নয়তো ‘বিগ ফিশ’-এর হিরোর সঙ্গে বেদের কোনও তফাত থাকত না। ‘বিগ ফিশ’ আমারও খুব প্রিয় ছবি।

 

করিনা আর শাহিদের জুটিকে ‘তামাশা’য় রাখলেন না কেন?

দেখুন ‘তামাশা’ লেখার সময় রণবীর-দীপিকাকেই ভেবে লিখেছি।

 

নিন্দুকেরা বলেন, ইমতিয়াজের ছবি মানেই কনফিউজড লাভার, ট্রাভেল... কোনও একটা সম্পর্ক দিয়ে ছবি শেষ হওয়া। একঘেয়ে মনে হয় না?

আমি তো সচেতন ভাবে কিছু করি না। তবে নিজে ট্রাভেল করতে খুব ভালবাসি। তাই ছবিতেও এসে যায়। কে কী ভাবে দেখবে, সেটা তাঁর ওপর নির্ভর করে। ‘তামাশা’য় যেমন... মধ্যবিত্ত নর্থ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলিতে বাবা-ছেলের ঝগড়া আছে, উদ্দাম ভেসে যাওয়া আছে, আবার একমুঠো ভালবাসাও আছে। ছবিতে একটা ভাংরা গান আছে। সেই গানের মধ্য দিয়েই আমরা কোনও এক  হারানোর যন্ত্রণাকে খুব মজার ভঙ্গিতে সেলিব্রেট করেছি।


জাপান, কর্সিকা, শিমলা, কলকাতায় শ্যুট হয়েছে। আচ্ছা, কলকাতায় ওই চাইনিজ ব্রেকফাস্টের জায়গাটা আছে?

কোনটা?

ওই সকালেই সব শেষ হয়ে যায় যেখানে। উফ্! আমার ওখানে যাওয়ার খুব ইচ্ছে।

 

টেরিটি বাজার?

রাইট, রাইট। কবে যে যাব! ভোরে উঠতে পারি না বলে ঠিক করে রেখেছি, এ বার কলকাতায় এলে সারা রাত জেগে থাকব টেরিটি বাজার যাওয়ার জন্য। কলকাতার খাওয়াটা খুব মিস করি।

 

তা হলে পরের ছবিতে কলকাতা থাকছে তো?

পরের ছবি মানে?

 

কেন? লায়লা মজনুর গল্প নিয়ে ছবি করছেন না?

আমি লায়লা মজনুর গল্প নিয়ে একটা চিত্রনাট্য লিখেছি। দেখি কী হয়?

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন