থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি

পরিচালনা: মার্টিন ম্যাকডোনা

অভিনয়: ফ্রান্সেস ম্যাকডরমান্ড, স্যাম রকওয়েল

৬/১০

 

গাঢ় লাল রঙের চারকোনা বিলবোর্ড। পরপর তিনটে। তাতে দগদগে কালো হরফে কতকগুলো প্রশ্ন। এক মায়ের (ফ্রান্সেস ম্যাকডরমান্ড) প্রশ্ন। টাউনের পুলিশ প্রশাসনকে। ধর্ষিত মেয়ের অপরাধীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ পুলিশের টনক নড়াতে যথেষ্ট... সত্যিই কি? সেই উত্তর স্পষ্ট করে না দিয়ে আরও যেন জোরালো হয়ে ওঠে ছবি।

‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’ এমনই কতকগুলো দ্বন্দ্বমূলক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় দর্শককে। জীবিত অবস্থায় যে মেয়ের ভরসা হতে পারেনি তার মা, মৃত্যুতে সেই মা কতটা পারবে তাকে সুবিচার আদায় করে দিতে? এবং ক্ষতবিক্ষত চেতনায় সেই মা যখন টাউনের স্তব্ধ জীবনের পুকুরে সশব্দ ঢিল ছোড়ে, ঢেউয়ের ধাক্কায় সে-ও কি টাল খায় না? কী হতো যদি মায়ের বদলে একজন বাবা ওই বিলবোর্ডগুলো দাঁড় করিয়ে দিত কয়েকটা প্রশ্নচিহ্নের মতো?

আইন-প্রশাসনের ব্যর্থতা, আগলহীন সমাজের উগ্র জীবন, সমকামিতা, বর্ণবৈষম্য— অনেক বিষয়কে একসঙ্গে বুনে দিয়েছেন পরিচালক। ফলে কখনও কখনও ছবির উদ্দেশ্য বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। ফেমিনিস্ট ছবি হলেও মায়ের চরিত্রটি ছাড়়া বাকি নারী চরিত্রগুলোতে যত্নহীনতার ছাপ। তারা সকলেই ভীষণ ফাঁপা! তবে ফাঁকগুলো পুষিয়ে যায় ফ্রান্সেস ম্যাক়ডরমান্ডের বোবা দৃষ্টির অভিনয়ে। পুলিশ অফিসার উইলোবি-র ভূমিকায় উডি হ্যারেলসনের মিঠেকড়া অভিনয় আর ডেপুটি অফিসার ডিক্সন হিসেবে স্যাম রকওয়েলের ক্যারিকেচারিশ অভিনয়ও মনে রাখার মতো। টুকরো চরিত্রে পিটার ডিঙ্কলেজকে ঠিক মতো ব্যবহার করা হল না বলে মনে হতে পারে। তবে অভিনয়ের জন্য অন্তত একটা অস্কারও এই ছবির প্রাপ্য।

 ছবিটা ব্ল্যাক কমেডি। ফাঁকে ফোকরে হাসি পেলেও ছবির প্রশ্নগুলো কিন্তু তিরের মতোই বিঁধবে। কী হতো যদি প্রশ্নগুলো আমাদের চেনা কেউ তুলে ধরত?