গত বৃহস্পতিবার আনন্দ প্লাসে প্রকাশিত হওয়া প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ়কারের কিছু বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আনন্দ প্লাসকে তিনি বলেন, প্রসেনজিতের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর কিছু বলার আছে। সৃজিত হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর বক্তব্য লিখে পাঠান। সেই লেখাই এখানে তুলে ধরা হল।

বক্স অফিসে পুজোর অন্য ‘বড়’ ছবিটিকে ধুলিসাৎ করার পরে পড়লাম, ‘এক যে ছিল রাজা’র পাওয়া প্রশংসা নিয়ে কিছু ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে, যার সংশোধন জরুরি। প্রথমে যদি ক্রিটিকদের প্রশংসার কথা বলি, তা হলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ‘এক যে ছিল রাজা’কে ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’-এর চেয়ে বেশি বা সমতুল্য রেটিং দিয়েছে। এ বার যদি সাধারণ মানুষের কথা বলি, আমার ছবি যাঁদের ভাল লাগে, তাঁদের কথা ছেড়েই দিলাম। যাঁরা আমার ছবির তীব্র সমালোচনা করেন বা শেষ দু’-তিন বছরে করে এসেছেন, তাঁদের মতেও ‘এক যে ছিল রাজা’ আমার সেরা বা সেরা তিনের বা সেরা পাঁচের মধ্যে থাকবে।

‘কিশোর কুমার জুনিয়র’ নিয়ে আমিও খারাপ-ভাল কিছু বলব না। কিন্তু ছবিটি আসলে কেমন হয়েছে, সেটা বন্ধুবান্ধবের পরিধির বাইরে কান পাতলে যে কেউ বুঝতে পারবেন। সব শেষে শুধু তিনটে কথা বলব...

এক, যদি কেউ ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’-এর পারফরম্যান্সকে ‘দোসর’, ‘চোখের বালি’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘জাতিস্মর’, ‘২২শে শ্রাবণ’, ‘মনের মানুষ’ বা ‘ময়ূরাক্ষী’র চেয়ে এগিয়ে রাখেন, আমার কিছু বলার নেই।

আরও পড়ুন, ‘পলিটিক্স করে কিশোর কুমার জুনিয়র চালাল না’

দুই, কিছু সত্যি হজম করা সত্যি মুশকিল হয়। হতেই পারে ‘এক যে ছিল রাজা’তে যিশু সেনগুপ্ত তাঁর অভিনয় এবং তার জন্য পাওয়া অভূতপূর্ব প্রশংসায় অন্য অভিনেতাদের ম্লান করে দিয়েছেন। হতেই পারে একটা সফল জুটির এক জন একটি বিশেষ পুজোয় আর এক জনকে টেক্কা দিয়েছেন। তা হলেও কিছু ফলাফল, পলিটিক্সের ভিত্তিহীন অজুহাত না দিয়ে মেনে নেওয়াই শোভন।

তিন, আমি সাধারণত কোনও ইন্টারভিউয়ে দেওয়া মতামতে রিঅ্যাক্ট করি না। কিন্তু হঠাৎ ২০১৩ সালের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। উড়ো কথায় কান দিয়ে, শুটিংয়ের কিছু দিন আগে যখন আমার নায়ক আপন খেয়ালে ‘মিশর রহস্য’ করবেন না ঠিক করেন, যখন আমি আর আমার টিম চার মাস বাড়িতে কাজ ছাড়া বসেছিলাম এই সিদ্ধান্তের জেরে, তখন উনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘কে সৃজিত? আগে দশটা ছবি করুক, তার পরে কথা বলবে।’’

‘এক যে ছিল রাজা’ আমার ত্রয়োদশতম ছবি। তাই সাহস করে দু’-চার কথা বললাম। কেউ অপরাধ নেবেন না।