দিন কয়েক আগেই ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’র প্রচারে কঙ্গনা রানাউত বলেছিলেন, ‘‘আমার ব্যর্থতা দেখার জন্য কিছু লোক মুখিয়ে আছেন।’’ তবু কুইনের আত্মবিশ্বাস টাল খায়নি। হয়তো নিন্দুকেরাই জেদ বাড়িয়ে দেয় তাঁর। কঙ্গনার শেষ কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ। আলোচনা কম হয়নি তা নিয়ে। তাই ‘মণিকর্ণিকা’র সফল হওয়া তাঁর জন্য খুব জরুরি। শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, পরিচালক হিসেবেও এই ছবি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পরিচালকের দায়িত্ব নিতেই ছবির কাজ ছেড়ে দেন সোনু সুদ। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার দিন দুয়েকের মাথায় কঙ্গনার বিরুদ্ধে পরিচালক কৃষের তোপ, ‘‘ফার্স্ট ক্রেডিট নিয়ে কঙ্গনা কি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন?’’

তবে এত কিছুর পরেও ‘মণিকর্ণিকা’র প্রথম চার দিনের বক্স অফিস রেকর্ড মন্দ নয়। ছবি হিট হবে কি না, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে সমালোচক ও দর্শকের মতে, খুঁত থাকলেও ছবিটি উতরে গিয়েছে। ‘কুইন’ ও ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’-এর বক্স অফিস সাফল্যের পরে কঙ্গনার স্টার স্টেটাস নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তিনি একার কাঁধেই ছবি টানতে পারেন। এবং এই ছবিও তার ব্যতিক্রম নয়।

ছবির প্রতিটি দৃশ্যেই কঙ্গনা, রানি লক্ষ্মীবাইয়ের বেশে। কিন্তু ‘সিমরন’-এর মতো এই ছবিতে একঘেয়েমি তৈরি হয়নি। বরং কঙ্গনার তীক্ষ্ম অভিনয়ে প্রতিটি আবেগ পর্দায় যথাযথ ফুটে উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে চিত্রনাট্য নিয়ে, পরিচালনা নিয়েও। তবে অভিনেত্রী কঙ্গনা সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। এবং এত বিতর্কের পরেও কঙ্গনার ব্র্যান্ড ইমেজ অক্ষুণ্ণ!

তবে পরিচালক কৃষের অভিযোগও ফেলে দেওয়ার নয়। কারণ এই অভিযোগ কঙ্গনার বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে। ছবির কতটা অংশ তিনি পরিচালনা করেছেন, কেন তিনি অন্যদের ছাপিয়ে নিজের স্ক্রিনস্পেস বাড়িয়েছেন, সোনুর চরিত্রের পরিবর্তন... বিতর্ক চলবেই। সব প্রশ্নের সদুত্তর হয়তো কঙ্গনার কাছেও নেই। তাই তাঁকে বাঁচাতে পাল্টা টুইট করেছেন বোন রঙ্গোলি। কিন্তু এত কিছুর পরেও পুরুষশাসিত ইন্ডাস্ট্রিতে লড়াই করে যে নিজের ছবিকে দাঁড় করাতে পেরেছেন কঙ্গনা, সেটাই বা কম কী!