‘‘সাহিত্য হবে একেবারে বাস্তবতার ভিত্তিতে রচিত...’’ বলতে বলতে মহাশ্বেতা দেবী পৌঁছে যান উদাহরণে, ‘‘যেমন রবীন্দ্রনাথের, রবীন্দ্রনাথকে যদি সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায়, বোঝা যায় তাঁর কর্মময়তা... দিনরাত কাজের মধ্যে ব্যাপৃত থাকার শিক্ষা। জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকার শিক্ষা।’’ বলেন ‘‘আমি প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, নামজাদা লোকেদের, এমনকী পরিবর্তনকামীদেরও, তোমরা কি কখনও সেখানে গেছ যেখানে মানুষ বছরে একদিন ভাত খায়?’’ এ ভাবেই চিন্ময় গুহের সঙ্গে কথোপকথনে আরও অনেক দিকপাল মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। বর্তমান সংস্করণে মহাশ্বেতার মতোই যুক্ত হয়েছেন ফ্রাঁস ভট্টাচার্য সৌরীন ভট্টাচার্য কুণাল বসু। 

প্রতিটি সাক্ষাৎকারের আগে, প্রত্যেকের মনন ও কর্ম কী ভাবে তাঁদের বিশিষ্ট করে তুলেছে, তা লিখেছেন চিন্ময়। বিশিষ্ট জনেদের সঙ্গে এই বহুস্তরীয় কথোপকথনে উঠে আসে জরুরি সব চিন্তাসূত্র। যেমন ফ্রাঁস ভট্টাচার্য, বঙ্গসাহিত্যের ফরাসি অনুবাদক, যিনি ব্রিটিশ আমলের বাঙালি চিন্তকদের ইতিহাস লিখেছেন, তাঁর মতে ‘‘বঙ্কিম খুব বড় সাহিত্যিক হলেও সমাজ সংস্কারে অংশগ্রহণ করেননি। সময় ও শিক্ষার ওপর নির্ভর করতে চেয়েছেন।’’ সঙ্গে এও খেয়াল করিয়েছেন, ‘‘ফরাসি পাঠক এখনও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অত্যন্ত আগ্রহী।’’ ঔপন্যাসিক, কমিউনিস্ট পরিমণ্ডলে বড়-হয়ে-ওঠা কুণাল বসু বলেছেন ‘‘কেয়ারি করা বাগানের মতো মিষ্টি নিটোল বাংলা গদ্য আমার পছন্দ নয়... ভাষাকে আঘাত করলেই সে বাঁচবে, নয়তো ফুলদানিতে সাজানো ফুলের মতো শুকিয়ে যাবে।’’ আর সমাজ-অর্থনীতি-সংস্কৃতির দুঁদে তাত্ত্বিক সৌরীন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ‘‘ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, এতে আমি প্রচুর সময় দিয়েছি তখন। খুব মন দিয়ে খেলতাম।... ফুটবলার হবার ইচ্ছে ছিল, হল না। সবার সব কিছু তো হয় না।’’ 

প্রাককথনে চিন্ময় গুহ বলেছেন: ‘‘শুধু মানুষটি ও তাঁর কাজকে বোঝার চেষ্টাই নয়, সমকালীন সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি বয়ান খোঁজাও ভেতরে ভেতরে আমার লক্ষ্য ছিল।’’ কে নেই! রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত ফাদার দ্যতিয়েন জ্যোতিভূষণ চাকী বাদল সরকার তপন রায়চৌধুরী পুরুষোত্তম লাল শঙ্খ ঘোষ অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত শিশিরকুমার দাশ 

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত দীপেন্দু চক্রবর্তী এবং মৃণাল সেন— তাঁকেই এ-বই উৎসর্গ করেছেন চিন্ময়।

আয়না ভাঙতে ভাঙতে/ চিন্ময় গুহ-র সঙ্গে কথোপকথন
চিন্ময় গুহ 
৫০০.০০ 
পরম্পরা