নিখিলেশ পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলেন সিঁড়িঘরের দরজার দিকে। রবিবারের দুপুরে সবাই ঘুমোচ্ছে, বাড়ি একেবারে স্তব্ধ, বেরিয়ে পড়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করলে চলবে না। সিঁড়িঘরের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এক মুহূর্ত ভাবলেন। সদর দরজা ভিতর থেকে লাগানো, নিরাপত্তার জন্য সিঁড়ির দরজাটা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়ে যাওয়া উচিত। বাগানের লোহার গেটটা খুব সাবধানে খুলে নিখিলেশ রাস্তায় বেরিয়ে এলেন। কেমন একটা নিষিদ্ধ আনন্দ হচ্ছে এখন। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে সুযোগ পেলে ভরদুপুরে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কখনও লাটাই আর ঘুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন, কখনও লোকের বাগানে আম-জাম-লিচু চুরি করতেন। যেন কয়েক যুগ বাদে তিনি ছেলেবেলার সেই স্বাধীন আনন্দ ফিরে পেতে চলেছেন। নিখিলেশ বুকপকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করে সুইচ অফ করে দিলেন। শীতের দুপুরে মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে ঝিমুনিতে আচ্ছন্ন শহরের চেনা দৃশ্য দেখতে-দেখতে মিনিট দশ বাদেই পৌঁছে গেলেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

মোবাইলে অ্যালার্ম বাজতেই উঠে বসল রিপন। দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুম পাচ্ছিল খুব, চোখ জড়িয়ে আসছিল, শোয়ার আগে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিল। সাড়ে তিনটায় মলয়স্যরের কাছে ফিজিক্স পড়তে যেতে হবে। পড়ে ফেরার পথে কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে মোমো খাওয়ার প্ল্যান আছে আজ। এই সব ব্যাপারে টাকার জন্য তার উদারহস্ত দাদুই ভরসা। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে এল রিপন। বুড়োর দম আছে বলতে হবে। সত্তর বছর বয়সেও এই খাড়া সিঁড়ি বেয়ে সারা দিনে কমপক্ষে চল্লিশ বার ওঠানামা করে! নিজের মতো থাকবে বলে দোতলার একমাত্র ঘরটি দাদুর পছন্দ। রিপন ডাক দিল, “পিতামহ,জেগে আছ?’’

কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রিপন ঘরে ঢোকে। বিছানার উপরে ফতুয়া আর পাজামা কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে আছে। বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে লাগানো। ছাদে উঠেও খুঁজে না পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল রিপন। আশ্চর্য ব্যাপার, ঘরে কোথাও নেই। তার মানে বুড়ো বাইরে বেরিয়েছে। নাহ, মোমো খাওয়া আর হবে না।

রিপন ঠেলা দিল, “মা, দরজাটা লাগিয়ে দাও। পড়তে যাচ্ছি।”

শ্রীলা চোখ খুলে বলল, ‘‘এর জন্য ঘুমটা ভাঙিয়ে দিলি আমার? দাদুকে ডাকলেই পারতিস।”

“সে নেই।”

“নেই মানে!”

“কোথাও বেরিয়েছে মনে হচ্ছে।”

“এক বার ফোন করে জেনে নে। কোথায় গিয়েছে, কখন ফিরবে?’’

“মোবাইল সুইচ অফ!”

শ্রীলা ভুরু কুঁচকে বলে, “মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন? চিন্তার বিষয়। বাবা বেশি কিছু খেলেন না দুপুরে। মাটন খাওয়া বারণ হলেও দু’কুচি দিতে চাইলাম। নিলেন না। শরীর নাকি ভাল নেই!”

“পিতামহের বৈরাগ্য এসেছে। বয়স হচ্ছে তো। আমার দেরি হচ্ছে। কিছুক্ষণ বাদেই ফিরে আসবে। ভাবার কিছু নেই। অন্য বুড়োদের মতো ়গ্র্যান্ডফাদার ঝামেলা করে না, নিষেধ মানে, টিকটিক করে না একদম।’’

 

দীপ্তেশ চায়ে চুমুক দিয়ে বলে, “রিপন তিনটের একটু পরেই বেরিয়েছে। তার মানে বাবা তার কিছু আগে বেরিয়েছে। সাড়ে চারটে বাজল। এ দিকে মোবাইল অফ। বাবা তো না বলে কোথাও যায় না।’’

শ্রীলা পরামর্শ দেয়, “বাবার বন্ধুদের ফোন করে জানলে হয় না?’’

“হুম। ওঁদের ফোন করেই দেখি।”

বেশ কয়েকজনকে ফোন করে দীপ্তেশ হতাশ হল। তার কপালে ভাঁজ পড়ল, “বাবা তো এ রকম করে না! ফিরতে দেরি হলে বলে দেয়।”

শ্রীলা চিন্তিত মুখে বলে, “সেটাই ভাবাচ্ছে। হয়তো বাইরে একটুক্ষণের জন্য বেরিয়েছিলেন। তাই কিছু বলে যাননি। ওই সময় আমরা সবাই ঘুমোচ্ছিলাম বলে হয়তো বিরক্ত করেননি। বাইরে বেরিয়ে কিছু হল না তো? আজ অব্দি বাবা এক বারের জন্যও আমাদের চিন্তায় ফেলেননি।”

দীপ্তেশ মাথা নাড়ে, “ধুর! তুমি অকারণে চিন্তা করছ আর আমাকেও  চিন্তায় ফেলে দিচ্ছ। ঠিক সন্ধের আগে বাবা ফিরে আসবে।”

“কিন্তু মোবাইল বন্ধ কেন? ব্যাপারটা ভাল ঠেকছে না। আমি ওঁর ঘরে খুঁজে দেখেছি। ঘরে রেখে যাননি, মোবাইল সঙ্গে নিয়েই বেরিয়েছেন। রাগ-টাগ হল না তো?’’

দীপ্তেশ মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলে, “বাবা একদম সেন্টিমেন্টাল টাইপ নয়। তা ছাড়া এমন কিছু হয়েছে কি যে বাবার প্রবল অভিমান হবে, মুখ ফুলিয়ে রাগের মাথায় বেরিয়ে পড়বে?’’

“না, তা অবশ্য ঠিকই বলেছ। নার্সিংহোম থেকে ফিরে ওঁর খাওয়াদাওয়া, ঘোরা, সব কিছুর উপরে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছ। তবু কখনও মুখ বেজার করতে দেখিনি।’’

দীপ্তেশ বলল, “আমি এক বার বেরই। স্টেশন আর বাসস্ট্যান্ড, এই দুটো জায়গা দেখে আসি। বাবা মাঝেসাঝে বসে থাকে জানি।”

 

******

নিখিলেশ স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। প্রতি বার এক দল তরুণ উৎসাহ নিয়ে পিঠেমেলার আয়োজন করে, এ বারও করেছে। গত বার ছেলে-বৌমার সঙ্গে এসেছিলেন, স্টলে স্টলে রকমারি পিঠের সম্ভার দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিরেছিলেন। ওরা সব কিছু ঘুরেফিরে দেখলেও একটা পিঠেও কেনেনি। পিঠেমেলা যে চিত্রকলার প্রদর্শন নয়, শুধু দেখতে আসাটা হাস্যকর, কিছু না কিনে ফিরে যাওয়া যে ঘোর অপরাধ, সেটা ওদের বুঝিয়ে লাভ হয়নি। অকাট্য যুক্তি দিয়েছিল দীপ্তেশ, “কিনলেই তোমার খেতে ইচ্ছে হবে। আর তোমাকে না দিয়ে নিজেরা গপগপ করে পিঠে খাব তেমন নিষ্ঠুর আমরা নই।” 

“কিছু পিঠেতে তেমন চিনি থাকে না।”

“পিঠে মানেই হল চিনির  ডিপো। তুমি এত যুক্তিহীন কথা বলছ কেন? তা ছাড়া তোমার আজকাল খুব অম্বল হচ্ছে। এ সব না খাওয়াই ভাল।’’

ক্ষুণ্ণ নিখিলেশ চুপ করে গিয়েছিলেন। তার আগের বছরে সময়ের ভুলে আপশোস করেছিলেন। মেলা শুরু বিকেল চারটায়, তিনি হেলেদুলে সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছেছিলেন। ততক্ষণে সমস্ত পিঠে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। স্টল একেবারে ফাঁকা, মেলা শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ। এ বছর আর ভুল করেননি, পিঠেমেলা বিকেল চারটেয় শুরু জেনেও অনুকূল পরিস্থিতি বুঝে চুপিচুপি দুপুর আড়াইটায় বেরিয়ে পড়েছেন, আগেভাগে এসে হাজির হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। মিথ্যে কথা বলা তাঁর ধাতে নেই, তাই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে জেনে মোবাইলের সুইচ অফ করে দিয়েছেন। চার নম্বর স্টলের পিঠেগুলো দেখে বেশ পছন্দ হল তাঁর। দুধপুলি, পাটিসাপটা, চন্দ্রপুলি দুটো করে নিলেন। এক বার ভাবলেন ঘরের জন্য কিছু পিঠে কিনে নিয়ে যাবেন। তেমনটি করলে একেবারে ধরা পড়ে যাবেন, ছেলে-বৌ-নাতি তিন জনে মিলে চেঁচামেচি জুড়ে দেবে। চার মাস আগে সুগার লেভেল সাংঘাতিক বেড়ে যাওয়ার জন্য নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হয়েছিল, ইনসুলিন নিতে হয়েছিল টানা দেড় মাস। প্রেশার আজকাল খুব ওঠানামা করে। তার পর থেকেই তিন জোড়া চোখ তাঁকে সদাসতর্ক পাহারায় রাখে। খাবার ব্যাপারে সামান্য অনিয়মের উপায় নেই। আজ তিনি উশুল করে নেবেন, কেউ বাধা দেওয়ার নেই, এই ছ’খানা পিঠের স্বাদ তারিয়ে তারিয়ে নিতে হবে এখন। স্টলের সামনে পাতা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসলেন নিখিলেশ। এ বার ফোনটা অন করা যাক, অনেকক্ষণ হয়ে গিয়েছে। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হতে দেরি হওয়ার কারণে একটু আগে স্টলগুলো খোলা হয়েছে। এখন আর তাঁকে কে বাধা দেবে? খবর পেয়ে ছুটে এলেও তার আগে এই ছ’খানা পিঠে সাবাড় করে দেবেন।

ফোন খোলামাত্র রিংটোন বেজে উঠল, “বাবা, তুমি কোথায়?’’

“বেলতলার মাঠে।”

“অত দূরে গেছ কেন?’’

“টোটো পনেরো মিনিটে যেখানে পৌঁছে যায় সেটা দূর মনে হচ্ছে তোর?’’

“তুমি ওখানে কী করছ?’’

“হাওয়া খাচ্ছি,” বলেই ফোন কেটে দিলেন নিখিলেশ।

একটা পাটিসাপটা চামচে করে কেটে টুকরোটা মুখে দিতে যাবেন, অমনি মোবাইল বেজে উঠল। পাশের খালি চেয়ারে রাখা মোবাইলটার দিকে দেখলেন নিখিলেশ। রিপন ফোন করেছে। করুক গে, ধরে লাভ নেই এখন। রিংটোন এক সময় থেমে গেল। আপাতত আয়েস করে পাটিসাপটা খেতে হবে। মোবাইল আবার জেগে উঠল। রিপন ফোন করেছে আবার। বিরক্ত হয়ে মোবাইলটা ধরলেন নিখিলেশ, “হ্যালো।”

“গ্রান্ডফাদার, বেলতলার মাঠে পিঠেমেলা হচ্ছে। ঠিক বলেছি?’’

“হ্যাঁ, হচ্ছে।”

“বাবার মুখে বেলতলা শুনেই বুঝেছি। আজ পিঠেমেলা হবে বলে জানতাম। তুমি কী করছ ওখানে?’’

রাগত ভাবে নিখিলেশ বললেন, “পিঠে কোলে নিয়ে বসে আছি। এত প্রশ্ন কেন? এটা আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে কিন্তু।”

“খবরদার খাবে না ও সব। হজম হবে না।”

“ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল হচ্ছে?’’

“তা হোক। তুমি প্যাক করে নিয়ে এসো। ওখানে চুপিচুপি ক’টা সাঁটাবে কে দেখছে? বাবা আর আমি যাচ্ছি।”

বেলতলার মাঠে এসেছেন, এই সত্যিটা না বললেই চলত। নিখিলেশ পাটিসাপটা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন, ‘‘ভাই, বাকিগুলো একটু প্যাক করে দেবে? প্রত্যেকটা আরও তিন পিস করে দিয়ে দাও।’’

নিখিলেশ আরও কয়েকটা স্টল ঘুরে দেখেশুনে দশখানা বিভিন্ন রকমের পিঠে কিনলেন। কত রকম পিঠে, নামও শোনেননি কখনও, এক্সপেরিমেন্ট করা যেতেই পারে। ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব মিলিয়ে চব্বিশখানা পিঠে হল। নিজে তো খেতে পাবেন না, ওরা বরং হরেক রকম পিঠের স্বাদ নিক। এক দিক থেকে তিনি ভাগ্যবান। তাঁর বয়সি মানুষেরা অনেকেই সংসারে কত ভাবে যে অবহেলা আর উদাসীনতার শিকার! নেহাতই পাটিসাপটাটা এঁটো করে ফেলেছিলেন, খাবার ফেলে দেওয়া গর্হিত কাজ, তাই তিনি শুধু ওই একটিই খেয়েছিলেন। বিস্বাদ লাগছিল, গলা দিয়ে নামতে চাইছিল না, নিজেকে কেমন যেন অপরাধী মনে হচ্ছিল। দীপ্তেশ আর রিপন এসে পড়েছে। রিপন জানতে চাইল, “পেটমোটা পার্সেল দেখছি যে!’’

“তোদের জন্য কিনলাম।’’

দীপ্তেশ বাইক স্টার্ট করে জিজ্ঞেস করল, “ক’টা খেলে?’’

“মাত্র একটা।”

বলেই সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে যোগ করলেন, “আমি কিন্তু মিথ্যে বলি না।”

দীপ্তেশ মৃদু হেসে বলল, “জানি। তোমার ওই স্বভাব আমিও পেয়েছি। তাই উন্নতি হল না।”

“বেশি উন্নতিতে কাজ নেই। অনেক প্রতিষ্ঠিত ছেলের কীর্তি তো দেখছি। তার চেয়ে এমন সাদামাটা ছেলেই ভাল।”

রিপন ফোড়ন কাটে, “যতই পাম্প করো হে পিতামহ, পিঠের ভাগ তুমি পাবে না।’’

 

******

শ্রীলা পার্সেল খুলে কপট রাগে বলে, “করেছেন কী? এত কে খাবে?’’

“তোমরা।”

“রাতে আর কিছু রান্না করছি না। এগুলো খেতে হবে। আপনার জন্য তিনটে রুটি আর ছোলার ডাল করে দেব। চলবে তো?’’

নিখিলেশ ঘাড় নেড়ে বললেন, “ওতেই হবে।’’

রাতে অবশ্য রুটি-ডালের সঙ্গে একটা করে দুধপুলি আর পাটিসাপটা দিল শ্রীলা। অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তিযোগে মনে মনে বেশ খুশিই হলেন নিখিলেশ। ঘরের আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়বেন, এমন সময় দরজায় মৃদু টোকা দিল কেউ। নিখিলেশ দরজা খুলতেই রিপন ফিসফিস করে বলল, “লুকিয়ে নিয়ে এসেছি। এ দুটো ভ্যারাইটি বেশি মিষ্টি বলে মা তোমাকে দেয়নি। কথা না বলে সাঁটিয়ে দাও।”

“কিন্তু আমার সুগার বেড়ে যাবে যে!’’

“আমার ভাগের থেকে সরিয়ে রেখেছিলাম। আমরা না গেলে নিজে চুপিচুপি ক’টা খেতে পিঠেমেলায় আজ? কাল সকালে বেশি করে মেথিগুঁড়ো খেয়ে নেবে বরং। গুড নাইট,’’ রিপন নীচে নেমে গেল।

 

******

এ বছর পিঠেমেলা ছিল বিদ্যাসাগর হলের মাঠে। তিন জন এক সঙ্গে গিয়ে বিভিন্ন রকম পিঠে কিনে নিয়ে এসেছে আজ। টেবিলে নিখিলেশের ফোটোর সামনে একটি কাঁসার থালায় গুনে গুনে চব্বিশটি পিঠে রাখা হয়েছে।

শ্রীলা হাতজোড় করে বলল, “খেয়ে নিন বাবা। সব ক’টাই আপনার পছন্দের পিঠে। আমাদের ভালবাসার অন্ন গ্রহণ করুন।’’

দীপ্তেশ ফ্যাঁসফেঁসে স্বরে বলল, “আর সুগারের ভয় নেই। তুমি নিশ্চিন্তে খেতে পারো।”

রিপনের গলা বুজে আসছিল। নিখিলেশ সেই পিঠেমেলার পরে মাত্র চার মাস বেঁচেছিলেন। মাঝরাতে ঘুমের মধ্যে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়ে সব কিছুর ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছেন তিনি। রিপন দু’হাত জড়ো করে ফিসফিস করে হাসিমুখে বলল, “মাই ডিয়ার গ্র্যান্ডফাদার, দেখে জিভে জল আসছে না তোমার? দেরি না করে নেমে এসো উপর থেকে।’’

রিপনের হাসিটা কান্নার মতো হয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। স্তব্ধ ঘরে নিখিলেশের ফোটোর সামনে নীরবে তিন জনে বসে রইল কিছুক্ষণ...