• logo
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জুলাই জমজমাট

খুব আশ্চর্য, কিন্তু সত্যিও। খেলাধুলোর ইতিহাসে ‘জুলাই’ মাসটা নানান ঝকঝকে ঐতিহাসিক ঘটনায় একেবারে ঠাসা। প্যান্ডোরার বাক্স খুলতেই দেখা যাচ্ছে, কত অমূল্য সম্পদ লুকিয়ে। অশোক রায়

sports
  • logo

টেনিস

সবচেয়ে অভিজাত টুর্নামেন্ট উইম্বলডনের প্রথম আসর বসেছিল ১৮৭৭ সালের জুলাইয়ে। প্রথম চ্যাম্পিয়ন স্পেনসার গোর। টানা পাঁচ বার উইম্বলডন জেতার অবিশ্বাস্য নজির গড়েন বিয়র্ন বর্গ (’৭৬ থেকে ’৮০) এবং রজার ফেডেরার (২০০৩ থেকে ২০০৭)। এই বছরের জুলাইতে গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার ৩০৬টি ম্যাচ জেতার দীর্ঘ দিনের রেকর্ড ভাঙলেন ‘ফেড-এক্স’। আর স্টেফি গ্রাফের (ছবিতে) ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করেন সেরেনা উইলিয়ামস। মেয়েদের ‘শততম’ উইম্বলডনে ইংল্যান্ডের ভার্জিনিয়া ওয়েড-এর জয়ী হওয়ার ঘটনাও ১৯৭৭-এর জুলাইতেই। ডেভিস কাপে ভারত প্রথম খেলতে নামে ১৯২১ সালের ১৬ জুলাই, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। জেতে ৪-১ ব্যবধানে।

 

ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবলের শুরু ১৯৩০ এর ১৩ জুলাই। সে দিনই এই টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করার কীর্তি ফ্রান্সের লুই লঁরা-র। চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। বিশ্বকাপ ফাইনালে একমাত্র হ্যাটট্রিকের নজির ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট-এর (১৯৬৬)। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৬ গোল করার রেকর্ড গড়েন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজে, ২০১৪-র জুলাইতে। সে বারই জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে চূর্ণ হওয়ার কলঙ্ক লাগে ব্রাজিলের গায়ে। ফুটবল সম্রাট পেলের (ছবিতে) বর্ণময় আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনের শুরু আর শেষ এ মাসেই। আবার এই জুলাইতেই ইউরোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনির রেকর্ড ছুঁলেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (৯ গোল)।

ঘরোয়া ফুটবলে মোহনবাগান ১৯১১-র ২৯ জুলাই ইস্ট ইয়র্ককে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে শিল্ড জিতে ইতিহাস গড়ে। মোহনবাগান এবং মহামেডানের প্রথম লিগ খেতাবও এই মাসে। ’৯৭-এর ১৩ জুলাই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রেকর্ড ১,৩১,০০০ দর্শকের সামনে মোহনবাগানকে হারিয়ে ফেড কাপ ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বি ম্যাচের ইতিহাসে সেই প্রথম ও একমাত্র হ্যাটট্রিক ভাইচুং ভুটিয়ার। এই জুলাইতেই বেক তেরো সাসানা-কে হারিয়ে বিদেশের মাটিতে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে ‘আশিয়ান কাপ’ জেতে ইস্টবেঙ্গল।

 

অলিম্পিক

কম করে ১০ বার অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়েছে জুলাইতে। এমনকী ’৯৬ আটলান্টায় শতবর্ষের আসরও পাতা হয়েছিল জুলাইতেই। অলিম্পিকে ভারতকে সর্বপ্রথম পদক এনে দেন নর্মান প্রিচার্ড, ১৯০০ প্যারিস গেমসে, ১৬ জুলাই, ২০০ মিটার স্প্রিন্টে। পরে রুপো জেতেন ২০০ মিটার হার্ডলসেও। প্রথম মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে ওই অলিম্পিকেই পদক জেতেন ইংল্যান্ডের শার্লট কুপার (টেনিস)। জুলাই-জড়িত অলিম্পিকের বহু উজ্জ্বল নজিরের দু’একটা মনে রাখতেই হবে। ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে একাই ৫০০০, ১০০০ মিটারের সঙ্গে ম্যারাথনেও সোনা জেতেন এমিল জ্যাটোপেক, যে রেকর্ড কারও নেই। সেবার তাঁর স্ত্রী ডানা-ও সোনা জেতেন জ্যাভেলিন থ্রো ইভেন্টে। ’৭৬-এর জুলাইয়ে মন্ট্রিলে রোমানিয়ার নাদিয়া কোমেনেচি জিমন্যাস্টিক্সের ইতিহাসে প্রথম ‘পারফেক্ট-টেন’, ১০-এর মধ্যে ১০ পেয়ে চমকে দেন গোটা বিশ্বকে।

অ্যাথলেটিক্সে প্রচুর বিশ্বরেকর্ড হয়, আবার ভাঙেও। কিন্তু দীর্ঘ দিন টিকে থাকা যে কয়েকটি নজির চটজলদি মনে পড়ছে: ’৮৮-র ১৬ জুলাই মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার, ’৮৩-র ২৬ জুলাই ৮০০ মিটারে জামিলা ক্রাতোচভিলোভা, ’৮৮-র ৯ জুলাই ডিসকাস থ্রো-য়ে গ্যাব্রিয়েল রেনস এবং ’৯৩-তে হাইজাম্পে কিউবার জেভিয়ার সোতোমায়া-র ২.৪৫ মিটার লাফিয়ে যে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন জুলাইতে, আজও তা রয়েছে অন্যের ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুরুষ ও মহিলাদের পোল ভল্টের দু’টি মাইলস্টোনই অতিক্রান্ত হয় জুলাইতে। দুই রুশ তারকা সের্গেই বুবকা প্রথম ৬ মিটারের এবং ইয়েলানা ইসিনবায়েভা ৫ মিটারের বাধা ভাঙেন। সাঁতারে শত মিটার ফ্রি-স্টাইলে সর্বপ্রথম অলিম্পিকে ‘এক মিনিট’-এর বাধা ভাঙেন জনি ওয়াইজমুলার, যিনি পরবর্তী কালে ‘টারজান’-এর ভূমিকায় হলিউড মাতান।

 

 

ক্রিকেট

ক্রিকেটের ‘মক্কা’ লর্ডসে প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হয় ১৮৮৪-র ২১ জুলাই। ১৯৩৬ সালের ২৭ জুলাই বিদেশের মাটিতে ভারতের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান মুস্তাক আলি (ছবিতে), ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ১৯৫৬-র ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জিম লেকারের দু’ইনিংসে ১৯ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এবং টেস্টে শ্রীলঙ্কার মুথাইয়া মুরলিধরনের ব্যক্তিগত ৮০০ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ডটি গড়ে ওঠে এই মাসেই। পুরুষদের দু’বছর আগেই চালু হয় মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ’৭৩-এর জুলাইতে, চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ভারত প্রথম এক দিনের ম্যাচটি খেলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৭৪ সালের ১৩ জুলাই, লিডসে। লর্ডসের ব্যালকনিতে ‘ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি’-র ফাইনালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জামা ওড়ানোর দৃশ্যটি সারা দুনিয়া দেখেছিল ২০০২-এর ১৩ জুলাই। আশ্চর্য হলেও সত্যি, জুলাই মাসেই টেস্টে সর্বাধিক ৬২৪ রানের পার্টনারশিপ (বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং এক দিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক ৪৪৩ রানের (বনাম নেদারল্যান্ডস) জমজমাট দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কা। নয়-নয় করে টেস্টে অন্তত ৭টি ট্রিপল সেঞ্চুরি রয়েছে জুলাইয়ের ছায়ায়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন