Advertisement
E-Paper

ক্লিকেই ক্লাসনোট, দিশারী সুন্দরবনের কলেজ

পাঠক্রমের পুনর্বিন্যাসের পর ঠিক কী রয়েছে স্নাতকস্তরে সাম্মানিক ও সাধারণের পাঠ্যসূচিতে? চলতি শিক্ষাবর্ষে কলেজের ‘অ্যাকাডেমিক প্ল্যান’-ই বা কী? কোন মাসের কোন ক্লাসে পড়ানো হবে ‘ওল্ড কোয়ান্টাম থিয়োরি’ অথবা ‘ওড টু আ নাইটেঙ্গল’? প্রশ্নের নমুনাই বা কেমন? বিদ্যাপতির রেফারেন্সে কী যেন বলেছিলেন বাংলা স্যার?

আবীর মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:০৩

পাঠক্রমের পুনর্বিন্যাসের পর ঠিক কী রয়েছে স্নাতকস্তরে সাম্মানিক ও সাধারণের পাঠ্যসূচিতে? চলতি শিক্ষাবর্ষে কলেজের ‘অ্যাকাডেমিক প্ল্যান’-ই বা কী? কোন মাসের কোন ক্লাসে পড়ানো হবে ‘ওল্ড কোয়ান্টাম থিয়োরি’ অথবা ‘ওড টু আ নাইটেঙ্গল’? প্রশ্নের নমুনাই বা কেমন? বিদ্যাপতির রেফারেন্সে কী যেন বলেছিলেন বাংলা স্যার?

নতুন পাঠক্রম থেকে ক্লাস নোট, এ সবই এ বার মিলবে মাউসের এক ক্লিকে। নাকের মূল্যায়ন ও সুপারিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি এই অনলাইন রিপোজিটারি চালু করেছে সুন্দরবনের বঙ্কিম সর্দার কলেজ। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস উদ্বোধন করেন এই উদ্যোগটির। তিনিও মনে করেন, খুব দ্রুত রাজ্যের অন্য কলেজগুলিও এ বিষয়ে উদ্যোগী হবে।

সাধারণত, এ ধরনের অনলাইন রিপোজিটারি করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটগুলি। এই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাপত্র ও সেমিনার পেপার আপলোড করে থাকে রিপোজিটারিতে। বঙ্কিম সর্দার কলেজের ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) কো-অডিনের্টর তিলক চট্টোপাধ্যায় তাঁদের উদ্যোগের সুতোটা ধরিয়ে দিয়ে বলেন, “কলেজের বা কলেজ লাইব্রেরির ওয়েবসাইট রাজ্যে নতুন নয়। আমরা ভাবছিলাম, যদি প্রশ্নের নমুনা বা ক্লাস নোটও শেয়ার করা যায়। তাহলে ড্রপ আউটের পাশাপাশি টিউশনির প্রবণতাও কমবে। অন্য দিকে শিক্ষকরাও ছুটির সময় বাড়িতে বসে কাজ করতে পারবেন। যা অনায়াসে দেখে নিতে পারবেন ছাত্রছাত্রীরা। সেই ভাবনা থেকেই এর শুরু।”

কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও এই রিপোজিটারিতে ঢোকা যায়। চাইলে সরাসরি www.bscollegelibrary.org এই লিঙ্কে ক্লিক করে ঢুকতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা। প্রাথমিক ভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছেন, বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস নোট বা স্টাডি মেটেরিয়াল ও প্রশ্নপত্র আপলোড করবেন লাইব্রেরির কর্মীরা। পরে, কলেজের শিক্ষকেরা নিজেরাই সেই কাজ করতে পারবেন। অ্যাকাডেমিক রিপোর্ট, কোশ্চেন ব্যাঙ্ক আপলোড করার বিষয়ে কলেজ তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য আপলোডও হয়েছে সাইটে। ছাত্রছাত্রীরা সেগুলি দেখতে পারছেন, ডাউনলোডও করতে পারছেন।

নাকের সুপারিশ মেনে কলেজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বঙ্কিম সর্দার কলেজ শুধু এই উদ্যোগ নয়, কলেজ চত্বর ‘ওয়াই ফাই এনেবেলড’-ও করেছে। চালু করেছে এসএমএস গেটওয়ে সিস্টেম। যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কলেজে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীরা জানতে পারছেন ভর্তির তারিখ, রেজিস্ট্রেশনের দিনক্ষণ, পরীক্ষার বসার টাকা-সহ নানা তথ্য। কলেজের আইকিউএসি-র উদ্যোগে অনলাইন এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি ডেভেলপ করেছেন রাজীব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে শুধু এই কলেজ নয়, অন্য কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও সিলেবাস, স্টাডি মেটেরিয়াল থেকে প্রশ্নের নমুনা ডাউনলোড করতে পারবেন।”

তিলকবাবু জানান, তাঁর কলেজে ২৬০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অর্ধেকেরও কম কলেজে আসে নিয়মিত। ক্যানিং থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে ট্যাংরাখালি গ্রামের এই কলেজে সুন্দরবনের প্রান্ত এলাকা থেকে অনেকে পড়তে আসেন। কেউ কেউ আবার মাতলা নদী পেরিয়ে বন-সংলগ্ন ছোট মল্লারখালি, কুমিরমারি, সুখ দোয়ানির মতো সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পড়তে আসেন এই মফস্সল কলেজে, উপকৃত তাঁরাও। কুলতলি থেকে আসা কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সালমা সিদ্দিকা বলেন, “ক্লাস নোট এবং প্রশ্নের জন্য আর হাপিত্যেস করতে হয় না। নিজে না করলেও, অনেক বন্ধুকে জানি যাঁরা টিউশনি না নিয়ে বাড়িতে বসেও রিপোজিটারি থেকে পড়াশেনা করছে।” শুধু বঙ্কিম সর্দার কলেজ নয়, রাজ্যের অন্য কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও ইতিমধ্যেই রিপোজিটারিতে সাহায্য নিচ্ছেন। তেমনই এক জন যোগমায়া দেবী কলেজের ভূ-তত্ত্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শৌলী ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “স্টাডি মেটিরিয়াল তো বটেই, প্রচুর নমুনা প্রশ্ন পেয়েছি রিপোজিটারিতে। সেগুলো সলভ করে খুব উপকার হয়েছে।”

এমন উদ্যোগের কথা শুনে কী ভাবছে অন্য কলেজ? সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক নবগোপাল রায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তো কবেই বলেছিল। কিন্তু কোনও কলেজকেই সেভাবে উদ্যোগী হতে দেখিনি।” তিনি বলেন, “খুব ভাল লাগছে বঙ্কিম সর্দার কলেজের রিপোজিটারির কথা শুনে। শুধু ওই কলেজ নয়, গোটা রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের কাছে নব দিগন্ত খুলে দিল ওই কলেজ।” বঙ্কিম সর্দার তাদের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই জড়িয়ে নিতে আগ্রহী অন্য কলেজকেও। সাড়া দিয়ে মউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বেহালা কলেজ। ঠিক হয়েছে, দু’টি কলেজ একসঙ্গে ভাগাভাগি করে কনটেন্ট আপলোড করবে রিপোজিটারিতে।

college abir mukhopadhyai
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy