Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

Student: পিছোতে চায় না দয়াল, মেলার স্টলেই পড়াশোনা ডোকরা শিল্পীর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেলের

প্রদীপ মুখোপাধ্যায়
আউশগ্রাম ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৫:৩৬
স্টলে পড়া দয়ালের।

স্টলে পড়া দয়ালের।
নিজস্ব চিত্র।

শীঘ্রই স্কুলে জমা করতে হবে পরীক্ষার উত্তরপত্র (ফাইনাল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক)। এরই মধ্যে পাড়ায় শুরু হয়েছে ‘ডোকরা মেলা’। বাবা-দাদারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় স্টলে বসেছিল ডোকরা শিল্পীর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেলে। সেখানে বেচাকেনার ফাঁকে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দেখে তাজ্জব পর্যটকদের অনেকে।

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের দ্বারিয়াপুরে ডোকরা শিল্পীদের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে শুক্রবার শুরু হয় প্রদর্শনী। তিন দিন ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পসরা নিয়ে বসছিল স্থানীয় সুশীলা যজ্ঞেশ্বর পাবলিক হাইস্কুলের ছাত্র দয়াল কর্মকার। রবিবার সে বলে, ‘‘কখন পর্যটকেরা আসেন, ঠিক নেই। তাই সারা ক্ষণ থাকছি। এ দিকে, স্কুলে দেওয়া প্রশ্নপত্রের উত্তর মঙ্গলবার জমা করতেই হবে। তাই কাজ এগিয়ে রাখছিলাম।”

ডোকরা শিল্পীদের সন্তানেরা সাধারণত পৈতৃক পেশাতেই যুক্ত হন। দয়ালেরা চার ভাই, এক বোন। দয়ালের তিন দাদা বেশি দূর পড়েননি। ডোকরা শিল্পের সঙ্গে অন্য কাজেও তাঁরা যুক্ত। দয়ালও দাদাদের কাছে ডোকরার কাজ শিখছে। তবু তার ইচ্ছা, পড়াশোনা করে চাকরি করবে। ডোকরাপাড়ার পিছনে ত্রিপলের ছাউনির ঝুপড়িতে তাদের বাস। তার বাবা পিরু কর্মকারের কথায়, ‘‘বৃষ্টি হলেই জল পড়ে।’’ পড়াশোনায় দয়ালের আগ্রহ দেখে কষ্টের মধ্যেও তাকে একটি টিউশন দিয়েছেন বলে জানান মা কল্যাণী কর্মকার। তিনি বলেন, “শিল্পী কার্ড, রেশন কার্ড কিছুই নেই। এতগুলো পেট টানতে হয়। কত দিন ছেলেকে পড়াতে পারব জানি না।’’

Advertisement

দয়াল বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় খুবই অসুবিধা। বাড়িতে স্মার্ট ফোন নেই। অনলাইনে ক্লাস করতে পারি না। তাই স্কুলের কাজ ফেলে রাখি না। না হলে পিছিয়ে পড়ব।’’ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়দীপ দাসও স্বীকার করেন, “দয়ালের মতো অনেকেই পড়াশোনায় ভাল হলেও, স্মার্ট ফোন না থাকায় অনলাইনে ওদের পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।’’

এ দিন কলকাতা থেকে আসা দেবাশিস অধিকারী, অগ্নিদীপ্তা গুহ, চার্লি মণ্ডলেরা দয়ালকে স্টলে পড়তে দেখে বলেন, ‘‘এরা সুযোগ পেলে অনেক বড় হতে পারে।” যদিও ডোকরা শিল্পী শুভ কর্মকারের আক্ষেপ, ‘‘ডোকরাপাড়ার কিছু ছেলেমেয়ে সম্প্রতি স্কুল যাচ্ছে। কিন্তু দারিদ্রের কারণে তারাও কত দূর পড়তে পারবে, সন্দেহ আছে।”

আরও পড়ুন

Advertisement