Advertisement
E-Paper

আসন যত, প্রার্থী বেশি তৃণমূলের

জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রায় অর্ধেক আসনে ভোটের আগেই জয় পেয়েছে তৃণমূল। কারণ ওই সব আসনে কোনও প্রার্থী নেই বিরোধীদের। তার পরেও গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন যা, তার চেয়ে বেশি মনোনয়ন জমা পড়েছে শাসকদলের হয়েই!

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ১৩:৪৪

জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রায় অর্ধেক আসনে ভোটের আগেই জয় পেয়েছে তৃণমূল। কারণ ওই সব আসনে কোনও প্রার্থী নেই বিরোধীদের। তার পরেও গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন যা, তার চেয়ে বেশি মনোনয়ন জমা পড়েছে শাসকদলের হয়েই!

পূর্ব বর্ধমানে গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসনসংখ্যা ৩২৩৪টি। পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬১৮টি আসন রয়েছে। ওই দুই স্তরে শুধু তৃণমূলের হয়েই মনোনয়ন জমা পড়েছে যথাক্রমে ৪০০৩টি ও ৭৬৫টি। জেলার নিচুতলায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কতটা প্রকট, তা এই পরিসংখ্যান থেকে প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে ঘরোয়া আলোচনায় মানছেন তৃণমূলের জেলা নেতাদের একাংশই। অথচ দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কোন্দল এড়ানোর জন্য পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বারবার জেলায় এসে বৈঠক করেছেন। দলের প্রতীক বণ্টন এড়ানোর জন্য প্রতিটি ব্লকে পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করেছেন। তার পরেও দলের নাম করে অতিরিক্ত মনোনয়ন (গোঁজ প্রার্থী) জমা পড়েছে। অর্ধেক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পরেও এখন কী ভাবে অতিরিক্ত মনোনয়ন তোলা হবে, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন দলের জেলা নেতারা।

জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার কথায়, “প্রশাসনের মনোনয়ন রিপোর্ট দেখলে মনে হবে, মোট আসনের নিরিখে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৬৯টি আসনে এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৫৭টি আসনে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী রয়েছে। এই স্কোরবোর্ড কিন্তু আসলে ভুল, তা আমরাই বুঝতে পারছি। কারণ, কাটোয়া মহকুমা-সহ জেলার অন্তত দেড় হাজার গ্রাম পঞ্চায়েত আসন এবং পঞ্চায়েত সমিতির ২৫০টি আসনে ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমরা জিতে বসে আছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বাকি যা আসন থাকল, সেই হিসেবে গোঁজ প্রার্থী কত পড়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।”

প্রশাসনিক রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে, জেলার আউশগ্রাম ১ ও ২, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম ১ ও ২, কাটোয়া ১ ও ২, কালনা ২, খণ্ডঘোষ এবং রায়না ১ ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে নির্দিষ্ট আসন সংখ্যার নিরিখেই শাসকদলের মনোনয়ন জমা পড়েছে। কিন্তু, মেমারি ১ ও ২, ভাতার, বর্ধমান ১, গলসি ১ ও ২ ব্লকে নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে অনেক বেশি মনোনয়ন জমা দিয়েছে তৃণমূল। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শাসকদলের হয়ে বর্ধমান ১ ব্লকের ১৬২টি আসনে হয়ে ২৩০ জন, ভাতারে ২০১টি আসনে ৩২০ জন, মেমারি ১ ব্লকে ১৭১টি আসনে ২৩০ জন মনোনয়ন দিয়েছেন। মেমারি ২ ব্লকে ১১৫টি আসনের জায়গায় ১৮৮টি, গলসি ১ ব্লকে ১৪১টি আসনে ২০৪ জন ও গলসি ২ ব্লকে ১১৬ টি আসনে ১৯৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছে। এই সব অতিরিক্ত মনোনয়ন শাসকদলের।

প্রশাসন সূত্রের খবর, একই ছবি পঞ্চায়েত সমিতিতে। ভাতারে ৩৮টি আসনে ৬৩ জন, গলসি ১ ব্লকে ২৭টি আসনে ৪০ জন, গলসি ২ ব্লকে ২৭টি আসনে ৪১ জন, মেমারি ১ ব্লকে ৩০টি আসনে ৫৭ জন, মেমারি ২ ব্লকে ২৪টি আসনে ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দিয়েছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, ভাতার ও মেমারি যে দলের ‘মাথাব্যথা’, সম্প্রতি আউশগ্রামের শিবদায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েক বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছিল। ওই সভায় মেমারির পুরপ্রধান তথা দলের পর্যবেক্ষক স্বপন বিষয়ীকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আবুল সাহেবকে ডেকে নিয়ে কাজ করো? উনি খুব সিনিয়র লোক।” আর ভাতার নিয়ে বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরাকে নিয়ে কাজ করার।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও মেমারি বা ভাতারে এত গোঁজ প্রার্থী?

তৃণমূলের অন্দরের খবর, মেমারি ১ ব্লকে প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামীদের সঙ্গে দলের ব্লক সভাপতির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়াও দলের এক যুব নেতা এবং পুরসভার নেতার অনুগামীরাও টিকিট পাওয়ার আশায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তেমনই মেমারি ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতির অনুগামীরা মনোনয়ন জমা করেছেন। ভাতারে বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়ক এক হয়ে কাজ করলেও পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী এক কর্মাধ্যক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে। দলের পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস সব পক্ষকে ডেকে নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি স্বপন দেবনাথ বলেন, “দলের প্রতীক যাঁরা পাবেন, তাঁরাই আমাদের প্রার্থী। তার বাইরে দলের নাম করে কেউ প্রার্থী হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

West Bengal Panchayat Elections 2018 TMC BJP Nominations
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy