Advertisement
২৮ মে ২০২৪

ভাতা অমিল থেকে জল-সঙ্কট, শুনলেন কর্তারা

জলের সঙ্কটে মিড-ডে মিল রান্না করা যায় না। দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা হলেও মেলেনি রেশন কার্ড। ছ’মাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে না বার্ধক্য ভাতা। জামুড়িয়ার গ্রামে রাত কাটিয়ে এমনই নানা অভিযোগ শুনলেন প্রশাসনের কর্তারা।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী
জামুড়িয়া শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৫ ০০:৪২
Share: Save:

জলের সঙ্কটে মিড-ডে মিল রান্না করা যায় না। দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা হলেও মেলেনি রেশন কার্ড। ছ’মাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে না বার্ধক্য ভাতা।

জামুড়িয়ার গ্রামে রাত কাটিয়ে এমনই নানা অভিযোগ শুনলেন প্রশাসনের কর্তারা। শনিবার ডোবরানা পঞ্চায়েতের অর্জুন ধাওড়া আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ শোনার ওই বৈঠকে ছিলেন জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) হৃষীকেশ মোদী, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং মহকুম ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। সন্ধ্যা সওয়া ৮টা নাগাদ ওই স্কুলে পৌঁছন তাঁরা। সভা শুরুর আগে দেবুবাবু, পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলাশাসক আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে ধামসা-মাদলের তালে বেশ কিছুক্ষণ নাচেন।

বৈঠক শুরু হতেই নানা সমস্যার কথা জানাতে শুরু করেন এলাকার মানুষজন। সালিম ওরাং নামে এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এই এলাকায় কখনও একশো দিনের কাজ হয়নি। এর কারণ জানতে চান তিনি। আসানসোলের মহকুমাশাসক অমিতাভ দাস তাঁকে জানান, ইসিএলের অধীনস্থ খনি এলাকায় একশো দিনের কাজ ওই সংস্থার অনুমতি ছাড়া করানো যায় না। অনুমতি নিয়ে প্রকল্প শুরুর আশ্বাস দেন তিনি। মল্লিকা কুমারী নামে এক জন অভিযোগ করেন, তফসিলি জাতির শংসাপত্র কী ভাবে পাওয়া যাবে, তা জানতে বার পাঁচেক ব্লক অফিসে গেলেও সাহায্য করা হয়নি। কেউ কথাই শুনতে চাননি। এই অভিযোগ শুনেই বিডিও বুদ্ধদেব পান তড়িঘড়ি জানান, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। ১৫ জুলাইয়ের পরে এই স্কুলে বিশেষ শিবির করে সরাসরি শংসাপত্র দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রামের আদিবাসী ছেলেমেয়েরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কিন্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম কেনার ক্ষমতা তাঁদের নেই। নিজস্ব মাঠও নেই। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে খেলতে যেতে হয়। মোমিতা হেমব্রমের মুখে এ কথা শুনে বিডিও জানান, যুবকল্যাণ দফতর এই এলাকায় স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করেছে। সরকার দশ লক্ষ টাকা অনুদান দেবে। খেলার সরঞ্জামও দেওয়া হবে। এলাকার সত্তর জনকে ট্র্যাকশ্যুট দেওয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ কমিশনার।

অনিতা নুনিয়া নামে এক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, তাঁদের পরিবার রেশন কার্ড পায়নি। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী লক্ষ্মী বাসকি জলের অভাবে মিড-ডে মিল রান্নায় অসুবিধা, জ্বালানি-সহ নানা খরচ নিয়মিত না পাওয়ার অভিযোগ করেন। প্রশাসনের কর্তারা এ সব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। মালা বাসকি নামে এক বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, তিনি বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না ছ’মাস ধরে। তা শুনে জেলা সভাধিপতি ডোবরান পঞ্চায়েতের প্রধান ছন্দা পাত্রকে নির্দেশ দেন, ওই বৃদ্ধাকে যেন আর পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে এ নিয়ে তদ্বির করতে না হয়। তাঁর বাড়ি গিয়ে সমস্যা মেটাতে হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।

এ ছাড়াও সভায় সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া, অলচিকিতে স্কুল চালুর দাবি ওঠে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া সব ক্ষেত্রেই। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত প্রশ্নোত্তর চলে। তার পরে ওই স্কুলেই রাত কাটান প্রশাসনের কর্তারা। বাসিন্দারা জানান, আধিকারিকদের সরাসরি সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পেয়ে তাঁরা খুশি। সেগুলির সুরাহা হবে বলেও আশায় তাঁরা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE