Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

তফসিলি–প্রকল্পের পিছনে ‘ভোট’ দেখছেন অনেকেই

তফসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের ষাটোর্ধ্ব মানুষের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করবে রাজ্য সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:১৯
Save
Something isn't right! Please refresh.
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

Popup Close

তফসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের জন্য রাজ্য বাজেটের একগুচ্ছ ঘোষণা একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেই। তাঁদের ধারণা, লোকসভা নির্বাচনে হাতছাড়া এই অংশের ভোট সংহত করে টেনে আনতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যে এবারের বাজেটে ঘোষিত দুটি পেনশন প্রকল্পে এই অংশের মানুষকে সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় আনতে চেয়েছে রাজ্য সরকার। এরই পাশাপাশি রাজ্য বাজেটকে সামনে রেখে বঞ্চনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তফসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের ষাটোর্ধ্ব মানুষের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করবে রাজ্য সরকার। দুটি আলাদা নামের এই প্রকল্পে দুই অংশের এই মানুষ ১০০০ টাকা করে মাসিক পেনশন পেতে পারেন। তফসিলি জাতির জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটির নাম ‘বন্ধু।’ আর জনজাতি অংশের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের নাম ‘জয় জহার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকেরাও। বাজেট বক্তৃতার পরে সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রকল্প সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘তফসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের এই পেনশন প্রকল্পের জন্য আয়ের উর্ধ্বসীমা থাকছে না।’’

গত লোকসভা ভোটে রাজ্যের তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ৬৮ টি আসনের ৩৩ টিতে এবং জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ১৬ টি আসনের ১৩ টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই অংশের ভোট ফেরাতে সরকারের এই প্রকল্প কাজে আসবে বলে মনে করছেন শাসকদলের শীর্ষনেতারা। লোকসভা ভোটের ফল পর্যালোচনায় তফসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের জন্য সংরক্ষিত আসন সম্পর্কে তৃণমূলকে সতর্ক করেছিলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এই পেনশন চালুর সিদ্ধান্তও নিল রাজ্য সরকার। তপসিলি জাতি ও জনজাতি অংশের জন্য এদিন আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: রাজ্যপালের জন্য বন্ধ ক্যামেরা চালু বাজেটে

কেন্দ্রীয় বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় বিলগ্নিকরণের উদ্যোগকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা বিক্রি না করেই আমরা বিভিন্ন অংশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। মানুষই বলবেন, কোন বাজেটটা ভাল।’’ রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আইসিডিএস-এর ৯০ শতাংশ টাকা আগে কেন্দ্র দিত। রাজ্য দিত ১০ শতাংশ। রাজ্য থেকে যে কর নিয়েই তা-ই দিত। এখন তো তা ৬০-৪০ করে দিয়েছে। প্রত্যেকটা প্রকল্পে এইরকম করেছে। সর্বশিক্ষার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমাকে তো চালাতে হচ্ছে।’’ এদিনও ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর পরে কেন্দ্রের থেকে কোনও সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘উন্নয়ন ও অর্থবন্টনে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়।’’

তফসিলিদের জাতি ও জনজাতি অংশের জন্য পেনশন প্রকল্পে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন শাসকদলের বিধায়কেরা। তবে সরকারের এই প্রকল্পকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ বিরোধীরা। সিপিএমের ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক তথা প্রাক্তন সাংসদ পুলিনবিহারী বাস্কে বলেন, ‘‘এই পেনশন প্রকল্প বাম আমলেই চালু করা হয়েছিল। নতুন কিছু নয়।’’ রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই বরাদ্দ তৃণমূলের কোনও কাজে আসবে না। সামাজিকভাবে এই অংশের মানুষের উপর শাসকদল যে নীপিড়ন চালাচ্ছে তাতে এই ভোট আরও সরে যাবে।’’



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement